সরাইলে এডিপির প্রকল্পে অনিয়ম

উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  মো. শফিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরাইল উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতি, কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ, সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত রাস্তা ও দেয়াল নির্মাণের নানা অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সরাইল উপজেলার সৈয়দ টুলা গ্রামের মোশারফ উদ্দিন ও কুট্টাপাড়া গ্রামের শেখ আবুল কালাম উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন প্রকল্প কাগজে কলমে বাস্তবায়ন দেখিয়ে দরপত্র ও পিআইসি কমিটির মাধ্যমে নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন। তিনি নিজ বাড়ির জন্য উপজেলা ডাকবাংলোর পশ্চিম পাশ দিয়ে সরকারি জায়গার ওপর সরকারি খরচে ২০-২৫ ফুট প্রশস্তের রাস্তা এবং রাস্তার পশ্চিম পাশে বিনা প্রয়োজনে দেয়াল নির্মাণ করেছেন। লিখিত অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, এক লাখ ৯০ হাজার টাকায় উপজেলার হালুয়াপাড়া সেতু থেকে আরিফাইল রাস্তার সদর স্কুল সংলগ্ন স্থানে রাস্তার প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ, এক লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে নলকূপ স্থাপন, এক লাখ ৮৫ হাজার টাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শৌচাগারের চাকতি (রিং স্ল্যাব) সরবরাহ, এক লাখ ৮৫ হাজার টাকায় পাকশিমুল লম্বা ভিটা মসজিদের সামনে ঘাটলা নির্মাণ, এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় কালীকচ্ছ মধ্য রাস্তার শাহজাহানের বাড়ির সামনে পানি নিষ্কাশনের নালা নির্মাণ, দুই লাখ টাকায় অরুয়াইল দক্ষিণ বাজার বিএডিসি সংলগ্ন চিত্রা নদী ও তিতাস নদের পাড় পর্যন্ত গাইড ওয়াল ও র‌্যাম্প নির্মাণ, দুই লাখ টাকায় অরুয়াইল বাজারের দক্ষিণ পাশে জনগণের ওঠানামার জন্য সিঁড়িসহ ঘাটলা নির্মাণ, এক লাখ ৮৫ হাজার টাকায় উপজেলার লোপাড়া তিতাস রোডের বারেক মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে প্রতিরক্ষা দেয়ালের অবশিষ্ট অংশ নির্মাণ ও এক লাখ ৭৫ হাজার টাকায় চুন্টা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ প্রকল্পের ও কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর এসব প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া দরপত্র প্রকল্প-১ এর প্যাকেজ-৬ প্রকল্প কালীকচ্ছ নন্দীপাড়া তকদির চেয়ারম্যানের পুকুরে রাস্তার পাশে রিটার্নিং দেয়াল নির্মাণেরও কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী মোশারফ উদ্দিন ও শেখ আবুল কালাম জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) নামে বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে কোটি টাকার উপরে আত্মসাৎ করেছেন। তারা দাবি করেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো তদন্ত করলেই এর সত্যতা বের হয়ে আসবে। তাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। এছাড়া অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানান।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, ‘এডিপির অধিকাংশ প্রকল্প দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার কাজ করে থাকেন। আমি কীভাবে টাকা আত্মসাৎ করব? আমি এ সংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’ উপজেলা প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নিলুফা ইয়াছমীন বলেন, কাজের মান দেখে বিল দেয়া হয়েছে। সব প্রকল্প তার ঘুরে দেখা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। ইউএনও এএসএম মোসা জানান, কোনো প্রকল্প যদি বাস্তবায়ন না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বেশ কয়েকটি প্রকল্প সরেজমিন বাস্তবায়ন হতে দেখেছেন তিনি। সবগুলো ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি। জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, অভিযোগটি দেখে ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত