মোহনীয় গ্রাম ‘অন্তেহরি’

  আজিজুল ইসলাম, কুলাউড়া ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রামজুড়ে হিজল করচের বাগান। স্বচ্ছ পানি আর সূর্যের আলোর জলকেলির সঙ্গে মৃদু বাতাস দোল খায়। নিরেট জলের বুকে সবুজ ভাসমান সেই গ্রামটির নাম ‘অন্তেহরি’। মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের এই গ্রামটিতে এখন দূরদূরান্ত থেকে সৌন্দর্যপিপাসুরা আসেন বেড়াতে। কেউ বলেন পানির সঙ্গে লড়াই করে আবার কেউ বলেন পানির সঙ্গে মিতালী করে ‘অন্তেহরি’ গ্রামের মানুষের বসবাস।

মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে অন্তেহরি গ্রামের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। রাজনগরের সবচেয়ে বড় জলাভূমি কাউয়াদীঘি হাওরকে কেন্দ্র করে অন্তেহরি গ্রামের লোকবসতি গড়ে ওঠার ইতিহাস কতদিনের তা বলা মুশকিল। তবে প্রায় শত বছর আগে বটেই। গ্রামের জনবসতি ৫ সহস্রাধিক বলে জানান গ্রামেরই বাসিন্দা রিংকু রঞ্জন চক্রবর্তী। বিশাল এই গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। তবে মৎস্যজীবীর সংখ্যাও কম নয়। বর্ষায় গ্রামটি বৈচিত্র্যময় রূপ ধারণ করে, যখন হাওর পানিতে পরিপূর্ণ থাকে তখনই অন্তেহরি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। অন্তেহরি গ্রামটি বছরে ছয় থেকে আট মাস জলমগ্ন থাকে। বর্ষার শুরুতে পার্শ্ববর্তী কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বেড়ে এ গ্রামটি জলাবদ্ধ করে। তখন অন্যান্য গ্রামের মতো থাকা অন্তেহরি গ্রামের রূপ পাল্টে মোহনীয় হয়ে ওঠে। খাল, বিল, পুকুর কিংবা গ্রামীণ রাস্তাঘাট সব একাকার হয়ে যায় হাওরের পানিতে। বছরের জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জলের গ্রাম হিসেবে অন্তেহরি নিজেকে পূর্ণ রূপে আবিষ্কার করে।

গোছালো জলারবনের ভেতর নৌকায় করে পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়ানো যায়। গ্রামের মেঠোপথ বর্ষায় জলপথে রূপ নেয়া চির সবুজের বুক চিরে চলে নৌকা। চলতে চলতে চোখে পড়ে ডানে-বামের সাধারণ মানুষের জীবন চিত্র। পুরো গ্রামই পানির ওপর ভাসমান। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ির যাতায়াতের মাধ্যম শুধুই নৌকা। এ যেন একটি বাড়ি একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির বাঁকে-বাঁকে মাছ শিকারের নানা আয়োজন। এমন দৃশ্য দেখতে দেখতে আপনি প্রবেশ করবেন কাউয়াদীঘি হাওরে। বিকেল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জলারবনে ভ্রমণের জন্য উত্তম সময়। বিকেলেই অন্তেহরির মানুষের জীবন আর জীবিকার দৌড়ঝাঁপ একটু বেশি প্রত্যক্ষ করা যায়।

জলারবনের মাঝখান দিয়ে টলটলে জলের ওপর দিয়ে ছুটে চলে মাঝির ডিঙি নৌকা। বর্ষা মৌসুমে জলই সেখানকার জনগোষ্ঠীর জীবিকার প্রধানতম মাধ্যম। চলার পথে কোথাও চোখে পড়বে নৌকায় জাল টানছেন জেলেরা। আবার কোথায় শিশুরা শাপলা কুড়াচ্ছে, কখনও বা দেখা পাবেন বাড়ির উঠানে কৃষাণীর বিরামহীন পরিশ্রমের দৃশ্য।

দেখতে দেখতে আর প্রকৃতিকে উপভোগ করতে করতে মাঝি আপনাকে নিয়ে যাবে কাউয়াদীঘি হাওরে, তখন পশ্চিমাকাশে সূর্য ডুবতে যাচ্ছে। পাখিদের বিচরণ প্রকৃতিকে করে তুলে আরও মোহনীয়। নীড়ে ফেরা ঝাঁকে-ঝাঁকে সাদা বকের উড়ে চলা। সব মিলিয়ে এ যেন পাখিদেরও স্বর্গরাজ্য। প্রকৃতি যেন তার অপার রূপলাবণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×