ত্রাণ নয়, বেড়িবাঁধ চাই

বুলবুলের তাণ্ডবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দশমিনার চরাঞ্চল

  এইচএম ফোরকান, দশমিনা (পটুয়াখালী) ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিডর, রেশমি, নার্গিস, আইলা এবং সর্বশেষ বুলবুলের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার উপকূলীয় চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধের অভাবে কোটি কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে। সিডর থেকে বুলবুল পর্যন্ত কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কবলে পরে একাধিক বার সর্বশান্ত হয়েছে উপকূলীয় দশমিনার মানুষ। দশমিনা উপজেলার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ না থাকায় চরবোরহান, চরশাহজালাল, চরহাদী, চরবাঁশবাড়ীয়া, চরঘূর্ণি, চরআজমাইনে বসবাসকারী পরিবারগুলোর কৃষকরা জানান, কয়েক বছর পর্যন্ত একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে চরে বসবাসকারী কৃষকদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সারাবছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফলানো ক্ষেতের ফসল ঘূর্র্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসে নষ্ট হয়ে যায়। চরাঞ্চলের কৃষকদের একমাত্র আয়ের উৎস ফসল। বিগত কয়েক বছর সিডর, রেশমী, নার্গিস আইলা এবং সর্বশেষ বুলবুলের তাণ্ডবে ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ কৃষকই দিশেহারা। অনেক কৃষক মহাজন এবং ব্যাংক ও এনজিও থেকে একাধিক বার ঋণ গ্রহণ করে পরিশোধ করতে পারছে না। দশমিনা উপজেলার বুড়াগৌরাঙ্গ ও তেঁতুলিয়া নদীর বুকচিরে জেগে ওঠা প্রায় ২৫/৩০টি ছোট-বড় চর রয়েছে। এসব চরে ৫০ হাজার লোকের জনবসতি রয়েছে। প্রায় তিন যুগ পূর্ব থেকে উপজেলার নদীভাঙ্গা, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র মানুষরা এসব চরাঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। নির্বাচনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা চরাঞ্চলের বেড়িবাঁধসহ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে কেউ কথা রাখেনি। চরের কৃষকরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ত্রাণ নয় এবার বেড়িবাঁধ চাই। চরবোরহানের বাবুল সরদার মোকলেস মাতুব্বর জানান, এসব চরের বয়স প্রায় ৩৫/৪০ বছর হলেও সরকার এখন পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেনি। চরবোরহান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজির আহমেদ সরদার জানান, চরে লোকসংখ্যা অনুপাতে সাইক্লোন সেল্টার ও বেড়িবাঁধ একান্ত প্রয়োজন। ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন বলেন চরহাদীতে ভেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। বারবার বন্যায় চরের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। বাঁশবাড়িয়ার ইউপি চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন আকন জানান, উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে চরে বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা জানান, চরাঞ্চলে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×