চাটমোহরে বেপরোয়া কিশোর বাইকচালক : বাড়ছে দুর্ঘটনা
jugantor
চাটমোহরে বেপরোয়া কিশোর বাইকচালক : বাড়ছে দুর্ঘটনা

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

০৯ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাটমোহরে কিশোর বাইকচালকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পৌর শহরের অলিগলিসহ প্রধান সড়কে প্রতিদিনই বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে তারা। আর এদের বেশিরভাগই স্কুল-কলেজের ছাত্র। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ছেন পথচলতি মানুষ। বেপরোয়া গতির কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনাও। প্রশাসনের তৎপরতা কমে যাওয়ার কারণে এদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গন্তব্যহীন পথে ছুটে চলে কিশোর-তরুণ ও যুবক শ্রেণির মোটরসাইকেল চালকরা। বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালকের নেই রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। চালক ও আরোহীদের মাথায় থাকে না হেলমেট। বিকট শব্দে হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে পথচারীদের গা ঘেঁষে পার হয়ে থাকে তারা। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কখনও দু’জন, আবার কখনওবা তিন থেকে চারজন মোটরসাইকেলে উঠে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। আর বেশিরভাগ চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক। এসব বাইকচালকের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে আনাগোনাই বেশি। অন্যদিকে বেপরোয়া গতির কারণে সড়কে চলাচলে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক, আরোহী ও পথচারীসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। পারিবারিক অসচেতনতা, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করা, পুলিশি তৎপরতা কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বেড়েই চলেছে এসব বাইকারের দাপট- এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। গত এক বছরে চাটমোহরে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে চাটমোহর-বাঘাবাড়ী সড়কের মধ্য শালিখা এলাকায় ট্রাক চাপায় প্রাণ হারান এইচএসসি পরীক্ষার্থী সামিউর রহমান সাম্য। আহত হন মাহফুজুর রহমান নামে অপর এক সহপাঠী। এরপর চাটমোহর-ছাইকোলা সড়কের বাওন বাজার এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় কলেজছাত্র আকাশ সরকার জয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র শান্ত হোসেন। এছাড়া অতি সম্প্রতি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন হৃদয় হোসেন নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, নতুন আইন হওয়ার পর কেস স্লিপ হাতে পাইনি। যে কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে বিষয়টি যেহেতু জানলাম সেহেতু পুলিশি অভিযান জোরদার করে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, বিষয়টি উদ্বেগজনক। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।

চাটমোহরে বেপরোয়া কিশোর বাইকচালক : বাড়ছে দুর্ঘটনা

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
০৯ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চাটমোহরে কিশোর বাইকচালকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পৌর শহরের অলিগলিসহ প্রধান সড়কে প্রতিদিনই বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছে তারা। আর এদের বেশিরভাগই স্কুল-কলেজের ছাত্র। অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে বিরূপ পরিস্থিতিতে পড়ছেন পথচলতি মানুষ। বেপরোয়া গতির কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ঘটছে প্রাণহানির মতো ঘটনাও। প্রশাসনের তৎপরতা কমে যাওয়ার কারণে এদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহর পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গন্তব্যহীন পথে ছুটে চলে কিশোর-তরুণ ও যুবক শ্রেণির মোটরসাইকেল চালকরা। বেশিরভাগ মোটরসাইকেল চালকের নেই রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্স। চালক ও আরোহীদের মাথায় থাকে না হেলমেট। বিকট শব্দে হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে দ্রুতগতিতে পথচারীদের গা ঘেঁষে পার হয়ে থাকে তারা। এতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কখনও দু’জন, আবার কখনওবা তিন থেকে চারজন মোটরসাইকেলে উঠে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। আর বেশিরভাগ চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক। এসব বাইকচালকের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে আনাগোনাই বেশি। অন্যদিকে বেপরোয়া গতির কারণে সড়কে চলাচলে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক, আরোহী ও পথচারীসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। পারিবারিক অসচেতনতা, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করা, পুলিশি তৎপরতা কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বেড়েই চলেছে এসব বাইকারের দাপট- এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। গত এক বছরে চাটমোহরে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। এর মধ্যে চাটমোহর-বাঘাবাড়ী সড়কের মধ্য শালিখা এলাকায় ট্রাক চাপায় প্রাণ হারান এইচএসসি পরীক্ষার্থী সামিউর রহমান সাম্য। আহত হন মাহফুজুর রহমান নামে অপর এক সহপাঠী। এরপর চাটমোহর-ছাইকোলা সড়কের বাওন বাজার এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় কলেজছাত্র আকাশ সরকার জয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির ছাত্র শান্ত হোসেন। এছাড়া অতি সম্প্রতি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন হৃদয় হোসেন নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। জানতে চাইলে চাটমোহর থানার ওসি সেখ নাসীর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, নতুন আইন হওয়ার পর কেস স্লিপ হাতে পাইনি। যে কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে বিষয়টি যেহেতু জানলাম সেহেতু পুলিশি অভিযান জোরদার করে এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান বলেন, বিষয়টি উদ্বেগজনক। শিগগিরই অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন