বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

গোসাইরহাটে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গোসাইরহাটে উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৭ কোটি টাকার সম্পত্তি লিজ বাতিল হওয়ার পরও জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। ১ একর ৩০ শতাংশ সরকারি সম্পত্তি দখল করে ওই বিএনপি নেতা ইতিমধ্যে সেখানে পাকা ভবনও নির্মাণ করেছেন। রাতের আঁধারে পুকুরের মাছ ও বাড়ির গাছপালা বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গোসাইরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মতিউর রহমান। এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভূমি র্কমকর্তা। ওই নেতার ভয়ে এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না। সরকারি সম্পত্তি দখলকারী ওই বিএনপি নেতা বলছেন, সরকারি নিয়মনীতি মেনেই তিনি সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, তারা শিগগিরই উচ্ছেদাভিযান পরিচালনা করবে এবং সে লক্ষ্যে কাগজপত্র প্রস্তুতির কাজ চলছে।

গোসাইরহাট উপজেলা ভূমি অফিস ও ইদিলপুর ইউনিয়ন তহশিল অফিস সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলাধীন বিভিন্ন দাগে ১ একর ৩০ শতাংশ জমি লিজ গ্রহণ করেন গোসাইরহাট থানা বিএনপির সহ-সভাপতি দাসেরজঙ্গল গ্রামের আলাউদ্দিন সরদার। এরপর তিনি অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির লক্ষ্যে শরীয়তপুর জেলা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। কিন্তু চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিলে আদালত ওই মামলা খারিজ করে দেন।

এদিকে সরকারি ভূমি লিজের বিধিবিধান তোয়াক্কা না করে পাকা ইমারত নির্মাণ, গাছ বিক্রিসহ লিজের শর্ত ভঙ্গ করায় ২০১৫ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার লিজ বাতিল করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, সম্প্রতি তিনি সরকারি এই বাড়ির পুকুর থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ ও বাড়ি থেকে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৭টি গাছ কেটে বিক্রি করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তকালে ইদিলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছেন। ওই কর্মকর্তা তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতিক্রমে নিজে বাদী হয়ে আলাউদ্দিন সরদারের বিরুদ্ধে গোসাইরহাট থানায় ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করেছেন। ১২ দিন অতিবাহিত হলেও গোসাইরহাট থানা পুলিশ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অধিকতর তদন্ত করে বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করবেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা। তিনি বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনার সত্যতা মিলেছে। অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলাউদ্দিন সরদারের ছেলে মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ সম্পত্তি আমার বাবার নামে লিজ বন্দোবস্ত রয়েছে। বর্ণিত অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে মামলা চলমান থাকায় উপজেলা ভূমি অফিস আমাদের কাছ থেকে লিজের টাকা গ্রহণ করছে না। আমাদের লিজ বাতিল হয়নি।

এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মতিউর রহমান বলেন, সরকারি সম্পত্তি থেকে গাছ ও মাছ চুরি করা গ্রহণযোগ্য অপরাধ। থানার ওসি এই অভিযোগে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই অপরাধীদের গ্রেফতার করতে পারেন। হয়তো বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ আইনের সেই প্রক্রিয়া গ্রহণ করবে।

গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×