ধর্মপাশায় লাখ টাকার ধানরক্ষায় ৭২ লাখ টাকার প্রকল্প

  সুনামগঞ্জ ও ধর্মপাশা প্রতিনিধি ২০ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগরে একটি হাওরের ফসল রক্ষায় অপ্রয়োজনীয় বাঁধে অর্থ অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মধ্যনগর থানার চামরদানী ইউনিয়নের জিনাইরা হাওরে এমনটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র লাখ টাকার ধান রক্ষায় ওই হাওরে তিনটি অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ৭২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বাঁধগুলো শুধু জিনাইরা নয় বৃহৎ গুরমারসহ আশপাশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ হাওর রক্ষার কাজে আসবে।

স্থানীয়রা জানান, মধ্যনগরের গুরমার হাওরের অংশ জিনাইরা হাওরে যে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে সেগুলো হল- ধর্মপাশা উপজেলার পিআইসি নং-৩, সভাপতি বিনয় সরকার, প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ৭০০ মিটার, বরাদ্দ ২৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা; পিআইসি নং-৫২, সভাপতি রাকেশ সরকার, প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১৩০০ মিটার, বরাদ্দ ২৪ লাখ ৬৫ হাজার ৮০০ টাকা; পিআইসি নং-৫৩, সভাপতি চিত্তরঞ্জন ভূঁইয়া, প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১৭০০ মিটার, বরাদ্দ ২২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। জিনাইরা হাওরে তিনটি অপরিকল্পিত প্রকল্পের আওতায় ৬/৭ কেদার মধ্যম ফলনশীল বোরো জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। এসব জমিতে খুব ভালো ফলন হলে ৮০-৯০ মণ ধান হতে পারে। এই সামান্য ফসল রক্ষায় ৭২ লাখ টাকার অপরিকল্পিত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। আসলে হাওর রক্ষার কাজে এসব বাঁধ কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। তিনটি প্রকল্পের কাজই প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় চামরদানী ইউপি চেয়ারম্যান ও তিন পিআইসির সভাপতি জানালেন, জিনাইরা হাওরে এ বছর মাত্র ৬/৭ কেদার জমি চাষ করা হয়েছে। জিনাইরা হাওরের যে স্থানে বাঁধ দেয়া হয়েছে, সেখানে বাঁধ না দিয়ে গুরমার হাওরের স্লুুইস গেট থেকে সোজা উত্তর দিকে উঁচু করে একটা বাঁধ নির্মাণ করা হলে পুরো এলাকার কৃষকদের উপকার হতো। সেখানে ২৫-৩০ লাখ টাকার বাঁধ নির্মাণ করলেই হয়ে যেত। এত টাকার বাঁধ নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না। বাঁধ নির্মাণে সরকারের অর্থের অপচয় করা হয়েছে। উল্লিখিত প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসে ‘হাওর বাঁচাও, সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘এই ছোট হাওরটি বৃহৎ গুরমার হাওরের আওতাধীন। এখানে এত টাকা খরচ করে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো প্রয়োজন ছিল না। যে স্থানে বাঁধ দেয়ার কথা, সেখানে দেয়া হয়নি। ওই বাঁধের ভাটিতে একটি বাঁধ দিলে ওই হাওরের সম্পূর্ণ ফসল রক্ষা করা সম্ভব হতো। একটি বাঁধ দিলে ব্যয়ের পরিমাণ কমে আসত। এসব প্রকল্প অপরিকল্পিত-অপ্রয়োজনীয় ও সরকারি অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

পিআইসির সভাপতি ও স্থানীয় কৃষকরা জানান, এলাকার অনেকেই এখানে বাঁধ না দিয়ে গুরমার হাওরের স্লুইস গেট থেকে সোজা উত্তর দিকে বাঁধ দেয়ার জন্য পাউবোর এসওকে অনুরোধ করেছিলেন। সেখানে বাঁধ করা হলে টাকাও কম লাগত। কিন্তু স্থানীয়দের কথা না মেনে কিছু জমির ধান রক্ষার জন্য এখানেই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন, ‘এই বাঁধের ভেতর ৬/৭ কেদার বোরো জমি চাষাবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম সোমবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, এ বাঁধগুলো শুধু জিনাইর হাওর রক্ষার জন্য করা হয়নি। এটা গুরমার হাওরের প্রবেশমুখ। জিনাইর গুরমার হাওরের একটা অংশ। গুরমার হাওরে ২৭০ হেক্টর ফসল ফলানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter