রায়পুরে পরিবহন খাতে মাসে অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজি

কিছু সংগঠনের নেতার হাতে জিম্মি এসব স্ট্যান্ড

  রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি ০১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লক্ষ্মীপুর-রায়পুরে পরিবহন খাতে প্রতি মাসে অর্ধকোটি টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। বাস, ট্রাক, টেম্পো, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও ট্রলির পাঁচটি স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন এ চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। সরকারদলীয় কিছু সংগঠনের নেতার হাতে জিম্মি এসব স্ট্যান্ড। চাঁদার ভাগ যায় বড় নেতা, পাতি নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। মাঝে মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধরপাকড় হলেও পুনরায় শুরু হয় জিপির নামে চাঁদা উত্তোলন। পরিবহন মালিক ও চালকদের অভিযোগ, প্রতিটি বাস ও সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির নামে বিভিন্ন সংগঠন। সিএনজি অটোরিকশা ও বাস মালিকরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি স্ট্যান্ডকে ঘিরে স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ নামধারীরা স্বঘোষিত মালিক ও শ্রমিক নেতা সেজে কমিটি গঠন করে রেখেছেন। প্রতিটি স্ট্যান্ডে রয়েছে তাদের লাইনম্যান। এরা নির্ধারিত হারে বাস, ট্রাক, মাইক্রো, ট্রলি, সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করে থাকেন। চাঁদা পরিশোধ না করে কারও পক্ষে স্ট্যান্ড ব্যবহার করা সম্ভব নয়। রায়পুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসমাইল খোকনের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, বৈধ ইজারার মাধ্যমে তিন স্ট্যান্ড থেকে টাকা তোলা হচ্ছে। এ টাকা পৌরসভার উন্নয়নে খরচ করা হয়। চলতি মাসে নতুন করে ইজারা আহ্বানের কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে তা বন্ধ রয়েছে। রায়পুর পরিবহন সেক্টরের খোঁজখবর রাখেন এমন লোকজন জানান, বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। পরিবহনে চাঁদাবাজির সবচেয়ে বড় খাত সিএনজি অটোরিকশা। রায়পুর থেকে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও চৌমুহনী সড়কের বিভিন্ন জায়গায় ৮২টি আনন্দ পরিবহনের প্রতিটি গাড়িকে প্রতিদিন রায়পুরে ১১৫ টাকাসহ ৬৩৫ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। রায়পুর থেকে চট্টগ্রাম সড়কে ৪৭টি ও ঢাকা সড়কে ৪০ জোনাকি পরিবহন এবং ৫০টি শাহী পরিবহনের প্রতিটি গাড়িকে ২০ ও ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। রায়পুর থেকে ঢাকা সড়কে চলাচলকারী ৩০টি ঢাকা এক্সপ্রেস বাস থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। রায়পুর থেকে কুমিল্লা সড়কে ১০টি বোগদাদ পরিবহনকে প্রতিটির জন্য ৯০ টাকা করে দিতে হয়। প্রায় ১২০টি মাইক্রোবাসকে প্রতিদিন প্রতিটির জন্য চাঁদপুরে ৮০০ ও লক্ষ্মীপুরে ট্রাফিক বিভাগকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। রায়পুর ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী দুই শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাককে প্রতিটির জন্য ৭০ থেকে ১২০ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। ছোট-বড় পণ্যবাহী যানবাহন থেকে পৌরসভা কর্তৃক নির্ধারিত ১০/১৫ টাকা হারে নেয়ার নির্দেশনা থাকলেও ইজারাদার ওহীদ উল্লাহ তার ছয়জন লাইনম্যানের মাধ্যমে ৪০, ৭০ ও ১২০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছেন। লক্ষ্মীপুর বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) অনুজচন্দ বলেন, জেলায় সিএনজি আটোরিকশার লাইসেন্স আছে ৭ হাজার ২০০টি। অথচ এর বাইরেও হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে থাকে স্ট্যান্ড কমিটিকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে। গত মে মাসে অভিযান হয়নি। তাছাড়া প্রতি মাসেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনা হয়ে থাকে। কোনো চালক বা লোককে লাইসেন্স পেতে হয়রানি করা হয় না বলে দাবি তার। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ দেশে করোনার আগে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তবে করোনায় সময়ে তা বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতা না পেলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না। সহকারী পুলিশ সুপার (রায়পুর ও রামগঞ্জ সার্কেল) স্পীনা রানী প্রামাণিক জানান, গত আট দিন আগে সড়কে পরিবহন থেকে চাঁদা উত্তোলনের বিষয়ে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে সতর্ক করেছিলেন। পরিবহন মালিকরা অভিযোগ করলে পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, স্ট্যান্ডে কোনো চাঁদাবাজি হয় না। রায়পুর পৌরসভা থেকে গত জুন মাসে ২২ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে ১০ ও ২০ টাকা করে জিপি উত্তোলন করছি। রায়পুর-হায়দরগঞ্জ ও আলোনিয়া সড়ক নিয়ন্ত্রণকারী সাবেক যুবলীগ নেতা শফিক খান বলেন, ৩ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে ১০ টাকা করে উত্তোলন করছি। রায়পুর-চাঁদপুর-রামগঞ্জ-মীরগঞ্জ ও গাজীনগর সড়ক নিয়ন্ত্রণকারী মো. ডালিম একই বক্তব্য দিয়েছেন। লক্ষ্মীপুর পরিবহন শ্রমিক নেতা শাহজাহান হাজী বলেন, করোনার সময় প্রায় পরিবহন বন্ধ রয়েছে। আনন্দ পরিবহন থেকে যে জিপির টাকা তোলা হয় তা বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়। অতিরিক্ত টাকা নেয়ার সুযোগ নেই।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত