নেত্রকোনায় নৌপথে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি

  নেত্রকোনা প্রতিনিধি ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে জনজীবন থমকে গেলেও নেত্রকোনার নৌপথে অবাধে চলছে চাঁদাবাজি। জেলার খালিয়াজুরীর ধনু নদের বিভিন্ন স্থানে পাথর, কয়লা ও বালুবাহী বলগেট (ইঞ্জিনচালিত বড় নৌকা) থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চাঁদাবাজি। অভিযোগে জানা গেছে, সিলেটের ছাতক, জাফলং থেকে নৌপথে বলগেটে করে পাথর, কয়লা ও সিলেটর বালু নেয়া হয় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে। এমনকি বরিশাল, পটুয়াখালী পর্যন্ত যায় এ পাথর, কয়লা ও বালু। সিলেট থেকে যাওয়ার পথে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর ধনু নদের গাগলাজুর, আসদপুর, নাওটানাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ-পুলিশের নাম করে এবং স্থানীয় কিছু লোক আর কাটি (সীমানা নির্ধারণী বাঁশের খুঁটি) স্থাপনের কথা বলে ওইসব বলগেট থেকে ৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে বলগেটের চালকদের মারধর করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বলগেট চালক বলেন, মাঝে মধ্যে আমাদের সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয়। সন্ত্রাসীদের ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া বাজারের ময়না মিয়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এসব নিয়ন্ত্রণ করেন। ময়না মিয়া চাঁদাবাজির কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আর কাটি’ না দিলে সীমানা হারিয়ে নৌকার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য বাঁশের খুঁটি দিয়ে নৌকাপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা নেয়া হয়। বিষয়টি বলগেট মালিকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই নেয়া হচ্ছে। লেপসিয়া বাজারের নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, বারবার প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো সুফল হয়নি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চাঁদাবাজি চলে। চাঁদাবাজির বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। লেপসিয়া নৌ-পুলিশের ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কিছু দিন ধরে নৌ-পুলিশ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এলাকায় অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ যদি নৌ-পুলিশের কথা বলে চাঁদাবাজি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। সড়ক ও নৌপথে কোনো ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজি চলতে দেয়া হবে না। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি বন্ধের জন্য নৌ-পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। হাওর উপজেলা খালিয়াজুরীতে চাঁদাবাজির কথা শুনেছি। চাঁদাবাজিসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে নৌ-পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ কাজ করছে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত