যশোর বোর্ডে দুই বছরে ঝরল ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী
jugantor
যশোর বোর্ডে দুই বছরে ঝরল ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী

  যশোর ব্যুরো  

০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর শিক্ষা বোর্ডে দুই বছরের ব্যবধানে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়েছে ৩৭ হাজার ৬২৬ জন শিক্ষার্থী। তারা ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও দরিদ্রতা, বাল্যবিয়ে ও অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারছে না। বছরের শুরুতে বিনামূল্যে নতুন বই ও শিক্ষাবৃত্তির মতো সরকারি নানা উদ্যোগেও ঠেকানো যাচ্ছে না শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার প্রবণতা। এ নিয়ে শিক্ষকরাও উদ্বিগ্ন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধবচন্দ্র রুদ্র জানান, এবার এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে এক লাখ ৬১ হাজার ৬৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। যাদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী অর্থাৎ ২০১৭ সালে জেএসসি উত্তীর্ণ এক লাখ ৩৭ হাজার ১৫০ জন। বাকিরা অনিয়মিত শিক্ষার্থী। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে জেএসসি পাস করা এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৭৬ জনের মধ্যে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করে এক লাখ ৬১ হাজার ৮৭১ জন। সেই হিসাবে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করলেও লেখাপড়া ছেড়ে কর্মক্ষেত্র অথবা বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে ১২ হাজার ৯০৫ জন। এদের মধ্যে ছেলে সাত হাজার ৮২৯ জন ও মেয়ে পাঁচ হাজার ৭৬ জন। এখানে ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে। তবে দুই বছর লেখাপড়া চালিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার পরিসংখ্যানে এগিয়ে মেয়েরা। ২০১৮ সালে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৭৪ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার পরীক্ষা দিচ্ছে ৬৫ হাজার ৫৫৪ জন। আর ভর্তি হওয়া ৮৭ হাজার ১০ জন ছাত্রীর মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে ৭১ হাজার ৫৯৬ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেনি ১৫ হাজার ৪১৪ জন। জেএসসি পাস করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়া এবং ভর্তি হলেও ফরম পূরণ না করার কারণে এবার পরীক্ষায় বসা হচ্ছে না ৩৭ হাজার ৬২৬ জনের। যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ১৩৬ জন ছেলে ও ২০ হাজার ৪৯০ জন মেয়ে। এদের একটি বড় অংশ লেখাপড়া ছেড়ে কর্মক্ষেত্রে ঢুকেছে। আর মেয়েরা হয়েছে বাল্যবিয়ের শিকার। যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রাবণী সুর বলেন, সপ্তম শ্রেণির পর থেকেই শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে। ঝরেপড়া এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশ ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। অভিভাবকদের অসচেতনতা আর মেম্বার, কাজীদের আইন অমান্য করার প্রবণতা রুখতে না পারলে এটা রোধ করা সম্ভব নয়।

সদরের ভাতুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান বলেন, ছেলেদের ঝরেপড়ার একটা বড় কারণ লেখাপড়ায় অমনোযোগী। ইন্টারনেটের এ যুগে ফেসবুকের অপব্যবহারের কারণে তারা প্রথমে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে অকৃতকার্য হচ্ছে। পরে স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। এছাড়া ঝরেপড়ার আরেকটি বড় কারণ পরিবারের দরিদ্রতা। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন অনেক বেশি ভর্তি ফি, বেতন নেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে শিক্ষা ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা অনেক অভিভাবকের পক্ষে মেটানো অসম্ভব। এ কারণেও অনেকে এসএসসির গণ্ডি পার হতে পারছে না। এছাড়া আমাদের সমাজে বাল্যবিয়ের প্রবণতা তো আছেই। শিক্ষা ব্যয় কমাতে না পারলে এ ঝরেপড়া ঠেকানো কঠিন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডর নবাগত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী দেরি করে কেন্দ্র প্রবেশ করলে তাদের জন্য আলাদা রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর ও কারণের ব্যাখ্যা লিখে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়ার জন্য কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার হলে কেন্দ্র সচিব বাদে কেউ প্রশ্নপত্র খোলা ও কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্য কারও কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যশোর বোর্ডে দুই বছরে ঝরল ৩৭ হাজার শিক্ষার্থী

 যশোর ব্যুরো 
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যশোর শিক্ষা বোর্ডে দুই বছরের ব্যবধানে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়েছে ৩৭ হাজার ৬২৬ জন শিক্ষার্থী। তারা ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও দরিদ্রতা, বাল্যবিয়ে ও অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারছে না। বছরের শুরুতে বিনামূল্যে নতুন বই ও শিক্ষাবৃত্তির মতো সরকারি নানা উদ্যোগেও ঠেকানো যাচ্ছে না শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার প্রবণতা। এ নিয়ে শিক্ষকরাও উদ্বিগ্ন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে একযোগে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধবচন্দ্র রুদ্র জানান, এবার এসএসসি পরীক্ষায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা থেকে এক লাখ ৬১ হাজার ৬৯৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। যাদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থী অর্থাৎ ২০১৭ সালে জেএসসি উত্তীর্ণ এক লাখ ৩৭ হাজার ১৫০ জন। বাকিরা অনিয়মিত শিক্ষার্থী। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে জেএসসি পাস করা এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৭৬ জনের মধ্যে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করে এক লাখ ৬১ হাজার ৮৭১ জন। সেই হিসাবে জেএসসি পরীক্ষায় পাস করলেও লেখাপড়া ছেড়ে কর্মক্ষেত্র অথবা বিয়ের পিঁড়িতে বসেছে ১২ হাজার ৯০৫ জন। এদের মধ্যে ছেলে সাত হাজার ৮২৯ জন ও মেয়ে পাঁচ হাজার ৭৬ জন। এখানে ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে। তবে দুই বছর লেখাপড়া চালিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার পরিসংখ্যানে এগিয়ে মেয়েরা। ২০১৮ সালে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৭৪ হাজার ৮৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এবার পরীক্ষা দিচ্ছে ৬৫ হাজার ৫৫৪ জন। আর ভর্তি হওয়া ৮৭ হাজার ১০ জন ছাত্রীর মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে ৭১ হাজার ৫৯৬ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেনি ১৫ হাজার ৪১৪ জন। জেএসসি পাস করে নবম শ্রেণিতে ভর্তি না হওয়া এবং ভর্তি হলেও ফরম পূরণ না করার কারণে এবার পরীক্ষায় বসা হচ্ছে না ৩৭ হাজার ৬২৬ জনের। যাদের মধ্যে ১৭ হাজার ১৩৬ জন ছেলে ও ২০ হাজার ৪৯০ জন মেয়ে। এদের একটি বড় অংশ লেখাপড়া ছেড়ে কর্মক্ষেত্রে ঢুকেছে। আর মেয়েরা হয়েছে বাল্যবিয়ের শিকার। যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রাবণী সুর বলেন, সপ্তম শ্রেণির পর থেকেই শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকে। ঝরেপড়া এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশ ছাত্রী বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। অভিভাবকদের অসচেতনতা আর মেম্বার, কাজীদের আইন অমান্য করার প্রবণতা রুখতে না পারলে এটা রোধ করা সম্ভব নয়।

সদরের ভাতুড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান বলেন, ছেলেদের ঝরেপড়ার একটা বড় কারণ লেখাপড়ায় অমনোযোগী। ইন্টারনেটের এ যুগে ফেসবুকের অপব্যবহারের কারণে তারা প্রথমে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে অকৃতকার্য হচ্ছে। পরে স্কুল ছেড়ে দিচ্ছে। এছাড়া ঝরেপড়ার আরেকটি বড় কারণ পরিবারের দরিদ্রতা। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন অনেক বেশি ভর্তি ফি, বেতন নেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে শিক্ষা ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা অনেক অভিভাবকের পক্ষে মেটানো অসম্ভব। এ কারণেও অনেকে এসএসসির গণ্ডি পার হতে পারছে না। এছাড়া আমাদের সমাজে বাল্যবিয়ের প্রবণতা তো আছেই। শিক্ষা ব্যয় কমাতে না পারলে এ ঝরেপড়া ঠেকানো কঠিন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডর নবাগত চেয়ারম্যান প্রফেসর মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে গ্রহণে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কোনো পরীক্ষার্থী দেরি করে কেন্দ্র প্রবেশ করলে তাদের জন্য আলাদা রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর ও কারণের ব্যাখ্যা লিখে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়ার জন্য কেন্দ্র সচিবদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার হলে কেন্দ্র সচিব বাদে কেউ প্রশ্নপত্র খোলা ও কেউ মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। অন্য কারও কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।