পায়ে ছবি আঁকে মোনায়েম
jugantor
জেলায় সেরা সাফল্য
পায়ে ছবি আঁকে মোনায়েম

  দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি  

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই হাত ছাড়া জন্মগ্রহণ করলেও শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা আবদুল্লাহ আল মোনায়েমকে আটকাতে পারেনি। মোনায়েম ফেনীর দাগনভূঞা একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সে তার ইচ্ছাশক্তি দিয়ে ক্লাসের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অর্জন করেছে একের পর এক পুরস্কার।

জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মোনায়েম। জন্মের পর দুই হাত না থাকায় প্রথমে মোনায়েমের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মন খারাপ হয়। বাড়তি পরিশ্রম করে আদর-স্নেহ দিয়ে তাগে বড় করে তুলেন মা বিবি কুলসুম। ৬ বছর বয়সে ভর্তি করান স্কুলে। এরপর থেকেই মোনায়েম ভালো ফলাফল করতে থাকে। পা দিয়ে প্রতিদিনের পড়া খাতায় নোট করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মোনায়েম বড়। অন্য সবার মতো তার সহপাঠী, শিক্ষিকারা তাকে আদর করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সে। চিত্রাংকনে আগ্রহ দেখে তার মা তাকে উজ্জীবক আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। জেলা ও উপজেলায় সেরা পুরস্কার লাভ করে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে সে।

শিশু মোনায়েম জানায়, এমন সাফল্যে খুশি তার পরিবার। বড় হয়ে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। মোনায়েমের মা বিবি কুলসুম জানান, সে ৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় জেলায় দ্বিতীয় হয়েছে, মাতৃভাষা দিবস ও বিজয় দিবসে উপজেলায় দ্বিতীয় হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত পুষ্টি সপ্তাহে জেলায় দ্বিতীয় হয়। তার সফলতায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে।

উজ্জীবক আর্ট স্কুলের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিশু মোনায়েমকে পা দিয়ে চিত্রাংকনের প্রশিক্ষণ প্রদান করি। তার ইচ্ছাশক্তি তাকে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে আমি আশা করি।

একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ায় শিক্ষকরা তাকে সবসময় সহযোগিতা করেন।

দাগনভূঞা ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে উচ্চতর পড়া শেষ করে কর্মক্ষেত্রে সফল হবে- এমন প্রত্যাশা করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মোনায়েম।

জেলায় সেরা সাফল্য

পায়ে ছবি আঁকে মোনায়েম

 দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি 
২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

দুই হাত ছাড়া জন্মগ্রহণ করলেও শারীরিক এই প্রতিবন্ধকতা আবদুল্লাহ আল মোনায়েমকে আটকাতে পারেনি। মোনায়েম ফেনীর দাগনভূঞা একাডেমির তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। সে তার ইচ্ছাশক্তি দিয়ে ক্লাসের মেধাতালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অর্জন করেছে একের পর এক পুরস্কার।

জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে মোনায়েম। জন্মের পর দুই হাত না থাকায় প্রথমে মোনায়েমের মা-বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মন খারাপ হয়। বাড়তি পরিশ্রম করে আদর-স্নেহ দিয়ে তাগে বড় করে তুলেন মা বিবি কুলসুম। ৬ বছর বয়সে ভর্তি করান স্কুলে। এরপর থেকেই মোনায়েম ভালো ফলাফল করতে থাকে। পা দিয়ে প্রতিদিনের পড়া খাতায় নোট করে। দুই ভাইয়ের মধ্যে মোনায়েম বড়। অন্য সবার মতো তার সহপাঠী, শিক্ষিকারা তাকে আদর করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সে। চিত্রাংকনে আগ্রহ দেখে তার মা তাকে উজ্জীবক আর্ট স্কুলে ভর্তি করান। জেলা ও উপজেলায় সেরা পুরস্কার লাভ করে জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য নির্বাচিত হয়েছে সে।

শিশু মোনায়েম জানায়, এমন সাফল্যে খুশি তার পরিবার। বড় হয়ে সে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। মোনায়েমের মা বিবি কুলসুম জানান, সে ৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় জেলায় দ্বিতীয় হয়েছে, মাতৃভাষা দিবস ও বিজয় দিবসে উপজেলায় দ্বিতীয় হয়েছে, স্বাস্থ্য বিভাগ আয়োজিত পুষ্টি সপ্তাহে জেলায় দ্বিতীয় হয়। তার সফলতায় সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে।

উজ্জীবক আর্ট স্কুলের পরিচালক গিয়াস উদ্দিন বলেন, শিশু মোনায়েমকে পা দিয়ে চিত্রাংকনের প্রশিক্ষণ প্রদান করি। তার ইচ্ছাশক্তি তাকে আরও অনেক দূর নিয়ে যাবে আমি আশা করি।

একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়ায় শিক্ষকরা তাকে সবসময় সহযোগিতা করেন।

দাগনভূঞা ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে উচ্চতর পড়া শেষ করে কর্মক্ষেত্রে সফল হবে- এমন প্রত্যাশা করেন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মোনায়েম।