অপরিকল্পিত খননে গোয়ালন্দে খালের পেটে পাকা সড়ক
jugantor
অপরিকল্পিত খননে গোয়ালন্দে খালের পেটে পাকা সড়ক

  হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ী  

০৯ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপরিকল্পিত খাল খননের কারণে রাজবাড়ী জেলার সীমান্তবর্তী গোয়ালন্দ উপজেলার চর আন্ধারমানিক রেললাইন-চরকৃষ্ণপুর থেকে সেলিম ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত বছর না পেরোতেই নির্মিত এলজিইডির পাকা সড়কের ২০০ মিটারের বেশি অংশ পাশের খালের পেটে ধসে চলে গেছে। প্রায় তিন মাস ধরে তিন চাকার যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধারমানিক রেললাইন-চরকৃষ্ণপুর হয়ে সেলিম ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত চেইনেজ ১০০০ মিটার থেকে ১৬৩৫ মিটার পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের পাকা কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করার পর গত বছর ১২ মে পোস্টওয়ার্ক গ্রহণপূর্বক চূড়ান্ত বিল প্রেরণ করে। রাস্তার দুই পাশে মাটির কাজ সম্পন্ন করা হয়। রাস্তার চে. ১৩৫০ থেকে ১৫৫০ মিটার পর্যন্ত অংশের বাম পার্শ্ব দিয়ে পদ্মা নদীর শাখা খাল প্রবাহিত হয়েছে। গত বর্ষার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই শাখা নদীতে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ঘেঁষে খাল পুনঃখনন করায় খালটি দিয়ে পানির তীব্র সে াতে রাস্তার ১৩৫০ থেকে ১৫৫০ মিটার অংশের পেভমেন্টসহ ভেঙে নিচে ধসে পড়ে।

সরেজমিন শনিবার দেখা যায়, এলজিইডির কার্পেটিংয়ের রাস্তাটি ছোটভাকলা ইউনিয়নের মাহমুদপুর, চরকৃষ্ণপট্টি ও চরআন্ধারমানিক তিনটি মৌজার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদীর শাখা খাল। রাস্তাটির বয়স এক বছর পার না হতেই পাশের খালে ধসে গেছে। রাস্তার ২০০ মিটারের বেশি অংশ খালে ধসে গেছে। রাস্তার পাশে রোপণ করা বেশ কিছু গাছ মাটিসহ ধসে গেছে। খালের বিপরিত পাশে স্থানীয়দের চাষাবাদকৃত জমি। সে জমি খালের ভেতর ধসে পড়েছে। এ সময় এলাকার লোকজন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে এলজিইডির গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী বজলুর রহমান খান বলেন, গত বর্ষার আগে পাউবোর খাল খননের পর সড়কের পাশ ধসে পড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মাটিসহ পাকা কার্পেটিং সড়ক ধসে এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে গত তিন-চার মাস ধরে তিন চাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে একাধিকবার পাউবোকে অবগত করেছি।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের খাল খনন প্রকল্পের আওতায় পাউবো খাল পুনঃখনন করেছে। এলজিইডির প্রকৌশলীর মাধ্যমে পাউবোকে অবগত করে প্রাথমিকভাবে মাটি ফেলে চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার যুগান্তরকে বলেন, রাস্তার অনেকটা খালের জায়গার মধ্যে। আমরা সংশ্লিষ্ট খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপ করে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পাইলিং করে মেরামতের ব্যবস্থা নিচ্ছি। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

অপরিকল্পিত খননে গোয়ালন্দে খালের পেটে পাকা সড়ক

 হেলাল মাহমুদ, রাজবাড়ী 
০৯ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অপরিকল্পিত খাল খননের কারণে রাজবাড়ী জেলার সীমান্তবর্তী গোয়ালন্দ উপজেলার চর আন্ধারমানিক রেললাইন-চরকৃষ্ণপুর থেকে সেলিম ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত বছর না পেরোতেই নির্মিত এলজিইডির পাকা সড়কের ২০০ মিটারের বেশি অংশ পাশের খালের পেটে ধসে চলে গেছে। প্রায় তিন মাস ধরে তিন চাকার যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গোয়ালন্দের ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর আন্ধারমানিক রেললাইন-চরকৃষ্ণপুর হয়ে সেলিম ডাক্তারের বাড়ি পর্যন্ত চেইনেজ ১০০০ মিটার থেকে ১৬৩৫ মিটার পর্যন্ত পাকা সড়ক নির্মাণ করা হয়। ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের পাকা কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ করার পর গত বছর ১২ মে পোস্টওয়ার্ক গ্রহণপূর্বক চূড়ান্ত বিল প্রেরণ করে। রাস্তার দুই পাশে মাটির কাজ সম্পন্ন করা হয়। রাস্তার চে. ১৩৫০ থেকে ১৫৫০ মিটার পর্যন্ত অংশের বাম পার্শ্ব দিয়ে পদ্মা নদীর শাখা খাল প্রবাহিত হয়েছে। গত বর্ষার আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই শাখা নদীতে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ঘেঁষে খাল পুনঃখনন করায় খালটি দিয়ে পানির তীব্র সে াতে রাস্তার ১৩৫০ থেকে ১৫৫০ মিটার অংশের পেভমেন্টসহ ভেঙে নিচে ধসে পড়ে।

সরেজমিন শনিবার দেখা যায়, এলজিইডির কার্পেটিংয়ের রাস্তাটি ছোটভাকলা ইউনিয়নের মাহমুদপুর, চরকৃষ্ণপট্টি ও চরআন্ধারমানিক তিনটি মৌজার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। পাশ দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদীর শাখা খাল। রাস্তাটির বয়স এক বছর পার না হতেই পাশের খালে ধসে গেছে। রাস্তার ২০০ মিটারের বেশি অংশ খালে ধসে গেছে। রাস্তার পাশে রোপণ করা বেশ কিছু গাছ মাটিসহ ধসে গেছে। খালের বিপরিত পাশে স্থানীয়দের চাষাবাদকৃত জমি। সে জমি খালের ভেতর ধসে পড়েছে। এ সময় এলাকার লোকজন চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এ বিষয়ে এলজিইডির গোয়ালন্দ উপজেলা প্রকৌশলী বজলুর রহমান খান বলেন, গত বর্ষার আগে পাউবোর খাল খননের পর সড়কের পাশ ধসে পড়তে থাকে। ধীরে ধীরে মাটিসহ পাকা কার্পেটিং সড়ক ধসে এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতি হয়েছে। ফলে গত তিন-চার মাস ধরে তিন চাকার গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে একাধিকবার পাউবোকে অবগত করেছি।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের খাল খনন প্রকল্পের আওতায় পাউবো খাল পুনঃখনন করেছে। এলজিইডির প্রকৌশলীর মাধ্যমে পাউবোকে অবগত করে প্রাথমিকভাবে মাটি ফেলে চলাচলের ব্যবস্থা ঠিক রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ সরকার যুগান্তরকে বলেন, রাস্তার অনেকটা খালের জায়গার মধ্যে। আমরা সংশ্লিষ্ট খাল পুনঃখনন প্রকল্পের ঠিকাদারের সঙ্গে আলাপ করে রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পাইলিং করে মেরামতের ব্যবস্থা নিচ্ছি। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন