ফুলপুরে অপরিকল্পিত স্লুইস গেট নির্মাণে জনদুর্ভোগ

  ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুলপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে অপরিকল্পিতভাবে স্লুইস গেট নির্মাণ করায় এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

জানা যায়, ফুলপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নকে বন্যামুক্ত রাখতে স্থানীয় সরকার অধিদফতরাধীন পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সনে জাইকার অর্থায়ন ও এলজিইডির বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নে উজান থেকে বন্যার পানি প্রবেশের জায়গায় বাধ বা স্লুইস গেট নির্মাণ না করে বাখাই- বাঁশতলা সড়কের বাতিকুড়া গ্রামে বটখালি খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র স্থানে সামান্য খননসহ প্রায় ২৭ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রিজসহ স্লুইস গেট নির্মাণ করেন। যার মাঝ দিয়ে পানি বের হওয়ার জন্য মাত্র ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের ৪টি গেট রাখা হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০১৫ সালের বর্ষা মৌসুমে নাকানন্দি ও কুড়িয়া নদীসহ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি স্লুইস গেট দিয়ে বের হওয়ার সংকুলান না হয়ে এলাকায় ব্যাপক বন্যার সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে পূর্ব পাশের রাস্তা ভেঙে পানি বের হয়ে অপর একটি খালের সৃষ্টি করে। আগে এলাকাবাসী বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে পারলেও পরে তাও বন্ধ হয়ে যায়। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগসহ এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে যুগান্তরে ৩/৮/২০১৫ইং তারিখ ‘ফুলপুরে স্লুইস গেট নির্মাণে লুটপাটের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে ২০১৬ সালে প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকার অপর একটি প্রকল্প বরাদ্দ দিয়ে আগের স্লুইস গেট সংযুক্ত করে প্রায় ২৯ ফুট দৈর্ঘ্যরে অপর একটি স্লইস গেটসহ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। পানি বের হওয়ার জন্য ৫-৬ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের অপর ৩টি গেট রাখা হয়। পরের বছর বন্যায় আবারও পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে স্লুইস গেটের অপর পাশের প্রায় ৫শ’ ফুট রাস্তাসহ ভেঙে অপর একটি খালের সৃষ্টি করে। বর্তমানে এলাকবাসী রাস্তা ছেড়ে মাঠ দিয়ে ও খাল পারাপার হয়ে চলাচল করছেন। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দে নির্মিত স্লুইস গেট বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজে না এসে উল্টো জলাবদ্ধতাসহ অকাল বন্যার সৃষ্টি হয়ে রাস্তা ভেঙে এলাকাবাসীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ব্যাপারে বাতিকুড়া গ্রামের সুরুজ আলী খাঁ জানান, শুধু অর্থের হরিলুট করতেই এ ধরনের প্রকল্প করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের আধা কিলোমিটার দূরের বাজারে যেতে না পেরে ৫ কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে। বাঁশতলা গ্রামের সিরাজ আলী জানান, স্লুইস গেট নির্মাণের ফলে এক খাল ভেঙে তিন খাল হয়েছে। বর্তমানে যাতায়াত সমস্যায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ। বনগাঁও গ্রামের আবদুল শহিদ জানান, স্লুইস গেট নির্মাণে জলাবদ্ধতায় ৩ বছর ধরে আমাদের প্রায় ১০ একর জমির ফসল পাচ্ছি না।

ফুলপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ভাঙনের জায়গায় একটি ব্রিজ নির্মাণসহ রাস্তা মেরামত করা প্রয়োজন, যা বাস্তবায়ন করতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলপুর উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক জানান, একটি ব্রিজ নির্মাণসহ রাস্তা মেরামতের প্রস্তাবনা উপরে পাঠানো হয়েছে। ৫-৬ মাসের মধ্যে কাজ হতে পারে।

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.