নোয়াখালীতে পথে পথে চাঁদাবাজি
jugantor
কোরবানির পশুবাহী গাড়ি
নোয়াখালীতে পথে পথে চাঁদাবাজি

  নোয়াখালী প্রতিনিধি  

৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলায় পশুবাহী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনে দ্বিগুণ হারে চাঁদাবাজি চলছে। পুলিশ বলছে যুবকদের চা-পানির পয়সা চিরকালই ব্যবসায়ীরা দিয়ে থাকে। এটা চাঁদাবাজির আওতায় পড়ে না।

কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে আসা গরু বেপারি হাবিবুর রহমান সরদার জানান, তিনি ১২টি গরু নিয়ে নোয়াখালী আসেন। সারা পথে যা চাঁদা দিয়েছে নোয়াখালী সীমানায় তার চেয়ে দ্বিগুণ চাঁদা দিতে হয়েছে। তাও কোনো সিস্টেম নেই। যে যেখানে পারে হাত বা মাথায় পট্টি বেঁধে চাদা দাবি করে। না দিলে ট্রাক আটকিয়ে বেপারির লোকদের মারধর করে।

তিনিসহ কয়েকজন বেপারি জানান, তারা ২০ বছর ধরে নোয়াখালীতে গরু নিয়ে ব্যবসা করার জন্য আসছেন। দু’এক মৌসুমে ব্যবসা মন্দা গেলেও অধিকাংশ মৌসুমে লাভ করেছে। কিন্তু এ মৌসুমের মতো চাঁদা কখনও দিতে হয়নি।

বেপারি আইনুল ও মঈনুল দুই ভাই জানান, নোয়াখালীর সীমানায় ঢোকার সময় রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয়ধারীদের ট্রাকপ্রতি ৩০০ টাকা, পুলিশ বিট ২০০ টাকা, স্থানীয় মসজিদের জন্য ৫০ টাকা দিয়ে জেলার চৌমুহনীতে পৌর ট্যাক্স ৫০ টাকা, আদায়কারীর বকশিশ ২০ টাকা, শ্রমিক কল্যাণ ৫০ টাকা, মালিক কল্যাণ ৫০ টাকা, পুলিশ বিট ২০০ টাকা, ক্লাবের চাঁদা ১০০ টাকা, রাজনৈতিক চাঁদা ১০০ টাকা দিতে হয়। এরপর পছন্দের বাজার পৌঁছার পর গরু নামানোর আগে স্থানীয় রাজনৈতিক যুবকদের ৫০০ টাকা না দিলে গরু নামাতে দেয় না।

এ ব্যাপারে চৌমুহনী, একলাশ, বাংলাবাজার, জমিদার হাটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজারাদারপক্ষের বক্তব্য, হাটের বাইরে কী হয় তা তাদের ব্যাপার নয়। হাটের সীমানায় ঢুকলে বেপারি ও গরুর নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন রশীদ চৌধুরী ও সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা জানান, এসব ব্যাপারে কোন বেপারি অভিযোগ করেনি।

এ দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্য চাঁদাবাজির কথা এড়িয়ে গেলেও পুলিশ বিটের নামে কারা চাঁদা আদায় করছে বিষয়ে বলেন, সবদিকে দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোরবানির পশুবাহী গাড়ি

নোয়াখালীতে পথে পথে চাঁদাবাজি

 নোয়াখালী প্রতিনিধি 
৩১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলায় পশুবাহী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনে দ্বিগুণ হারে চাঁদাবাজি চলছে। পুলিশ বলছে যুবকদের চা-পানির পয়সা চিরকালই ব্যবসায়ীরা দিয়ে থাকে। এটা চাঁদাবাজির আওতায় পড়ে না।

কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে আসা গরু বেপারি হাবিবুর রহমান সরদার জানান, তিনি ১২টি গরু নিয়ে নোয়াখালী আসেন। সারা পথে যা চাঁদা দিয়েছে নোয়াখালী সীমানায় তার চেয়ে দ্বিগুণ চাঁদা দিতে হয়েছে। তাও কোনো সিস্টেম নেই। যে যেখানে পারে হাত বা মাথায় পট্টি বেঁধে চাদা দাবি করে। না দিলে ট্রাক আটকিয়ে বেপারির লোকদের মারধর করে।

তিনিসহ কয়েকজন বেপারি জানান, তারা ২০ বছর ধরে নোয়াখালীতে গরু নিয়ে ব্যবসা করার জন্য আসছেন। দু’এক মৌসুমে ব্যবসা মন্দা গেলেও অধিকাংশ মৌসুমে লাভ করেছে। কিন্তু এ মৌসুমের মতো চাঁদা কখনও দিতে হয়নি।

বেপারি আইনুল ও মঈনুল দুই ভাই জানান, নোয়াখালীর সীমানায় ঢোকার সময় রাজনৈতিক দলের নেতা পরিচয়ধারীদের ট্রাকপ্রতি ৩০০ টাকা, পুলিশ বিট ২০০ টাকা, স্থানীয় মসজিদের জন্য ৫০ টাকা দিয়ে জেলার চৌমুহনীতে পৌর ট্যাক্স ৫০ টাকা, আদায়কারীর বকশিশ ২০ টাকা, শ্রমিক কল্যাণ ৫০ টাকা, মালিক কল্যাণ ৫০ টাকা, পুলিশ বিট ২০০ টাকা, ক্লাবের চাঁদা ১০০ টাকা, রাজনৈতিক চাঁদা ১০০ টাকা দিতে হয়। এরপর পছন্দের বাজার পৌঁছার পর গরু নামানোর আগে স্থানীয় রাজনৈতিক যুবকদের ৫০০ টাকা না দিলে গরু নামাতে দেয় না।

এ ব্যাপারে চৌমুহনী, একলাশ, বাংলাবাজার, জমিদার হাটের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইজারাদারপক্ষের বক্তব্য, হাটের বাইরে কী হয় তা তাদের ব্যাপার নয়। হাটের সীমানায় ঢুকলে বেপারি ও গরুর নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই।

বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন রশীদ চৌধুরী ও সেনবাগ থানার ওসি আবদুল বাতেন মৃধা জানান, এসব ব্যাপারে কোন বেপারি অভিযোগ করেনি।

এ দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্য চাঁদাবাজির কথা এড়িয়ে গেলেও পুলিশ বিটের নামে কারা চাঁদা আদায় করছে বিষয়ে বলেন, সবদিকে দেখে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।