শখের পেশায় সফল নারী উদ্যোক্তা লতা
jugantor
শখের পেশায় সফল নারী উদ্যোক্তা লতা

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)  

০৯ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শূন্য হাতে শুরু করে এখন সফল উদ্যোক্তা। তবে এই সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও আনন্দ সুখের অনেক কাব্য। তিনি বুটিক হাউসের স্বত্বাধিকারী ফাতেমা মাসুদ লতা। তিনি জানিয়েছেন শখ নিয়ে সময় কাটানো থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প। এমনিভাবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকনারায়ণপুর গ্রামে নকশিকাঁথা, বেড কভার, থ্রি-পিস, ফতোয়া, হ্যান্ডব্যাগ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বুটিক শিল্পের নারী শ্রমিকরা। এ কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্য নারী শ্রমিকরা।

চকনারায়ণপুর গ্রামে বুটিক কারখানায় কাজ করতে আসা জেসমিন খাতুন বলেন, একজন বুটিক সুচশিল্পী সপ্তাহে পারিশ্রমিক পান প্রায় দেড় হাজার টাকা। ফলে একজন শিল্পী মাসে আয় করতে পারেন প্রায় ছয় হাজার টাকা। তারা সংসারে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই কাজ করে যে টাকা পান, সেটা বাড়তি আয়।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে উপজেলার চকনারায়ণপুর গ্রামের ফাতেমা মাসুদ লতা নামের এই নারী মায়ের দেয়া দুই হাজার টাকা দিয়ে একটি শেলাই মেশিন কেনেন। তার বছর তিনেক পর ১৯৯৪ সালে বুটিক কুটির শিল্প করেন। বর্তমানে এ কারখানায় প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন। বর্তমানে কুটির শিল্পের নাম দেয়া হয়েছে আশার আলো মহিলা উন্নয়ন সংস্থা।

আশার আলো মহিলা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক ফাতেমা মাসুদ লতা বলেন, ছাত্রজীবন থেকে গ্রামের হতদরিদ্র নারীদের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখতাম। তাই ১৯৯০ সালে নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করি। নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এপলিক শাড়ি, নকশিকাঁথা, বেড কভার, কুশন কভার, ওয়ালমেট, রিং ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, টিফিন ব্যাগ, টুনি ব্যাগ-১, কলেজ ব্যাগ তৈরির কাজ শুরু করেন।

ইতিমধ্যে ফাতেমা খাতুন লতা নারী উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ওআইসিতে নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। তিনি ২০১১ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, এলাকায় বুটিক তৈরির কারখানা গড়ে ওঠায় অনেক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই শিল্পকে প্রসারিত করার উদ্যোগ নেয়া হলে প্রত্যন্ত গ্রামেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

শখের পেশায় সফল নারী উদ্যোক্তা লতা

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) 
০৯ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শূন্য হাতে শুরু করে এখন সফল উদ্যোক্তা। তবে এই সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও আনন্দ সুখের অনেক কাব্য। তিনি বুটিক হাউসের স্বত্বাধিকারী ফাতেমা মাসুদ লতা। তিনি জানিয়েছেন শখ নিয়ে সময় কাটানো থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প। এমনিভাবে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকনারায়ণপুর গ্রামে নকশিকাঁথা, বেড কভার, থ্রি-পিস, ফতোয়া, হ্যান্ডব্যাগ তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন বুটিক শিল্পের নারী শ্রমিকরা। এ কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্য নারী শ্রমিকরা।

চকনারায়ণপুর গ্রামে বুটিক কারখানায় কাজ করতে আসা জেসমিন খাতুন বলেন, একজন বুটিক সুচশিল্পী সপ্তাহে পারিশ্রমিক পান প্রায় দেড় হাজার টাকা। ফলে একজন শিল্পী মাসে আয় করতে পারেন প্রায় ছয় হাজার টাকা। তারা সংসারে অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এই কাজ করে যে টাকা পান, সেটা বাড়তি আয়।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে উপজেলার চকনারায়ণপুর গ্রামের ফাতেমা মাসুদ লতা নামের এই নারী মায়ের দেয়া দুই হাজার টাকা দিয়ে একটি শেলাই মেশিন কেনেন। তার বছর তিনেক পর ১৯৯৪ সালে বুটিক কুটির শিল্প করেন। বর্তমানে এ কারখানায় প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন। বর্তমানে কুটির শিল্পের নাম দেয়া হয়েছে আশার আলো মহিলা উন্নয়ন সংস্থা।

আশার আলো মহিলা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক ফাতেমা মাসুদ লতা বলেন, ছাত্রজীবন থেকে গ্রামের হতদরিদ্র নারীদের ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখতাম। তাই ১৯৯০ সালে নারীদের নিয়ে কাজ শুরু করি। নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এপলিক শাড়ি, নকশিকাঁথা, বেড কভার, কুশন কভার, ওয়ালমেট, রিং ব্যাগ, শপিং ব্যাগ, টিফিন ব্যাগ, টুনি ব্যাগ-১, কলেজ ব্যাগ তৈরির কাজ শুরু করেন।

ইতিমধ্যে ফাতেমা খাতুন লতা নারী উন্নয়নে উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ওআইসিতে নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। তিনি ২০১১ সালে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বর্তমানে উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা জানান, এলাকায় বুটিক তৈরির কারখানা গড়ে ওঠায় অনেক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ওই শিল্পকে প্রসারিত করার উদ্যোগ নেয়া হলে প্রত্যন্ত গ্রামেও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন