সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে টাকা আদায়
jugantor
রায়পুর মমতাজেন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ
সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে টাকা আদায়

  রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি  

৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণের এই দুঃসময়েও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না সদ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মমতাজেন্নেছা মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অভিভাবকদের চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করছেন প্রধান শিক্ষক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি দিতে ব্যর্থ হলে আদায় করা হচ্ছে জরিমানাও। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এ ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে টিউশন ফি দিতে না পারায় অনলাইন ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের ক্ষুব্ধ রয়েছেন অভিভাবকরা। সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি থাকায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য ফি প্রদানে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ও জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন আদায় করতে হবে। উপজেলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রধান শিক্ষকদের বরাবর এ চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তারা। কিন্তু মমতাজেন্নেছা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সরকারের নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই করছে না বরং স্কুল টিউশন ফি যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারায় নিচ্ছে জরিমানাও। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মার্চ-এপ্রিল, মে ও জুন মাসের টিউশন ফি পরিশোধ করা হয়নি। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দফায় দফায় টিউশন ফি পরিশোধে তাগিদ দিয়ে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে ও আদায়ও করেছেন। নির্ধারিত ব্যাংকে টিউশন ফি জমা দিতে গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে জরিমানা ছাড়া (বিলম্ব ফি) টিউশন ফি গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা। কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল হোসেন বলেন, ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত আর প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কয়েক মাস আগে এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছে। তবে আমরা শিক্ষকরা-এমপিওভুক্ত হতে পারিনি। প্রতিষ্ঠান থেকেও চার মাস বেতন না পেয়ে কষ্টে রয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করা হয়। রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ মহামারী করোনার মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করতে পারবেন না। সবাইকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রায়পুর মমতাজেন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে টাকা আদায়

 রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি 
৩১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা সংক্রমণের এই দুঃসময়েও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না সদ্য এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মমতাজেন্নেছা মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। অভিভাবকদের চাপ দিয়ে টিউশন ফি আদায় করছেন প্রধান শিক্ষক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি দিতে ব্যর্থ হলে আদায় করা হচ্ছে জরিমানাও। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। এ ছাড়া করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে টিউশন ফি দিতে না পারায় অনলাইন ক্লাস থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এমন আচরণের ক্ষুব্ধ রয়েছেন অভিভাবকরা। সরকারের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি থাকায় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ও অন্যান্য ফি প্রদানে চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ও জেলা-উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলে বকেয়াসহ মাসিক বেতন আদায় করতে হবে। উপজেলা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও প্রধান শিক্ষকদের বরাবর এ চিঠি পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা কর্মকর্তারা। কিন্তু মমতাজেন্নেছা মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় সরকারের নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই করছে না বরং স্কুল টিউশন ফি যথাসময়ে পরিশোধ করতে না পারায় নিচ্ছে জরিমানাও। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বৃহস্পতিবার এ প্রতিবেদককে বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় মার্চ-এপ্রিল, মে ও জুন মাসের টিউশন ফি পরিশোধ করা হয়নি। সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দফায় দফায় টিউশন ফি পরিশোধে তাগিদ দিয়ে ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে ও আদায়ও করেছেন। নির্ধারিত ব্যাংকে টিউশন ফি জমা দিতে গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে জরিমানা ছাড়া (বিলম্ব ফি) টিউশন ফি গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা। কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল হোসেন বলেন, ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত আর প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। কয়েক মাস আগে এ প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিক হিসেবে এমপিওভুক্ত হয়েছে। তবে আমরা শিক্ষকরা-এমপিওভুক্ত হতে পারিনি। প্রতিষ্ঠান থেকেও চার মাস বেতন না পেয়ে কষ্টে রয়েছেন। তাই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করা হয়। রায়পুর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা একেএম সাইফুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এ মহামারী করোনার মধ্যে কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টিউশন ফি আদায় করতে পারবেন না। সবাইকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।