বাঘায় চরের গরু পালনকারীদের লোকসানের আশঙ্কা

  বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি ১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চকরাজাপুর চরে করোনার কারণে গরু পালনকারীরা এবার লোকসানের আশঙ্কা করছেন। পদ্মার মধ্যে ১৫টি চরের আয়তন ৪৬ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার। চরে প্রত্যেক পরিবারে ২টা থেকে ১৫টি গরু রয়েছে। সকাল হলেই পাল বেঁধে পতিত জমিতে গরু চরায়।

এই গরু তারা রাজশাহী সিটিহাট, রুস্তমপুরহাট, কাঁকনহাট, তেবাড়িয়াহাট থেকে কিনে আনেন। একটি গরু ৯-১০ মাস লালনপালন করে কোরবানির ঈদের এক মাস আগে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন। একটি গরুপ্রতি খরচ হয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। গরু পালন খরচ বাড়লেও করোনার কারণে কমে গেছে দাম। এবার করোনার কারণে লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন গরু পালনকারীরা। গরুপ্রতি লোকসান হবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু ক্রয় করে পালন করে। লোকসান হলে একদিকে ঋণের কিস্তি অন্যদিকে পালনকারীরা পড়বে বেকায়দায়। তারা নেপালি, অস্ট্রেলিয়ান, ফিজিয়ান, হরিয়ানাসহ নানা জাতের গরু পালন করে। গরু পালনে লাভজনক হওয়ায় বসতবাড়িতে এগুলো পালন করা তাদের প্রধান কাজ। সারা বছর গরু পালনের পর কোরবানির ঈদে বিক্রির সময়। কোরবানির চাহিদা লক্ষ্য করেই শেষ মুহূর্তে পরিচর্যায় ব্যস্ত। পদ্মার মধ্যে কালিদাসখালী চরের গরু পালনকারী আসলাম উদ্দিন বলেন, চরের একেকটি বাড়ি যেন একেকটি খামার। পরিবার প্রধান নারী-পুরুষ মিলে গরুর পরিচর্যা করে। গরুগুলো পরম যত্নে নিজের সন্তানের মতোই আদর করা হয়। এই গরুগুলো যেন বেঁচে থাকার প্রেরণা। কোরবানির পশু হাটে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে তারা লাভবান হতেন। কিন্তু করোনার কারণে এবার লোকসান হবে। হাট থেকে গত কোরবানির ঈদের এক মাস পর তিনটি গরু ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে করে লালনপালন করছি। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। ঈদের আর মাত্র তিন সপ্তাহের মতো আছে, কিন্তু কোনো বেপারি এখন পর্যন্ত আসেনি। তাই চিন্তায় আছি। এদিকে সোহেল রানা স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু ক্রয় করে পালন করছে। যে খরচ হয়েছে, সেটা বাদ দিয়ে গরু বিক্রি করা হলেও তেমন কোনো লাভ হবে না। এবার করোনার কারণে গরুর চাহিদা না থাকায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে গরু ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ কম। তারপর অ্যাপ্সের মাধ্যমে ঈদের দেড়-দুই সপ্তাহ আগে থেকে বেচাকেনা শুরু হবে। আশা করছি কোরবানির পশু কিনবেন ক্রেতারা।

এছাড়া প্রতিটি গরু-মহিষ পালনকারীদের প্রত্যয়ন দেয়া হয়েছে, তারা যেন ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারে। উপজেলায় ২০ কোটি টাকা গরু-মহিষ পালনকারীদের জন্য বরাদ্দ হয়েছে, তারা ইচ্ছা করলে এই ঋণ নিতে পারবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত