সখীপুরে ইউপি সদস্যের কাণ্ড

জীবিত ৩ জনকে মৃত দেখিয়ে অন্যদের বয়স্ক ভাতার কার্ড

  সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টাঙ্গাইলের সখীপুরে তিনজন জীবিত লোককে মৃত ঘোষণা করে তাদের স্থলে একই গ্রামের অন্য তিনজনের নামে নতুন করে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদহ এলাকায়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। যাদের মৃত দেখানো হয়েছে তারা হলেন- চাকদহ গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকার, খুশি মোহন ও আরজু মিয়া। এছাড়া ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাশেম মিয়া চাকদহ গ্রামের উপজাতির নাম ভাঙিয়ে ভাতা তুলে নিজেই আত্মসাৎ করে আসছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড চাকদহ গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র সরকার, খুশি মোহন ও আরজু মিয়া প্রায় ৫-৬ বছর ধরে নিয়মিত বয়স্ক ভাতা পেয়ে আসছেন। প্রায় এক বছর আগে তাদের বয়স্ক ভাতা বন্ধ হলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে জানতে পারেন তাদেরকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের স্থলে নতুন করে ওই এলাকার মৃত রাজ্জাক মল্লিকের ছেলে মো. রবি মল্লিক, মৃত নূর মল্লিকের ছেলে মো. এরশাদ মল্লিক ও মৃত মাজম শিকদারের ছেলে রহমান শিকদারকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। এ কার্ডগুলো কে বা কারা করেছে এ নিয়ে ইউপি সদস্য ও ইউপি সচিব একে অপরকে দোষারোপ করছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হতেয় গ্রামের আবেদ আলীর মৃত্যুতে তার স্থলে ১ নম্বর ওয়ার্ডের চাকদহ গ্রামের আ. জলিল মিয়াকে বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাশেমের নামে সমালোচনা চলছে। এছাড়া ওই এলাকায় কোনো উপজাতি না থাকলেও ২১ জন উপজাতির নামে ভাতা তুলে মো. হাশেম মিয়া নিজেই সেই টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন এবং নতুন করে ৪২ জনকে অনগ্রসর ও উপজাতি হিসেবে তাদের ভাতার কার্ড করে দেবেন বলে বেশ কিছু লোকের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা নিয়েছেন ওই মেম্বার। টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে প্রায় ১৫ জন সাধারণ লোকের কাছ থেকে ৮ হাজার করে নিয়েছেন বলে ইউপি সদস্য মো. হাশেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ ঘটনা টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের পক্ষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত করছেন। এদিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মোশারফ হোসেনকে বদলির আদেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে তাকে তিনবার বদলির আদেশ দেয়া হল বলে জানা যায়। তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে প্রত্যেকবারই বদলির আদেশ স্থগিত করেন বলে কয়েকজন ইউপি সদস্য জানান। দু’বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো. হাশেম মিয়া বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ ঘটনায় চক্রান্ত করে আমাকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনছুর আলী বলেন, ওই ইউনিয়নে ছয়জন ব্যক্তি বয়স বাড়িয়ে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে বয়স্ক ভাতা ভোগ করে আসছিল। ২০১৮ সালের ২১ আগস্ট ওই ছয়জনকে বাতিল করে নতুন করে অন্য ছয়জনকে তাদের স্থলে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×