রাজশাহীতে সিগন্যালিং সিস্টেম নষ্ট

হাতের ইশারায় চলে যানবাহন

  রাজশাহী ব্যুরো ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী নগরীতে সিগন্যালিং সিস্টেম নষ্ট হয়ে পড়েছে। স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালের মাধ্যমে এক সময় নিয়ন্ত্রণ হতো এ নগরীর যানবাহন চলাচল। তবে গত একযুগ থেকে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালগুলোর আর কার্যকারিতা নেই। এখন সবগুলোই অকেজো। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন সেগুলো আর জ্বলে না। ফলে ট্রাফিক পুলিশ হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করেন যানবাহনের সিগন্যালিং সিস্টেম। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং সিস্টেম চালুর পর তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নগরবাসীর মনে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ আর অসন্তোষ। জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথমে নগরীর সিঅ্যান্ডবি, লক্ষ্মীপুর, বিন্দুর মোড়, সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট, মনিচত্বর ও তালাইমারী মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়। এরপর ২০০২ সালে ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ বন্ধগেট, বহরমপুর বাইপাস রোড, কোর্ট স্টেশন মোড়, কাশিয়াডাঙ্গা নতুন বাইপাস মোড় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যালের আওতায় আনা হয়।

পরবর্তী সময়ে আরও ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মধ্য শহরের উৎসব সিনেমা হলের মোড়, সাগরপাড়া, শিরোইল স্টেশন মোড়, জিয়া শিশুপার্কের সামনের মোড় এবং নওদাপাড়ার আমচত্বর মোড়ে স্থাপন করা হয় স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি। কিন্তু এসব ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম এখন আর কোনো কাজে আসছে না।

রাজশাহী মহানগর ট্রাফিক বিভাগের অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশন তাদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই যথেচ্ছভাবে সিগন্যাল বাতিগুলো স্থাপন করেছে। এমনকি কয়েকটি মোড়ে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হয়েছে গাছের আড়ালে। ফলে তা বিভিন্ন যানবাহনের চালকের চোখে পড়ে না। আর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো এখন সবই অকেজো। অটোরিকশা চালকরা জানান, সিগন্যাল বাতি ঠিক না থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। ট্রাফিক পুলিশ হাত দিয়ে সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ করলেও অনেকে তা মানছেন না। এছাড়া সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে চার রাস্তাকে দু’মুখী রাস্তা করে দেয়ায় রাস্তার অপর প্রান্তে যাত্রীদের নামাতে অনেকটা পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে চালকদের।

নগরীর স্কুলশিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, সিগন্যাল বাতি অকেজো হওয়ায় রাস্তা পারাপার বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ট্রাফিক পুলিশ একটু অন্যমনস্ক হলেই রাস্তা পার হওয়ার সময় পথচারীরা দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম বলেন, নগরীতে ক্রমেই বাড়ছে রিকশা এবং অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সংখ্যা। দীর্ঘদিন থেকে অটোসিগন্যালিংগুলো অকেজো থাকায় নগরীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং যানজট নিরসনে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম চালু করার বিকল্প নেই। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, নগরীর সিগন্যাল লাইটের অকেজো রয়েছে- এ বিষয়টি আমাদের নজরে আছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter