মুরগির জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প প্রোবায়োটিক উদ্ভাবন

যবিপ্রবির গবেষক দলের সাফল্য

  যশোর ব্যুরো ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুরগির জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প প্রোবায়োটিক উদ্ভাবন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একদল গবেষক পোলট্রি শিল্পের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে নতুন একটি প্রোবায়োটিক উদ্ভাবন করেছে।

গবেষক দলটি দেখিয়েছে, পোলট্রি শিল্পে অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়ে তাদের উদ্ভাবনকৃত প্রোবায়োটিক অধিক কার্যকর, লাভজনক, স্বাস্থ্যসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব।

মাঠ পর্যায়ের পরীক্ষায় সাফল্য আসার পর রোববার যবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের গ্রামের পোলট্রি খামারিদের সামনে গবেষক দলটি অ্যান্টিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিক ব্যবহারের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।

এ সময় যবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি এবং আমেরিকার কৃষি বিভাগের আর্থিক সহায়তায় যবিপ্রবির অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে নতুন এ প্রোবায়োটিক উদ্ভাবন করা হয়।

তার গবেষণা দলে ছিলেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রভাস চন্দ্র রায় ও প্রভাষক শোভন লাল সরকার এবং নাইজেরিয়ার নাগরিক পিএইচডি শিক্ষার্থী রিন ক্রিস্টোফার রুবেন।

এ উদ্ভাবনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক কয়েকটি বিজ্ঞান সাময়িকীতে তাদের গবেষণাপত্রও প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলটি জানিয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক মুরগির অন্ত্রে অবস্থিত সব ধরনের জীবাণুকে মেরে ফেলে। এতে ক্ষতিকর জীবাণুর সঙ্গে সঙ্গে মুরগির বৃদ্ধি কমে যায়। তাছাড়া এর অধিক ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি। পক্ষান্তরে প্রোবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মুরগির মৃত্যুর হার কম, কম খেয়ে ওজন দেড়গুণ বেশি বৃদ্ধি পায়, প্রোবায়োটিক ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমায়, এই গ্রুপের মুরগির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেশি, রোগ প্রতিরোধী কোষের সংখ্যা বেশি এবং ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল ও গ্লুকোজের সংখ্যা কম, যা ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী।

এ কারণে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে প্রোবায়োটিক অনেক বেশি উপকারী। ভারতের একটি ওষুধ কোম্পানি পোলট্রি শিল্পের জন্য প্রোয়োবায়োটিক বাজারজাত করে, যা আমাদের দেশে পাওয়া যায়।

কিন্তু বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলো এ দেশে উদ্ভাবনকৃত প্রোয়োবায়োটিক দিয়ে কোনো ওষুধ বাজারজাত করে না। গবেষক দলটি জানিয়েছে, তারা গবেষণায় দেখেছেন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা ছাড়াও মুরগি পালন করা সম্ভব এবং অধিক লাভজনক।

তাদের উদ্ভাবিত নতুন এই প্রোবায়োটিক বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে ব্যবহার করলে খামারি এবং ভোক্তা উভয়ই লাভবান হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×