সম্ভাবনাময় বন্দর কালাইয়া

পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ভেনিস

  বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী তেঁতুলিয়া নদীর অববাহিকায় বাংলাদেশের মধ্যবর্তী উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অবস্থান কালাইয়া বন্দরটির। ভৌগলিক কারণেই প্রায় পাঁচশ’ বছর পূর্বে গোড়াপত্তন হওয়া এই বন্দরের প্রাচীনকাল থেকেই রয়েছে বিশেষ বাণিজ্যিক গুরুত্ব। ষোড়শ শতকে এই বন্দরে আসত ফরাসি, ডাচ, ইংল্যান্ড মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বণিকদের জাহাজ। কৃষিপণ্য আর মিঠাপানির জন্য বিদেশি বণিকদের কাছে বিশেষ কদর ছিল বন্দরটির। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের অন্যান্য বাণিজ্যিক বন্দরগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে এই বন্দরের ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কালাইয়া বন্দরে প্রতিবছর আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছর এই বন্দর থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকার ধান সংগ্রহ করে থাকেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা চালকল মালিকরা। প্রায় চারশ’ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকার ডালজাতীয় শস্য বিক্রি হয় এই বন্দরে। গবাদিপশু ও মাছ বিক্রি হয় প্রায় পাঁচশ’ কোটি টাকা মূল্যের। এছাড়াও এই বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় মাছ, কাঠসহ নানা পণ্য। সপ্তাহের প্রতি সোমবার বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম হাট বসে বন্দরে। আর এই হাটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিজেরাই বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসেন।

তবে নানা প্রতিবন্ধকতা আর সরকারের নীতি-নির্ধারকদের দৃষ্টি কাড়তে না পারায় বিশেষ ভূ-অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকা এই বন্দরটি ধীরে ধীরে তার গৌরব হারিয়ে ফেলছে। অথচ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই বন্দরটিই হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ভেনিস। বন্দরটির অবস্থান বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে হলেও এই বন্দরটিকে কেন্দ্র করে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে পার্শ^বর্তী উপজেলা চরফ্যাশন, লালমোহন, বোরহানউদ্দিন, দশমিনা, দুমকি, বাখেরগঞ্জ, গলাচিপাসহ উপকূলীয় চরাঞ্চলগুলোতে।

বন্দরটির অমিত সম্ভাবনা নিয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল বাশার খান বলেন, পনের শতকে প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল আজকের বাউফলে। তুলনামূলক কম দুর্যোগপ্রবণ এলাকা এবং বাংলাদেশের একেবারে মধ্য উপকূলে এর অবস্থান হওয়ায় এই স্থানটির রয়েছে বিশেষ ভূ-অর্থনৈতিক গুরুত্ব। পায়রা বন্দরের কাছাকাছি এত সমৃদ্ধ আর কোনো বন্দর না থাকায় বন্দরটির গুরুত্ব আরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। নৌপথে এই বন্দর থেকে পায়রা পোর্টের দূরত্ব মাত্র ৯৫ কিলোমিটার, লেবুখালী ক্যান্টনমেন্টের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। এছাড়াও বাংলাদেশের সব নৌ-বন্দরগুলোর সঙ্গে এ বন্দরের নৌ ও সড়কপথে যোগাযোগ এখনও বিদ্যমান, রয়েছে বিদ্যুৎ সুবিধা। সব দিক বিবেচনায় নিলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করার জন্য এ জায়গাটি হচ্ছে একটি আদর্শ স্থান। এই বন্দরে আগত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় বেশকিছু প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে। ব্যবসায়ীরা জানান, বন্দরের অভ্যন্তরে সড়কগুলো অপ্রশস্ত। কার্গো চলাচলের আলগী নদীটি দখল এবং দূষণের কারণে দিন দিন নাব্যতা হারিয়ে ফেলায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পণ্য পরিবহন। নেই কোনো হিমাগার। বন্দরে আগত ব্যবসায়ীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার এবং পাবলিক টয়লেট। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটির স্যোশাল স্পেশালিস্ট মো. কাদের খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পায়রা পোর্টের কাছাকাছি একটি ইকোনমিক জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার যদি আগামী দিনে নতুন কোনো ইকোনমিক জোন করার উদ্যোগ নেয় সে ক্ষেত্রে কালাইয়া বন্দরের সম্ভাবনার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×