থানচি-আলীকদম সড়কের ২৯ স্থানে ধস

বিপজ্জনক যাত্রাপথ

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বান্দরবান প্রতিনিধি

বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কপথ। পাহাড়ে প্রায় আড়াই হাজার ফুট উচ্চতায় তৈরি বান্দরবানের থানচি-আলীকদম উপজেলা অভ্যন্তরীণ সড়কের ২৯টি স্থানে গত বছরের বর্ষায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে সড়কের তিনটি পয়েন্ট সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় সেনাবাহিনী এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের জরুরি বরাদ্দ থেকে সড়কটি মোটামুটি সংস্কার করে হালকা যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তুলেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু মাটি ধসে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সড়কটির ঝুঁকির মাত্রা কমেনি মোটেও। দৃষ্টিনন্দন সড়কটি সংস্কারে মন্ত্রণালয়ের কাছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্মকর্তারা। প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রথমে থানচি-আলীকদম উপজেলা অভ্যন্তরীণ সড়কের নির্মাণ কাজের যাত্রা শুরু করে। কিন্তু চার বছর সড়ক তৈরির কাজ করার পর ২০০১ সালে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল শাখাকে সড়কটি হস্তান্তর করা হয়। ২০০১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৭ ইসিবি দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজ করে। ২০১৫ সালের অক্টোবরে সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি ইঞ্জিনিয়ার কোরের সদস্যরা দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কপথ তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করে। তারা থানচি থেকে আলীকদম পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটারের সড়কপথ দুই কিলোমিটার কমিয়ে ৩৩ কিলোমিটারে নিয়ে আসে। নির্মাণ কাজ শেষে ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কপথের উদ্বোধন করেন। ভ্রমণে আসা পর্যটক আবির চৌধুরী, রিদোয়ান হাসান বলেন, থানচিতে পাহাড়ের চূড়ায় ২৫০০ ফুট উচ্চতায় তৈরি দেশের সবচয়ে উঁচু সড়কপথ ভ্রমণ দারুণ রোমাঞ্চকর। এ সড়কের ডিম পাহাড় চূড়াটি সত্যি সত্যিই ডিম আকৃতির মতো দেখতে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সড়কের নিচে গড়ে ওঠা ছোট ছোট পাহাড়ি গ্রামগুলোও চূড়া থেকে দেখতে অনেক সুন্দর লাগে। কিন্তু সড়কের অধিকাংশ স্থানেই ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভেঙে গিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। তবে সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি। সেনাবাহিনীর ১৬ ইসিবি প্রকৌশল শাখার উপ-অধিনায়ক মেজর রেজোয়ানুর রহমান জানান, গত বছরের বর্ষায় বৃষ্টিতে থানচি-আলীকদম উপজেলার ৩৩ কিলোমিটার সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনটি স্থানে সড়কটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় জনস্বার্থে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাথমিক সংস্কার করে সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে দেয়া হয়। জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সজিব আহমেদ জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে সওজ বিভাগের জরুরি ফান্ড থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকায় ড্রেন এবং সড়ক প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের কাজ করা হচ্ছে।