বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা
jugantor
বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা
রানীনগরের মুক্তিযোদ্ধা চুলদাড়ি কাটেন না ৪৫ বছর

  নওগাঁ প্রতিনিধি  

১১ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন (৬৭)। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে ৪৫ বছর ধরে চুলদাড়ি কাটেন না তিনি। এমনকি মাথায় তেল ও চিরুনি করেন না। তার বাড়ি রানীনগর উপজেলার আনালিয়া খলিসাকুড়ি গ্রামে। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ক্রমিক নং-৫৯ হলেও সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত তিনি। নিঃসন্তান এ মুক্তিযোদ্ধা স্ত্রী মাজেদাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমসহ সবার রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার শরীরের যত্ন নেবেন না বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, আনালিয়া খলিসাকুড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শত্র“মুক্ত করার লক্ষ্যে ভারতের শিলিগুড়ি ও মধুপুর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। পরে যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার উপজেলার সিম্বা গ্রামের মৃত তসলিম উদ্দিনের অধীনে যুদ্ধ করেন। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান না তিনি। কয়েক বছর আগে একবার জেলা সদরে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলায় তাকে দাওয়াতপত্র দেয়া হয়েছিল। তিনি কয়েক দফায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তের আবেদন করেও তালিকায় স্থান পাননি। নিজের পৈতৃক কোনো জমিজমা না থাকায় শ্বশুরবাড়িতে এক খণ্ড জমিতে একটি মাটির ঘরে তার বসবাস। তার শয়ন ঘরের চারদিকে বঙ্গবন্ধুর ছবি আর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যানার পোস্টার। মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু যখন সোনার বাংলা গড়ার জন্য ব্যস্ত ঠিক সেই সময় ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাকেসহ সপরিবারকে হত্যা করা হয়। হত্যার খবর জানার পর ভালোবাসার টানে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মেজর ডালিমসহ সবার রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত চুলদাড়ি কাটব না। জহির উদ্দিনের সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান বলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন তিনি আমার সঙ্গেই ছিলেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত তার কপালে সরকারি সুযোগ-সুবিধা জোটেনি। তিনি অভাব অনটনের মধ্যে রয়েছেন। রানীনগর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন বলেন, তার নাম আমি কখনও শুনিনি। তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না বা তার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসা

রানীনগরের মুক্তিযোদ্ধা চুলদাড়ি কাটেন না ৪৫ বছর
 নওগাঁ প্রতিনিধি 
১১ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন (৬৭)। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা থেকে ৪৫ বছর ধরে চুলদাড়ি কাটেন না তিনি। এমনকি মাথায় তেল ও চিরুনি করেন না। তার বাড়ি রানীনগর উপজেলার আনালিয়া খলিসাকুড়ি গ্রামে। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ক্রমিক নং-৫৯ হলেও সরকারি ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত তিনি। নিঃসন্তান এ মুক্তিযোদ্ধা স্ত্রী মাজেদাকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনি মেজর ডালিমসহ সবার রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার শরীরের যত্ন নেবেন না বলে জানিয়েছেন। জানা গেছে, আনালিয়া খলিসাকুড়ি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন ৭ মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শত্র“মুক্ত করার লক্ষ্যে ভারতের শিলিগুড়ি ও মধুপুর ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নেন। পরে যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার উপজেলার সিম্বা গ্রামের মৃত তসলিম উদ্দিনের অধীনে যুদ্ধ করেন। উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান না তিনি। কয়েক বছর আগে একবার জেলা সদরে মুক্তিযোদ্ধাদের মিলনমেলায় তাকে দাওয়াতপত্র দেয়া হয়েছিল। তিনি কয়েক দফায় মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তের আবেদন করেও তালিকায় স্থান পাননি। নিজের পৈতৃক কোনো জমিজমা না থাকায় শ্বশুরবাড়িতে এক খণ্ড জমিতে একটি মাটির ঘরে তার বসবাস। তার শয়ন ঘরের চারদিকে বঙ্গবন্ধুর ছবি আর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যানার পোস্টার। মুক্তিযোদ্ধা জহির উদ্দিন বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু যখন সোনার বাংলা গড়ার জন্য ব্যস্ত ঠিক সেই সময় ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট তাকেসহ সপরিবারকে হত্যা করা হয়। হত্যার খবর জানার পর ভালোবাসার টানে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম মেজর ডালিমসহ সবার রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত চুলদাড়ি কাটব না। জহির উদ্দিনের সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা শামসুর রহমান বলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধকালীন তিনি আমার সঙ্গেই ছিলেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত তার কপালে সরকারি সুযোগ-সুবিধা জোটেনি। তিনি অভাব অনটনের মধ্যে রয়েছেন। রানীনগর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইসমাইল হোসেন বলেন, তার নাম আমি কখনও শুনিনি। তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না বা তার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন