গৌরীপুরে ২২ কার্ডধারী নারীর চাল গায়েব

  গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ০৭ জুন ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নে ২২ কার্ডধারী ১৭ মাসের ১৫ হাজার ৪৪০ কেজি চাল গায়েব হয়ে গেছে। দু’মাসের ৩২৮ জন কার্ডধারী ঈদের আগে চাল পায়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্তরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ৩ মে এ অভিযোগ করেন। ভিজিডি কর্মসূচির অধীনে প্রত্যেক মহিলাকে ৩০ কেজি করে প্রতিমাসে চাল বরাদ্দ দেয়। জানা যায়, জনপ্রতিনিধিদের দেয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদফতর। এ বিভাগের কর্মকর্তার উদাসীনতায় এ কর্মসূচিতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাভোগী চাল বঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তে জানা যায়, বোকাইনগর ইউনিয়নের মিরিকপুর গ্রামের মিলন মিয়ার স্ত্রী রেনু আক্তার। তালিকায় ১৮৮নং ক্রমিকে নাম রয়েছে। মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী এ কার্ডধারীকে দেয়া হয়েছে ১৭ মাসে ৫১০ কেজি চাল। রেনু আক্তার বিস্মৃত, তার নাম আছে তিনি জানেন না। তার স্বামী মিলন মিয়া বলেন, গত মাসেও চেয়ারম্যানকে ভোটার আইডির ফটোকপি দিয়ে আসছেন। ভিজিডির নতুন তালিকায় নাম দেয়ার জন্য। একই গ্রামের ১৮৮নং কার্ডধারী সায়মা আক্তার লিপি, ১৭৪নং শেফালী আক্তার ও ১৮০নং মুর্শিদা আক্তারও তালিকায় নাম থাকলেও চাল পায়নি। মুর্শিদা আক্তার জানান, গত ২০১৭-১৮ ভিজিডি চক্রের তার নাম ছিল। ওই ২৪ মাসের ৭২০ কেজি চাল কে উত্তোলন করল জানা নেই; এবার দু’মাসে ৬০ কেজি চাল পাওয়ার পর গতবার নাম থাকায় কার্ড নিয়ে গেছে। তিনিও এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। জানা যায়, বোকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহের অনুকূলে ৩২৮ জনের ৯.৮৪ টন বরাদ্দকৃত। চালের বরাদ্দ মার্চেরটা ২৪ মার্চ, এপ্রিল মাসের বরাদ্দ ৬ এপ্রিল, মে মাসের বরাদ্দ ৪ মে এবং জুনের বরাদ্দ ৩ জুন দেয়া হয়েছে। খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদার জানান, মার্চের চাল ৩১ মার্চ, এপ্রিলের চাল ৩০ এপ্রিল ও মে মাসের চাল ১৩ মে বিতরণ করা হয়েছে। কার্ডধারীদের বিতরণ বিবরণীতে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসের চাল বিতরণ করা হয়েছে ৮ এপ্রিল, ফেব্রুয়ারি আর মার্চ মাসের চাল বিতরণ করা হয়েছে ৭ মে। এ প্রসঙ্গে বোকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহ জানান, কেউ চাল পায়নি এ অভিযোগ আমাকে জানায়নি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ১৭ মাসের চাল এক সঙ্গে দিয়ে দেব। দু’মাসের চাল উত্তোলন হয়ে থাকলে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে আছে, দিয়ে দেব। ইউপি সদস্য আজিজুল হক বলেন, অভিযোগকারীদের অনেকেই চাল পাচ্ছে। আমার দেয়া তালিকায় কেউ বঞ্চিত হয়নি। মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা বেগম আকন্দ জানান, চেয়ারম্যানকে বারবার তাগিদ দেয়ার পরেও চাল দিচ্ছেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর জানান, বরাদ্দবঞ্চিত নারীদের একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের জন্য মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত