বাড়িতে এসে হুমকির পরদিন পুকুরে মিলল ছাত্রীর লাশ
jugantor
বাড়িতে এসে হুমকির পরদিন পুকুরে মিলল ছাত্রীর লাশ
আটোয়ারীতে দুই কিশোর গ্রেফতার

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সদরের ছোটদাপ এলাকায় সাদিয়া সামাদ লিসা (১৪) নামে এক কিশোরীকে বাড়িতে এসে হুমকি দেয়ার পরদিন সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লিসার বাবা বাদী হয়ে ৩ কিশোরকে আসামি করে আটোয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন। তিন আসামীর মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করে আটোয়ারী থানা পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি ছোটদাপ এলাকার স্কুল শিক্ষক আকতারুজ্জামানের ছেলে সাদ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, লিসা হত্যার আগের দিন বাসায় এসে হুমকি দেয় লিসার সাবেক সহপাঠী সাদ (১৪)। এরপরই লিসার লাশ পানিতে পাওয়া যায়। আর এ হত্যাকাণ্ডে তাকে সহায়তা করে আটোয়ারী উপজেলা সদরের ছোটদাপ এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে আকাশ (১৫) ও মজিবর রহমানের ছেলে মেহেদি হাসান মুন্না (১৫)। তারা দুজন বন্ধু এবং দুজনই নবম শ্রেণিতে পড়ে। এদিকে সহপাঠী হত্যার ঘটনায় লিসার স্কুলসহ আটোয়ারীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে। লিসার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, আটোয়ারী উপজেলা সদরের ছোটদাপ এলাকার আবদুস সামাদের ছোট মেয়ে সাদিয়া সামাদ লিসা (১৪)। সম্প্রতি লিসা আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আকাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এতে লিসার সাবেক সহপাঠী সাদ ক্ষুব্ধ হয়। সে-ও লিসাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। এ নিয়ে সাদ ও আকাশের মধ্যে মারামারিও হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে সাদ বাড়ি গিয়ে লিসা ও তার মাকে হুমকি দিয়ে আসে ‘আজ কিছু একটা ঘটনা ঘটবে’ বলে। সন্ধ্যায় লিসাকে বাড়িতে রেখে মা খায়রুননাহার পাশের বাড়ি যান। বাবা আবদুস সামাদও বাইরে ছিলেন। তারা বাড়ি ফিরে দেখেন লিসা নেই। প্রথমে তারা আকাশের বাড়িতে যান। সেখানে লিসার খোঁজ না পেয়ে আকাশকে সঙ্গে নিয়ে সাদের বাড়িতে যান। তারপর দু’জনকেই সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের বাড়িতে এনে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সঙ্গে আকাশের বন্ধু মুন্নাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। কিন্তু কোনো তথ্য মেলেনি। ভোরে প্রতিবেশী লিসার বাড়ির পাশের এক পুকুরে তার লাশ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। এ খবর শোনার পরপরই পালিয়ে যায় সাদ। সকালে স্থানীয়রা বাকি দুই কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় লিসার বাবা ওই তিন কিশোরকে আসামি করে আটোয়ারী থানায় একটি মামলা করেন। লিসার পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

বাড়িতে এসে হুমকির পরদিন পুকুরে মিলল ছাত্রীর লাশ

আটোয়ারীতে দুই কিশোর গ্রেফতার
 পঞ্চগড় প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা সদরের ছোটদাপ এলাকায় সাদিয়া সামাদ লিসা (১৪) নামে এক কিশোরীকে বাড়িতে এসে হুমকি দেয়ার পরদিন সকালে বাড়ির পাশের পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় লিসার বাবা বাদী হয়ে ৩ কিশোরকে আসামি করে আটোয়ারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন। তিন আসামীর মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ওই কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করে আটোয়ারী থানা পুলিশ। তবে মামলার প্রধান আসামি ছোটদাপ এলাকার স্কুল শিক্ষক আকতারুজ্জামানের ছেলে সাদ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, লিসা হত্যার আগের দিন বাসায় এসে হুমকি দেয় লিসার সাবেক সহপাঠী সাদ (১৪)। এরপরই লিসার লাশ পানিতে পাওয়া যায়। আর এ হত্যাকাণ্ডে তাকে সহায়তা করে আটোয়ারী উপজেলা সদরের ছোটদাপ এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে আকাশ (১৫) ও মজিবর রহমানের ছেলে মেহেদি হাসান মুন্না (১৫)। তারা দুজন বন্ধু এবং দুজনই নবম শ্রেণিতে পড়ে। এদিকে সহপাঠী হত্যার ঘটনায় লিসার স্কুলসহ আটোয়ারীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিচার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে। লিসার পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

মামলার অভিযোগে জানা যায়, আটোয়ারী উপজেলা সদরের ছোটদাপ এলাকার আবদুস সামাদের ছোট মেয়ে সাদিয়া সামাদ লিসা (১৪)। সম্প্রতি লিসা আটোয়ারী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আকাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এতে লিসার সাবেক সহপাঠী সাদ ক্ষুব্ধ হয়। সে-ও লিসাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। এ নিয়ে সাদ ও আকাশের মধ্যে মারামারিও হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে সাদ বাড়ি গিয়ে লিসা ও তার মাকে হুমকি দিয়ে আসে ‘আজ কিছু একটা ঘটনা ঘটবে’ বলে। সন্ধ্যায় লিসাকে বাড়িতে রেখে মা খায়রুননাহার পাশের বাড়ি যান। বাবা আবদুস সামাদও বাইরে ছিলেন। তারা বাড়ি ফিরে দেখেন লিসা নেই। প্রথমে তারা আকাশের বাড়িতে যান। সেখানে লিসার খোঁজ না পেয়ে আকাশকে সঙ্গে নিয়ে সাদের বাড়িতে যান। তারপর দু’জনকেই সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের বাড়িতে এনে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সঙ্গে আকাশের বন্ধু মুন্নাকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়। কিন্তু কোনো তথ্য মেলেনি। ভোরে প্রতিবেশী লিসার বাড়ির পাশের এক পুকুরে তার লাশ ভেসে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। এ খবর শোনার পরপরই পালিয়ে যায় সাদ। সকালে স্থানীয়রা বাকি দুই কিশোরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ ঘটনায় লিসার বাবা ওই তিন কিশোরকে আসামি করে আটোয়ারী থানায় একটি মামলা করেন। লিসার পরিবার এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।