পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল

চিকিৎসক সংকটে সেবা ব্যাহত

  মো. জাফর খান, পটুয়াখালী ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে পটুয়াখালী জেলা। ১৭ লক্ষাধিক জনসংখ্যা অধ্যুষিত নদীমাতৃক এ জেলার ৮টি উপজেলার হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর অবস্থা সবদিক থেকে অত্যন্ত নাজুক বিধায় জেলার অসহায় জনসাধারণের একমাত্র চিকিৎসার ভরসাস্থল পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল। এখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে কর্তৃপক্ষ চিকৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ২৫০ শয্যার পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মঞ্জুরিকৃত ৫৮ চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২১ জন। আর এই ২১ জনকে প্রতিদিন গড়ে ৫ শতাধিক ভর্তি রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে পটুয়াখালী জেনারের হাসপাতালে সিনিয়র কনসালটেন্ট পদে বিভিন্ন বিভাগে ১০ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ১১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন সাতজন। মেডিকেল অফিসারের ৩২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন। গাইনী, মেডিসিন, ইএনটি, চক্ষু, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজি ও অর্থোপেডিক বিভাগের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব বিভাগে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। চক্ষু, অ্যানেস্থেশিয়া, প্যাথেলজি, সার্জারি বিভাগে জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে দীর্ঘদিন ধরে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই। আবাসিক ফিজিশিয়ান ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার পদে কোনো চিকিৎসক কর্মরত নেই।

জানা গেছে, পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়নি কোনো ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন। বর্তমানে হাসপাতালে ৫টি মেশিন রয়েছে, যার সবক’টি এনালগ মেশিন। সার্জারি ও গাইনি ওয়ার্ডের ওটি টেবিলসহ লাইট খুবই পুরাতন। যার ফলে প্রতিদিনকার অপারেশন করতে চিকিৎসকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। হাসপাতালে মাত্র ১৭টি কেবিন থাকলেও তার অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো দিনদিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

হাসপাতালের প্রতিদিন রোগীর চাপ সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে ৫ শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে হাসপাতালে। বাধ্য হয়ে পুরাতন বেড, ফ্লোরে রোগী রাখতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হাসপাতালের শিশু ও গাইনি বিভাগে বরাদ্দকৃত বেডের তুলনায় ডাবল রোগী প্রায়ই থাকে এ দুটি বিভাগে। হাসপাতালে হৃদ রোগ বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, বেডের সমস্যা মারাত্মক, পেয়িং বেডের মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে চলছে, হৃদরোগ বিভাগের কার্যক্রম এ বিভাগে একজনমাত্র জুনিয়র কনসালটেন্ট। পটুয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে জন্য পৃথক সিসিইউ ভবন নির্মাণ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবল এবং যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করতে ওই ভবনটি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সাময়িকভাবে ২০১৪ সালে হস্তান্তর করা হয়। যার ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত পটুয়াখালী ও পার্শ্ববর্তী জেলা বরগুনার রোগীদের সিসিইউসহ উন্নত চিকিৎসা নিতে সড়কপথে বরিশাল যেতে হয়।

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সাইদুজ্জামান, হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয় বলেন, সরকারের ৩৯তম বিসিএসের নিয়োগ চূড়ান্ত হলে চিকিৎসক সংকটের অনেকটা সমাধান হবে। হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণসহ চাহিদা মাফিক যন্ত্রাদির জন্য প্রতিমাসেই চাহিদাপত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়ে থাকে। ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সংলগ্ন সিসিইউ ভবনের নিচতলা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে খালি করেছেন। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদিপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সিসিইউ ভবন চালু করা করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×