মেডিকেলে ভর্তি অনিশ্চিত খাদিজা ও কণার

  শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ও বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিনমজুরের পরিবারে জন্ম নিলেও শিক্ষার মেধাতালিকায় প্রথম থেকেই শীর্ষে ছিল খাদিজা খাতুন। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সে ৪র্থ। অন্য ভাইবোনরা আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়া করতে না পারলেও খাদিজা খাতুন দারিদ্র্যকে জয় করে এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। খাদিজা খাতুন শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের রানীবাড়ী গ্রামের দিনমজুর পিতা জালাল উদ্দিন ও মাতা জোসনা বেগমের মেয়ে। তার মেধাতালিকায় ক্রমিক নম্বর ১৭৮১। সে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থসংকটের কারণে ভর্তি হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জালাল উদ্দিনের কোনো নিজস্ব জায়গা জমি নেই। তিনি সরকারি খাসজমিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে কোনোরকমে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। বর্তমানে ৭ জনের ওই পরিবারের সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন জালাল উদ্দিন। তিনি জানান, ছোট থেকেই তার ডাক্তার হওয়ার বড় ইচ্ছা। এবার ডাক্তার হওয়ার সুযোগ পেলেও মেডিকেলে ভর্তি নিয়ে চিন্তিত। কোনো দানকারী ব্যক্তি লেখাপড়ার জন্য আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়াতে চাইলে ০১৭৯৪-৬৫৮৫৮৯ এই নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এদিকে বরগুনার আমতলী পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ড মহিলা কলেজ রোডের বাসিন্দা সামসুন নাহার কণা দিনাজপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। কণার বাবা মাহেন্দ্রা গাড়িচালক খবির হোসেন জানান, কণা প্রাইমারি সমাপনী পরীক্ষা ও জুনিয়র সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তারপর ৯ম শ্রেণীতে বিজ্ঞান শাখায় ভর্তি হতে গেলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাবার আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কণাকে বিজ্ঞান বিভাগ না নেয়ার জন্য বলেন। কিন্তু নাছোড়বান্দা কণা বিজ্ঞান বিভাগ ছাড়া বিদ্যালয়ে ভর্তি হবে না বলে জানায়। বাধ্য হয়ে বাবা কবির হোসেন মেয়েকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করেন এবং এসএসসি পরীক্ষায় সরকারি একে পাইলট হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। আর্থিক দৈন্যতার কারণে ভর্তি প্রায় অনিশ্চিত হলেও আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সহযোগিতা নিয়ে বিএফ শাহিন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়। সেখান থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করে যথারীতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দিনাজপুর সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

ছোট থেকেই কণার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি তার হাতের নাগালে হলেও মাহেন্দ্রা গাড়িচালক বাবার আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো নয়। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে তাকে ৪০ হাজার টাকা জোগাড় করতে হবে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার জন্য। এত অল্প সময়ে তার বাবার পক্ষে এতগুলো টাকা ম্যানেজ করা খুবই কষ্টকর। অনিশ্চিত হয়ে পড়বে কণার মেডিকেলে ভর্তি। কণার বাবা খবির হোসেন বলেন, আমি মেয়ের জেদের কাছে সব সময় হেরে গেছি। সে যখন বুঝতে শিখেছে তখন থেকেই তার একটাই স্বপ্ন সে বড় হয়ে ডাক্তার হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×