সরকারি সহায়তা অপ্রতুল

বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

  শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ), পত্নীতলা (নওগাঁ) ও গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের প্রভাবে কাজকর্ম বন্ধ থাকায় শায়েস্তাগঞ্জে নিম্ন আয়ের লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন। রিকশাচালক, সিএনজি অটোরিকশাচালক, টমটমচালক, দিনমজুর, হোটেল কর্মচারী, রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি এসব পেশার মানুষ খুব কষ্টের মাঝে দিনাতিপাত করছেন। অঘোষিত লকডাউনের কারণে নিম্ন আয়ের লোকজন কাজে যেতে পারছেন না। হাতে যা ছিল তাও শেষ। নতুন করে রোজগার করতে না পারায় খেয়ে বেঁচে থাকাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে মানুষজনের। কথা হয় শায়েস্তাগঞ্জের দাউদনগর এলাকার গ্রামের দিনমজুর সমির হোসেনের সঙ্গে। সারাদিন বিভিন্ন স্থানে দিনমজুরের কাজ করে আহার জোটে সমির হোসেন ও তার পরিবারের। দিনমজুরের কাজ করে প্রতিদিন পেতেন ৩০০-৩৫০ টাকা। তা দিয়ে কোনো রকমে দিনযাপন করেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর বিপাকে পড়েছেন তিনি। ২৬ মার্চ থেকে কেউ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। মানুষ বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় রোজগার নেই বললেই চলে হোসান আলীর। শুধু হাসান আলীর নয় এরকম দুরবস্থা সব ধরনের শ্রমজীবী মানুষের। এদিকে এসব দিনমজুর পাননি কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা। শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. ছালেক মিয়া বলেন, আমার পৌরসভার ২৫ ভাগ মানুষ নিম্ন আয়ের। আমি ইতোমধ্যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নগদ অর্থ সহায়তা প্রধান শুরু করে দিয়েছি। ইউএনও সুমী আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসনের চাল সহায়তা ইতোমধ্যে আমি বণ্টন করেছি। আমি আরও বরাদ্দের জন্য চেষ্টা করছি। এদিকে সারা দেশের মতো নওগাঁর পত্নীতলায় চলছে অঘোষিত লকডাউন। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও নিজেদের নিরাপত্তার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষ। ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ফুটপাতের দোকানপাট ও চায়ের দোকান। রাস্তায় জনসমাগম কম থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে রিকশা-ভ্যানচালকের আয়। এ অবস্থায় প্রান্তিক খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির মানুষ চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন। ঋণের কিস্তি বন্ধ থাকলেও পরিবার-পরিজনের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের সংস্থান করাই তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংকটকালীন সময়ে জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য এ খেটে খাওয়া মানুষগুলো সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। ২৫ মার্চ থেকে স্থানীয় প্রশাসন দোকনপাট বন্ধ করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাহিরে না যাওয়ার জন্য মানুষকে আহ্বান জানায়। এ কারণে বন্ধ হয়ে পড়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও জনচলাচল। রাস্তায় সীমিত হয়ে পড়ে যান চলাচল। বন্ধ হয়ে গেছে দূরপাল্লাসহ লোকার গাড়ি। জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি উপজেলার যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়ার মানুষের আয়। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। এ বিষয়ে ক্ষুদে ব্যবসায়ী ছালাম জানান, ব্যবসা ছোট হওয়ায় তিনি প্রতিদিন মহাজনের কাছ থেকে মালামাল ক্রয় করে বিক্রি করতেন। কিন্তু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ায় তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন দিনমজুর ও ক্ষুদে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বললে তারা একই ধরনের কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খাদ্য সংকট নিরসনে সরকারিভাবে সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন সরকার জানান, সরকারিভাবে জেলাভিত্তিক বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। দু’তিনদিনের মধ্যে এ বরাদ্দ হাতে পেলে তারা বিতরণ করতে পারবেন।

অপরদিকে করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিলেটের গোলাপগঞ্জের খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। একদিকে কাজ নেই, অন্যদিকে বাজারে দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির ফলে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এসব অসহায় লোকজন। উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকানপাট। এমন অবস্থায় লোকজন কাজ ছাড়া তেমন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

এছাড়া বাজারে মালামাল না আসার কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে দেড় থেকে দুইগুণ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শবনম শারমিন জানান, আমনি আমুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি অসহায় লোকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা অসহায় লোকদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত