মেডিকেলে পড়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় মেহেদি ও তানিয়া

  মনিরামপুর (যশোর) ও বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধারের টাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হল মেহেদি হাসান। রোববার থেকে শুরু হওয়া ভর্তি কার্যক্রমের প্রথম দিনই ভর্তি হতে বাবাকে নিয়ে ঢাকায় যায় মেহেদি। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধারদেনা করে ভর্তি হলেও পরবর্তী সময় মেডিকেলে লেখাপড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন মেহেদির পরিবার। মেহেদি চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে মেধা তালিকায় ১৫তম স্থান অধিকার করেছে। মেহেদি হাসান যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নিভৃত পল্লী হুরগাতি গ্রামের আবদুর রহিমের ছেলে। সরেজমিন বাড়িতে গেলে মেহেদির মা রাবেয়া বেগমের সঙ্গে কথা হলে এসব কথা উঠে আসে। টালির ছাউনি আর মাটির দেয়াল ঘেরা জরাজীর্ণ বাড়ির ছেলে দেশের শীর্ষ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারার আনন্দ যেমন মেহেদির মায়ের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি পরবর্তী লেখাপড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্নতার ছাপও রয়েছে। তিনি জানান, প্রতিবেশী তিনজনের কাছ থেকে ধার করা ১২ হাজার টাকা নিয়ে রোববার রাতে বাবার সঙ্গে ভর্তি হতে গেছে। ঈদ কিংবা কোনো ধরনের উৎসবে ভালো পোশাক, ভালো খাবার জোগাড় করতে না পারলেও লেখাপড়ার খরচ জোগাতে ব্যবসার পাশাপাশি হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে মেহেদির বাবা। মেহেদির চাচা আবদুর রশিদ বলেন, গ্রামেই রাস্তার মোড়ে সার-কীটনাশকের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মেহেদির বাবা আবদুর রহিমের সামান্য রোজগারেই চলে সংসার। বড় বোন নুরজাহান খাতুন পিয়া যশোর এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স শেষ করেছে। ফলে বাবা আবদুর রহিমের একায় রোজগারেই চলে চার ভাই-বোনের লেখাপড়ার খরচ। মেহেদির বাবা আবদুর রহিম মুঠোফোনে জানান, রোববার ১০ হাজার ২শ’ টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হয়েছে মেহেদি। ছেলের জন্য তিনিও দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে নাটোরের তানিয়া খাতুনের জন্ম দরিদ্র কৃষক পরিবারে। দুই ভাই-দুই বোনের মধ্যে সবার বড় সে। দারিদ্র্যকে জয় করে তানিয়া এবার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় পটুয়াখালী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সে নাটোরের বাগাতিপাড়ার সদর ইউনিয়নের কোয়ালীপাড়া গ্রামের আবু তালেবের মেয়ে। একদিকে মফস্বল গ্রাম থেকে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় পরিবারে যেমন বইছে আনন্দের বন্যা, অন্যদিকে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবারে দেখা দিয়েছে দুঃশ্চিন্তা। জানা গেছে, সামান্য জমিতে আবাদ করে কোনোমতে সংসার চালান তানিয়ার বাবা আবু তালেব। স্বল্প আয়েই সন্তানদের পড়ালেখা খরচ চালান তিনি। বড় দুই মেয়ে তানিয়া-তিশা একসঙ্গে পড়ালেখা শুরু করে ছোট থেকেই ভালো ফলাফল করতো। সেই থেকে মেয়েদের লেখাপড়ার প্রতি বাবার বিশেষ মনোযোগ বাড়ে। উপজেলার তমালতলা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে দু’জনেই জিপিএ-৫ পায়। এরপর নাটোর শহরের সরকারি রানী ভবানী মহিলা কলেজ থেকে তানিয়া জিপিএ-৫ এবং তিশা জিপিএ ৪ দশমিক ৬৭ অর্জন করে। তানিয়া মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য লড়ে যাচ্ছে তিশা খাতুন। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে তানিম তৃতীয় শ্রেণির এবং তরিকুল স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। তানিয়ার এমন সাফল্যে গ্রামবাসীও খুশি। কিন্তু এতদিন খরচ চালিয়ে এলেও কৃষক আবু তালেব দুই মেয়ের আগামী দিনের খরচগুলো কিভাবে চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তানিয়ার ভর্তির টাকা জোগাড় করতে আয়ের সম্বল সামান্য জমিও লিজ দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি টাকা জোগাড় হয়নি। বাবা আবু তালেব জানান, তিশার খরচের পাশাপাশি তানিয়ার মেডিকেলের খরচ চালানোর সঙ্গতি তার নেই।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×