করোনা হুমকিতে চা শ্রমিক

কাল থেকে বাগান বন্ধের হুমকি নেতাদের

  চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ), বড়লেখা ও জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সারা দেশে ছুটি ঘোষণা করা হলেও চুনারুঘাটে ২৪টি চা বাগানের প্রায় ৪০ হাজার চা শ্রমিক পাচ্ছেন না ছুটি। তাদের দেয়া হচ্ছে না সচেতনতামূলক কোনো পরামর্শও। এসব শ্রমিকদের ব্যাপারে বাগান কর্তৃপক্ষ উদাসীন। যে কারণে শ্রমিকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। ছুটির জন্য চা শ্রমিক বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেও না পেয়ে মঙ্গলবার থেকে সব চা বাগান বন্ধ করে দেবেন জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্মসম্পাদক নৃপেন পাল। জানা যায়, ছুটির দাবিতে শুক্রবার অনশন করেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে চা শ্রমিকরা। লস্করপুর ভ্যালির বিভিন্ন বাগানের শ্রমিক এবং বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন বিভাগীয় শ্রম দফতরে উপ-পরিচালক বরাবর ছুটির আবেদন করেছেন। কয়েকটি বাগান ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকরা কাজে এসেছেন। আর কাজ না করলে খাবার জুটবে কই থেকে। মালিক ও বড় বাবুরা ঘরে বসিয়ে টাকা দেবে না। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্মসম্পাদক নৃপেন পাল জানান, কাল (মঙ্গলবার) থেকে কোনো চা শ্রমিক আর কাজে যাবে না। চা শ্রমিক আদিবাসী ফোরামের সভাপতি স্বপন সাওতাল জানান, চা বাগানের মালিক পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ। দেশের সব কিছু বন্ধ ঘোষণা করা হলেও এখনও ছুটি পায়নি উপজেলার চা শ্রমিকরা। ভ্যালির সভাপতি ও চণ্ডিছড়া চা বাগান সিনিয়র ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম জানান, বাগান বন্ধের বিষয়ে সরকার থেকে তারা কোনো নির্দেশনা পাননি। তবে বহিরাগত মানুষের আনাগোনা বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, আমরা চা শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য যা যা করা দরকার তাই করছি, তাদের মাস্ক দিচ্ছি, সাবান দিচ্ছি। সন্ধ্যা ৬টার পর বাগানে মদের দোকান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইউএনও সত্যজিত রায় দাশ জানান, চা শিল্প রয়েছে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এ বিষয়ে এখনও আমরা কোনো নির্দেশনা পাইনি।

এদিকে বড়লেখায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ সরকারের দেয়া নির্দেশনা মানা হচ্ছে না রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন নিউ সমনবাগ ও পাথারিয়াসহ ১৭টি বেসরকারি চা বাগানে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত না করেই তাদেরকে দিয়ে টিলা, ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন স্থানে কাজ করানো হচ্ছে। খোলা রাখা হয়েছে বাগানের কার্যালয়, চলছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন প্রায় ৭ হাজার চা শ্রমিক, কমর্চারী ও কর্মকর্তা। বাংলাদেশ টি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাবিুবর রহমান চা বাগানকে দ্রুত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির আওতাভুক্ত করতে ২৬ মার্চ শ্রম দফতরের উপ-পরিচালক বরাবরে দরখাস্ত করেছেন। নিউ সমনবাগ ও পাথারিয়া চা বাগানে প্রায় ২ হাজার নিয়মিত শ্রমিক ও শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত। শনিবার ও রোববার কথা হয় নারী চা শ্রমিক অমি সাওতাল, শিলা রিকমুন, যমুনা রিকমুন, নমিতা কৃষ্ণ গোয়ালা, মিনা রিকমুন প্রমুখ জানান, ‘শুনছি দেশে কি একটা কঠিন অসুখ এসেছে, সরকার সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে, আমাদের বাগানতো বন্ধ দেয়নি তাই কাজে যাচ্ছি।’ নিউ সমনবাগ চা বাগানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী খান ও পাথারিয়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক শাহিদ নেওয়াজ জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও এ ব্যাপারে টি বোর্ডের কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। বাংলাদেশ টি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে চা শ্রমিক ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

অপরদিকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে করা হয়েছে লকডাউন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি সব দফতর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সবকিছু যেখানে বন্ধ করা হয়েছে সেখানে চা বাগানগুলো ব্যতিক্রম। বাগানের সব কার্যক্রম ও হাটবাজার স্বাভাবিক ভাবেই চলছে। সরেজমিন জুড়ী উপজেলার বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগান শ্রমিকরা আগের মতো দলবেঁধে, পাতা উত্তোলন, জমাটবদ্ধ হয়ে দুপুরের খাবার খাওয়া ও মাথায় পাতার বোঝা নিয়ে গন্তব্যে ফিরছেন। চা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাস সম্পর্কে তাদের অনেকের কোনো ধারণা নেই। বস্তি এলাকায় লোকজন অনেকটা সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন করলেও চা শ্রমিকদের অজ্ঞতায় বাগানগুলো করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিষয়ে ধামাই চা বাগানের ব্যবস্থাপক গোপাল শিকদার বলেন, শ্রমিকদের কোনো ছুটি দেয়া হয়নি। রোববার থেকে বাগানের বাজার বন্ধ করা হয়েছে। কাপনাপাহাড় চা বাগান ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, সব শ্রমিককে মাস্ক ও সাবান দেয়া হয়েছে। তাছাড়া শ্রমিকরা দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত