কপোতাক্ষের পেটে ইটভাটা

জমির মালিকরা দখল করছে নদের চর

  মোজাহিদুল ইসলাম, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নাব্যহারা কপোতাক্ষের বুকজুড়ে এখন অসংখ্য মৎস্য ঘের, পুকুর আর ফসলের মাঠ। নদের দুই তীরের জমির মালিকরা পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া নদটি দখল করে সুরু খালে পরিণত করেছে। ভূমিদস্যুরা চর দখল করেই ক্ষান্ত হয়নি। দখল করা চরে ইটভাটাসহ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছে বছরের পর বছর।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার একাংশ ও তালা উপজেলার মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত এই কপোতাক্ষ নদ। এর অপর অংশে যশোরের ঝিকরগাছা, মনিরামপুর, কেশবপুর।

কলারোয়ার খোর্দ, দলুইপুর, দেয়াড়া, সরসকাটি, ধানদিয়া, তালা উপজেলার সরুলিয়া, কুটিঘাটা, পাটকেলঘাটা, ইসলামকাটি, বলরামপুর, শ্রীমন্তকাঠি আজিজ সুশীল পল্লী, মোবারকপুর বাহাদুরপুর এলাকা ঘুরে কথা হয় কপোতাক্ষ তীরের গ্রামবাসীর সঙ্গে। স্থানীয়রা জানান, গত ২০০০ সালের পর থেকে নদের তলদেশ পলি জমে ভরাট হতে থাকে। নাব্য হারানোর ফলে নদের তীর ঘেঁষে জমির মালিকরা প্রতি বছর একটু একটু করে নদটি দখল করে ফেলেছে। এখন এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। দখলকারীরা দখল করা চর ও তীর ঘেঁষে বসতি স্থাপন, কৃষি জমি ও মাছের ঘের করে ভোগ করছে। দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দখলকারীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এসব ভূমিদস্যুদের কালো থাবা থেকে বাঁচানো যাচ্ছে না কপোতাক্ষ নদকে।

এ বিষয়ে কথা হয় কলারোয়ার ১১নং দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী মাহাবুবর রহমান মফের সঙ্গে। তিনি জানান, কম খরচে এক সময় খুলনা ও মোংলা থেকে ছোট ও মাঝারি আকারের জাহাজে মালামাল আনা নেয়া করা হতো কপোতাক্ষ নদ দিয়ে। সে সময় নদটি দেড় হাজার ফুট চওড়া ছিল। নদের তীর দখলের পর এখন এটি ৫০/৬০ ফুটের মতো চওড়া আছে। পলি ভরাট জমে স্রোত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নদটি ক্রমশ দখল হতে থাকে। এখন এ নদে নৌকাও চলে না। তিনি আরও জানান, তার ইউনিয়নের শতাধিক মানুষ (যাদের নদের তীরে জমি আছে) নদের দিকে জমি বাড়িয়ে নদটি সংকুচিত করে ফেলেছে।

কলারোয়ার জয়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন আল মাসুদ বাবু জানান, তার ইউনিয়নের শতাধিক জমির মালিক জমির আইল নদের দিকে ঠেলতে ঠেলতে নদটির বেশিরভাগ অংশ দখল করে নিয়েছে। এসব দখলকারীকে উচ্ছেদ করা গেলে হাজার বিঘা জমি উদ্ধার করা সম্ভব।

তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, তার এলাকার অসংখ্য মানুষ চর দখল করে মাছের ঘের পুকুর তৈরি করে দখল করে আসছে। নদের সঙ্গে লাগোয়া দুই তীরের জমির মালিকরাও নদটি দখল করে ফসল উৎপাদন করছে। দখলকারীদের উচ্ছেদ করা গেলে কপোতাক্ষের হাজার বিঘা জমি উদ্ধার করা যাবে।

ইসলামকাটি ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র সেন জানান, হাজারেরও বেশি একর জমি দখল করে নিয়েছে নদের কূলঘেঁষা চাষীরা।

তালা এলাকায় কপোতাক্ষের চর দখলে ইটভাটা করে নাম দেয়া হয়েছে তালার নুর ব্রিকস, এবি ব্রিকস ও সনি ব্রিকস নামের তিনটি ইটভাটা। নুর ব্রিকসের মালিক খায়রুল ইসলাম মনু, এবি ব্রিকসের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম, সনি ব্রিকসের ম্যানেজার রবিন পাল জানান, কপোতাক্ষের খাস জমি নদের ওই পারে। এপারে তারা মালিকানা জমিতেই ভাটা নির্মাণ করেছেন। কথা হয় কপোতাক্ষ নদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন পানি কমিটির তালা উপজেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ময়নুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার পরই নদের তীরবর্তী মানুষেরাই নদের জমি দখলে নিয়ে ভোগ করা শুরু করে।

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন কমিটির তালা উপজেলা সমন্বয়ক সরদার রফিকুল ইসলাম জানান, কপোতাক্ষের অনেক স্থান দখল হয়ে গেছে। নদ তীরের জমির মালিক ও ভূমিহীনরা এসব দখল করে খাচ্ছে। সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি মুস্তফা লুৎফুল্লাহ বলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দেশের সব নদ-নদী ও খাল দখলকারীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় জেলা প্রশাসনও কপোতাক্ষ নদ দখলকারীদের উচ্ছেদ করে নদটি দখলমুক্ত করবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×