বদলগাছী থানায় দালালের খপ্পরে সেবাপ্রার্থীরা
jugantor
বদলগাছী থানায় দালালের খপ্পরে সেবাপ্রার্থীরা

  নওগাঁ প্রতিনিধি  

৩১ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর বদলগাছী থানায় দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেবাপ্রার্থীরা থানায় সেবা নিতে আসার সময় দালালরা থানার গেট থেকে তাদের কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আপসের নামে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এতে দালালদের কারণে সেবাপ্রার্থীরা সুবিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও যুবলীগ নেতা ডিএম মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। অপরদিকে মানবাধিকার নামে একটি সংগঠন বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে থানা পুলিশকে হয়রানি করছেন। জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ বদলগাছী থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি থানা চত্বরকে দালালমুক্ত ঘোষণা করেন। তারপর থেকে দালালরা থানায় ঢোকার সাহস না পেলেও তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তারা থানায় প্রবেশ করতে না পারলেও কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। থানা সংলগ্ন বদলগাছী স্পোর্টিং ক্লাবে বসে সালিশের নামে চলে দেনদরবার। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দালাল চক্র সালিশ করে দেয়। সুবিচার না পেয়ে থানায় গেলে ভুক্তভোগীদের দেয়া হয় বিভিন্ন হুমকি। আর দালাল সিন্ডিকেট চক্রের প্রধান হোতা স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ দুই ব্যক্তি স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে। উপজেলার মিঠাপুর গ্রামে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ব্যবসার সুবাদে বছরখানেক আগে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তিনি টাকা না দিয়ে কালক্ষেপণ করছিলেন। অবশেষে থানায় অভিযোগ দেয়ার জন্য প্রায় মাসখানেক আগে জাহিদের দোকানে যায়। অভিযোগ লিখার সময় জাহিদকে ঘটনা খুলে বলি। পরে জাহিদ ও রানা এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই পক্ষকে নিয়ে ক্লাবঘরে বসে আপস করে দেয়। আপসে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হলেও বাকি টাকা দেয়া হয়নি। টাকার বিষয়টি জাহিদ ও রানাসহ কয়েকজনকে বলা হলে উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এরকম অসংখ্য ভুক্তভোগী রয়েছে যারা থানার ভেতরে প্রবেশ করার আগেই আপসের নামে প্রতারণায় পড়ে হয়রানি শিকার হয়। অভিযুক্ত উপজেলা স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, আমরা রাজনীতি এবং মানুষের সেবা করি। এখন কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাকে ধরে নিয়ে এসে প্রমাণ করে দেখান। আমার বংশের কেউ দালালি করে না। ক্লাবের স্বার্থে দোকানটি করা হয়েছে, যা সবাই অবগত আছেন। এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ বলেন, সেবাপ্রার্থীদের সেবা দেয়ার জন্য থানাকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন কেউ যদি থানায় আসার পথে বাধাগ্রস্ত হয় এবং অভিযোগ করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বদলগাছী থানায় দালালের খপ্পরে সেবাপ্রার্থীরা

 নওগাঁ প্রতিনিধি 
৩১ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর বদলগাছী থানায় দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেবাপ্রার্থীরা থানায় সেবা নিতে আসার সময় দালালরা থানার গেট থেকে তাদের কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর আপসের নামে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এতে দালালদের কারণে সেবাপ্রার্থীরা সুবিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর এমন অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও যুবলীগ নেতা ডিএম মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। অপরদিকে মানবাধিকার নামে একটি সংগঠন বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে থানা পুলিশকে হয়রানি করছেন। জানা যায়, গত ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বরে চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ বদলগাছী থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর তিনি থানা চত্বরকে দালালমুক্ত ঘোষণা করেন। তারপর থেকে দালালরা থানায় ঢোকার সাহস না পেলেও তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তারা থানায় প্রবেশ করতে না পারলেও কৌশলে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। থানা সংলগ্ন বদলগাছী স্পোর্টিং ক্লাবে বসে সালিশের নামে চলে দেনদরবার। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দালাল চক্র সালিশ করে দেয়। সুবিচার না পেয়ে থানায় গেলে ভুক্তভোগীদের দেয়া হয় বিভিন্ন হুমকি। আর দালাল সিন্ডিকেট চক্রের প্রধান হোতা স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদসহ দুই ব্যক্তি স্পোর্টিং ক্লাবের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে। উপজেলার মিঠাপুর গ্রামে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ব্যবসার সুবাদে বছরখানেক আগে এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তিনি টাকা না দিয়ে কালক্ষেপণ করছিলেন। অবশেষে থানায় অভিযোগ দেয়ার জন্য প্রায় মাসখানেক আগে জাহিদের দোকানে যায়। অভিযোগ লিখার সময় জাহিদকে ঘটনা খুলে বলি। পরে জাহিদ ও রানা এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই পক্ষকে নিয়ে ক্লাবঘরে বসে আপস করে দেয়। আপসে ৪০ হাজার টাকা দেয়া হলেও বাকি টাকা দেয়া হয়নি। টাকার বিষয়টি জাহিদ ও রানাসহ কয়েকজনকে বলা হলে উল্টো বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। এরকম অসংখ্য ভুক্তভোগী রয়েছে যারা থানার ভেতরে প্রবেশ করার আগেই আপসের নামে প্রতারণায় পড়ে হয়রানি শিকার হয়। অভিযুক্ত উপজেলা স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, আমরা রাজনীতি এবং মানুষের সেবা করি। এখন কেউ যদি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাকে ধরে নিয়ে এসে প্রমাণ করে দেখান। আমার বংশের কেউ দালালি করে না। ক্লাবের স্বার্থে দোকানটি করা হয়েছে, যা সবাই অবগত আছেন। এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ওসি চৌধুরী জোবায়ের আহাম্মদ বলেন, সেবাপ্রার্থীদের সেবা দেয়ার জন্য থানাকে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এখন কেউ যদি থানায় আসার পথে বাধাগ্রস্ত হয় এবং অভিযোগ করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।