নৌ ফায়ার স্টেশনে নৌযান নেই

পটুয়াখালীতে অরক্ষিত উপকূল

  জাফর খান, পটুয়াখালী ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাগরকন্যা নামে খ্যাত নদী-মাতৃক জেলা পটুয়াখালীর নৌপথকে সুরক্ষিত রাখতে পটুয়াখালী নৌ ফায়ার স্টেশন ভবন নির্মাণের ৬ বছর পরও কোনো জলযানের বরাদ্দ দেয়া হয়নি। নদী ফায়ার স্টেশনের রয়েছে একটি ভবন, সামনে নদীর ঘাটে রয়েছে বিশাল জেটি, পন্টুন কিন্তু নেই কোনো জলযান, এমনকি স্পিডবোটও।

পটুয়াখালী জেলার নদীপথকে সুরক্ষিত তথা নৌপথের বিভিন্ন দুর্ঘটনা থেকে জনসাধারণকে সুরক্ষিত রাখতে ২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টম্বর, পটুয়াখালীতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশাপাশি নদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন চালু করা হয়। চলতি বছরে মার্চে নদী ফায়ার স্টেশনের সামনে নদীর ঘাটে একটি জেটি এলেও তা এখনও কাগজে-কলমে গ্রহণ করেনি পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। এদিকে এ স্টেশনের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো জলযানসহ জনবলও বরাদ্দও পায়নি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নদীমাতৃক এ জেলায় প্রায়ই নৌপথে দুর্ঘটনা ঘটলেও নেই কোনো ডুবুরির পথ। জেলার নৌপথে দুর্ঘটনায় বরিশাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবরিরা এসে উদ্ধার কাজ চালান। ’৮০-এর দশকের মাঝামাঝি পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে একটি নৌ অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত প্রমোদতরী হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় সেটি কয়েক বছরের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়। সে থেকেই এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ঘাটে। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর ৮টি উপজেলার ৬টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলেও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাঙ্গাবালী উপজেলায় নেই ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। রাঙ্গাবালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে দফতর সূত্র নিশ্চিত করেছে। পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলার স্টেশনটি নির্মাণাধীন। এদিকে দশমিনা উপজেলার স্টেশনটি এখনও রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়াও পর্যটন এলাকা কুয়াকাটায় জমি নির্বাচনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত হওয়ায় কয়েক বছর আগে তা ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে নদী ফায়ার স্টেশন ও পুরাতন ভবনে এলাকায় সেড নির্মাণ করে জোড়াতালি দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কাজ চালানো হচ্ছে। বর্তমানে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ৫ কোটি টাকার অধিক ব্যয়ে ৪ তলার একটি ভবনের কাজ শুরুর পথে রয়েছে। পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পটুয়াখালী নদী ফায়ার স্টেশন পূর্ণাঙ্গ চালু করতে প্রয়োজনীয় জলযানসহ অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জমাদির চাহিদাপত্র পাঠানো করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রাসহ পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকার অগ্নিনির্বাপণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×