বিরামপুরে নছির খুনের রহস্য উদ্ঘাটন

পরিকল্পিত চুরি, অপরিকল্পিত হত্যা

  বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিরামপুরে নছির উদ্দিন খুনের রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি করতে গিয়ে চোরচক্রের হাতে অপরিকল্পিতভাবে খুনের শিকার হয়েছেন তিনি। গত ২৪ জুন রাতে উপজেলার কাটলা হরিহরপুর গ্রামের নছির উদ্দিনকে (৬৫) খুন করে অটো চুরির ঘটনা বর্ণনা দেন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তি। এ হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা কারায় আরও তিনজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে চুরি যাওয়া দুটি ব্যাটারিচালিত অটোর মধ্যে একটি উদ্ধার করা হয়েছে। বিরামপুর থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির যুগান্তরকে বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মো. মতিয়ার রহমান বলেন, হত্যায় সরাসরি জড়িতরা হলেন- পার্বতীপুর উপজেলার উত্তর দরগাপাড়ার কফুল উদ্দিনের ছেলে মো. মোজাহার হোসেন ও ফুলবাড়ি উপজেলার পূর্ব রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবুল হোসেন ওরফে সায়েদ আলীর ছেলে মো. এবাদত হোসেন ছোটন। ছোটন নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ কাজীপাড়া ধরেরপাড়া এলাকায় শ্বশুর বাড়িতে থাকতেন। হত্যার সহযোগিতা করার অপরাধে রংপুর বদরগঞ্জ উপজেলার মোকছেদপুর ফাঠকের ডাঙ্গা এলাকার মজিবুল ইসলামের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম, একই উপজেলার মোসলমারি গাছুয়াপাড়া এলাকার আবদুর রশিদ মণ্ডলের ছেলে জিয়াউর রহমান বাবু ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পাকুড়িয়া শরিফ এলাকার বাবর আলীর ছেলে মোস্তাফা ওরফে মোস্তকে আটক করা হয়। বিরামপুর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ব্যাটারিচালিত অটো চুরি করতে এসে নছির উদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে দিনাজপুর আমলী আদালত-৬ এর জ্যেষ্ঠ বিচারক মো. রাশেদুল আমিনর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেফতার মো. মোজাহার হোসেন ও মো. এবাদত হোসেন ছোটন। তিনি আরও বলেন, আদালতের জবানবন্দি ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মোজাহার ও ছোটন বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে তাদের একটি ব্যাটারিচালিত অটো চোরের চক্র রয়েছে। তারা বেশ কিছুদিন থেকে কাটলা হরিহরপুর গ্রামের হাসকিং মিলে চার্জে দেয়া অটোগুলো চুরির পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৪ জুন রাতে ওই মিলের আশপাশে একত্র হয়ে সময়ের অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। রাত দেড়টার দিকে মোজাহার ও এবাদত হোসেন ওই মিলের দক্ষিণ পাশের বেড়া কেটে প্রবেশ করেন। এরপর মিলের মধ্যে চার্জে দেয়া অটোগুলোর মধ্যে নতুন দুটি অটো নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু মিলের মূল দরজার তালা থাকায় মিলের মধ্যে শুয়ে থাকা নছির উদ্দিনের কাছে চাবি চান তারা। নছির চাবি দিতে অস্বীকার ও চিৎকারের চেষ্টা করলে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অজ্ঞান করে মাথায় চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত