এমপি-সভাপতি গ্রুপের দ্বন্দ্ব

খোকসায় আওয়ামী লীগের সব সম্মেলন স্থগিত

উপজেলা সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা আটক ৫

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জেলার খোকসা উপজেলায় আওয়ামী লীগের পৌর ও ইউনিয়ন কাউন্সিলকে ঘিরে দ্বন্দ্ব-বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন স্থানীয় এমপি ও জেলা সভাপতির গ্রুপের অনুসারীরা। দ্বিধাবিভক্ত নেতাদের মধ্যে চলছে টানটান উত্তেজনা। দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে তিন ইউনিয়নে সম্মেলন করেও শেষ পর্যন্ত কমিটি ঘোষণা দিতে পারেননি জেলা নেতারা। দুই ইউনিয়নে সম্মেলনে গিয়ে নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তারা। এর মধ্যে শিমুলিয়া ইউনিয়ন সম্মেলনে স্থানীয় এমপি ও জেলা সভাপতির উপস্থিতিতে মঞ্চে হামলা চালান বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ ২০ নেতাকর্মীর নামে মামলা করেছেন। মামলার পর থেকে পুলিশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করেছে। আর খোকসা ইউনিয়নের সম্মেলনে খাবার বিরতির সময় জেলার নেতারা পালিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন একাংশের কর্মীরা। উপজেলার প্রভাবশালী দুই গ্রুপের বিরোধে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন জেলার নেতারা। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলার সব সম্মেলন স্থগিত করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। জানা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচন শেষে দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের সঙ্গে স্থানীয় এমপি সেলিম আলতাফ জর্জের দূরত্ব শুরু হয়। পৌর ও ইউনিয়ন সম্মেলন নিয়ে দু’জনের ঠাণ্ডা লড়াই প্রকাশ্য রূপ নেয়। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর এমপি সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আকতারের সঙ্গে জেলার সভাপতি ও তার অনুসারীদের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। চরম উত্তেজনার মধ্যে দু’পক্ষ পৃথক ওয়ার্ডে সম্মেলন করে। ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হয় উপজেলার ৯ ইউনিয়নের সম্মেলন। প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় উপজেলা সদরের খোকসা ইউনিয়নে। ওই সম্মেলনে দু’পক্ষের পাঁচটি প্যানেল জমা পড়ায় কমিটি ঘোষণা না করেই সম্মেলন শেষ হয়। একইভাবে চরম উত্তেজনার মধ্যে ওসমানপুর ইউনিয়ন, বেতবাড়িয়া ইউনিয়ন ও একতারপুর ইউনিয়নে কমিটি ঘোষণা না করেই সম্মেলন শেষ করা হয়। চাপা উত্তেজনা প্রকাশ্যে রূপ নেয় শিমুলিয়া ইউনিয়ন সম্মেলনে। সোমবার সকালে সম্মেলন শুরু হলে স্থানীয় এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ জেলার নেতাদের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা শুরু হয়। হামলা থেকে বাদ যাননি মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরাও। সম্মেলন মঞ্চে হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে একপক্ষের বিরুদ্ধে খোকসা থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির অনুগত ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শুটকা। মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবুল আকতারসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭০-৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির সদস্য আরিফুল ইসলাম তসর জানান, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে উপজেলার সব সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ অন্য নেতাদের নামে মামলার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র তারিকুল ইসলাম তারিক বলেন, জেলার নেতারা নতুন সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত সম্মেলন বন্ধ থাকবে।

স্থানীয় এমপি সমর্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বাবুল আকতার বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের দায়ের করা মামলাটি পুলিশ খুব দ্রুত রেকর্ড করেছে। পুলিশ তার লোকদের হয়রানি করছে। অথচ তিনি নিজে বাদী হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা দিয়েছেন। এছাড়া হামলার ঘটনায় অপর একটি মামলা দেয়া হয়েছে। কোনো মামলা ওসি রেকর্ড করছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন। খোকসা থানার ওসি এবিএম মেহেদী বলেন, মঞ্চে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। কয়েক আসামিকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় এমপি সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, বড় দলের সম্মেলনের সময় একটু বিরোধ দেখা দিতেই পারে। তবে এটাকে নেগেটিভভাবে নেয়া যাবে না।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×