নওগাঁয় অডিটোরিয়াম কাম-মাল্টিপারপাস হল

নির্মাণকাজে অনিয়ম

  নওগাঁ প্রতিনিধি ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁয় ‘এক হাজার আসনবিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম-মাল্টিপারপাস হল’ নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। জেলা পরিষদের তথ্য সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের বাস্তবায়নে নওগাঁর ইথেন-কেএসএ-টিটিএসএল জয়েন্ট ভেঞ্চার নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘এক হাজার আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম-মাল্টিপারপাস হল’ নির্মাণের দায়িত্ব পায়।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ২২ জুন কাজের সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইমন শেখসহ দু’জন একটি প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ মার্চ কাজের প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনকালে দেখা যায় প্রকল্পের পশ্চিম পাশে বড় বড় ডিস মাটি দ্বারা ভরাট হয়েছে। মাটিগুলো এঁটেল মাটি ছিল। এ ধরনের মাটি দ্বারা কেন ভরাট করা হচ্ছে? জানতে চাইলে ঠিকাদার পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরবর্তীতে স্পেসিফিক সয়েল দ্বারা মাটি ভরাটের কাজ করা হবে। ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যে এঁটেল মাটি দ্বারা ওই স্থান দ্রুত ভরাট করা হয়। আনুমানিক আরও চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতা ভরাট অবস্থা রয়েছে। ওই ভরাটের উপর ফ্লোরটি আরসিসি স্লাব দ্বারা নির্মাণ ধরা হয়েছে। মাটির কাজটি স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সংশোধনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অবহিত করা যেতে পারে।

ইথেন-কেএসএ-টিটিএসএল জয়েন্ট ভেঞ্চার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ইকবাল শাহরিয়ার রাসেল বলেন, কাজে কোনো ধরনের মরিচা ধরা রড ব্যবহার করা হয়নি। রডগুলো নতুন ছিল। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘসময় কাজ বন্ধ থাকায় এমনটি হয়েছে। এছাড়া মরিচা ধরলেও কোনো সমস্যা হয় না। কাঠের সার্টার ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে স্টিলের সার্টার ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর থেকে স্টিল সার্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া গ্রেডেশনের কারণে এক ধরনের পাথর ব্যবহার করা যায় না। এ কারণে দুই-তিন ধরনের পাথর ব্যবহার করতে হয়। এছাড়া ভরাটে কি ধরনের মাটি ব্যবহার করতে হবে শিডিউলে তা উল্লেখ করা হয়নি। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী যা প্রয়োজন সে ধরনের মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার অ্যাক্ট ডাক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রকৌশলী মো. সাইমন শেখ বলেন, কাঠের সার্টারিং আগে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে এখন স্টিলের সার্টার তৈরি করা হচ্ছে। করোনার ছুটিতে আমাদের অনুপস্থিতিতে ভরাটে এঁটেল মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এছাড়া বালু ও পাথরের গুণগতমান পরীক্ষা করা হয়েছে। কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি বলে জানান তিনি। নওগাঁ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম ফজলে রাব্বি বলেন, রডগুলো বৃষ্টিতে ভিজে ও রোদে পুড়ে মরিচা ধরেছে। এছাড়া ভালো পাথরের সঙ্গে খারাপ পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টিলের সার্টারিং ব্যবহার করার নিয়ম থাকলেও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। করোনাকালে কাজ বন্ধ থাকার সুযোগে ভরাট কাজে এঁটেল মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ তদারকিতে যে দু’জন কনসালটেন্ট ছিল তাদের গাফিলতি থাকলেও থাকতে পারে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত