মোংলায় প্লট পাননি ব্যবসায়ীরা
jugantor
মোংলায় প্লট পাননি ব্যবসায়ীরা
জরুরি অবস্থার মধ্যে ভেঙে দেয়া হয় বন্দরের দেড় শতাধিক প্লট * ৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পুনর্বাসন নির্দেশনা

  আমির হোসেন আমু, মোংলা (বাগেরহাট)  

১০ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জরুরি অবস্থার মধ্যে মোংলা বন্দরে ভেঙে দেয়া দেড় শতাধিক প্লটের মালিক ও ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকা পড়েছেন। একযুগ পার হলেও ব্যবসায়ীরা এখনও ফিরে পাননি তাদের নির্ধারিত প্লট। ফলে ব্যবসার পুঁজিসহ সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আর ৫ বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পুনর্বাসনসংক্রান্ত নির্দেশনা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারায় অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ী এখন হতাশার মধ্যে রয়েছেন। কবে নাগাদ ব্যবসায়িক প্লট ফিরে পাবেন তাও জানা নেই তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরাতন মোংলার রিজেকশনগোলী, ফেরিঘাট, মামারঘাট, বেঙ্গলওয়াটার জেটি ২নং জেটি, ১নং জেটিসংলগ্ন এলাকায় মোংলা বন্দরের নিয়মনীতি অনুযায়ী ১৫২টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থায় একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় পুরাতন বন্দর ও পৌর শহরে ব্যবসায়ীদের ১৫২টি বৈধ প্লট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তরা ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ব্যবসায়ীদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচিব নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ ৫ বছরেও বাস্তবায়ন করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর এ কারণে ব্যবসায়ীরাও ফিরে পাননি তাদের প্লট। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৭ জুন মোংলা বন্দর বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্লট বুঝে পেতে পুনরায় বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। এ বিষয় সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার জানান, ব্যবসায়ীরা তাদের প্লটগুলো হারিয়ে পথে বসেছে। এতে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বন্দর হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৪ মে প্লট মালিক ও ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত সভার এক মাসের মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এদিকে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও তাদের নির্ধারিত প্লটে অবৈধভাবে অনেকে আস্তানা গড়ে তুলছে। এ বিষয়ে প্লট মালিকরা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিলেও মিলছে না কোনো সমাধান। ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের কতিপয় নেতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে উচ্ছেদকৃত প্লট মালিকদের জায়গার বরাদ্দপত্র বাতিল করে নামে-বেনামে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আর অবৈধ দখল ঠেকাতে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং এ মামলা নিয়ে জটিলতা নেই বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন মো. গিয়াস উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, জরুরি অবস্থায় ভেঙে দেয়া ব্যবসায়ীদের স্ব স্ব প্লট তাদের বুঝিয়ে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় এ বিষয় এখনই কোনো সমাধান করা সম্ভব নয়।

মোংলায় প্লট পাননি ব্যবসায়ীরা

জরুরি অবস্থার মধ্যে ভেঙে দেয়া হয় বন্দরের দেড় শতাধিক প্লট * ৫ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পুনর্বাসন নির্দেশনা
 আমির হোসেন আমু, মোংলা (বাগেরহাট) 
১০ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও জরুরি অবস্থার মধ্যে মোংলা বন্দরে ভেঙে দেয়া দেড় শতাধিক প্লটের মালিক ও ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার বেড়াজালে আটকা পড়েছেন। একযুগ পার হলেও ব্যবসায়ীরা এখনও ফিরে পাননি তাদের নির্ধারিত প্লট। ফলে ব্যবসার পুঁজিসহ সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আর ৫ বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের পুনর্বাসনসংক্রান্ত নির্দেশনা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারায় অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ব্যবসায়ী এখন হতাশার মধ্যে রয়েছেন। কবে নাগাদ ব্যবসায়িক প্লট ফিরে পাবেন তাও জানা নেই তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরাতন মোংলার রিজেকশনগোলী, ফেরিঘাট, মামারঘাট, বেঙ্গলওয়াটার জেটি ২নং জেটি, ১নং জেটিসংলগ্ন এলাকায় মোংলা বন্দরের নিয়মনীতি অনুযায়ী ১৫২টি প্লট বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ীরা। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থায় একটি প্রভাবশালী মহলের ইশারায় পুরাতন বন্দর ও পৌর শহরে ব্যবসায়ীদের ১৫২টি বৈধ প্লট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্তরা ২০০৯ সালে হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ব্যবসায়ীদের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচিব নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ ৫ বছরেও বাস্তবায়ন করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর এ কারণে ব্যবসায়ীরাও ফিরে পাননি তাদের প্লট। এ অবস্থায় ২০১৮ সালের ৭ জুন মোংলা বন্দর বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্লট বুঝে পেতে পুনরায় বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়। এ বিষয় সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার জানান, ব্যবসায়ীরা তাদের প্লটগুলো হারিয়ে পথে বসেছে। এতে মোংলা বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্যে যেমন ক্ষতি হচ্ছে তেমনি বন্দর হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ৪ মে প্লট মালিক ও ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনসংক্রান্ত সভার এক মাসের মধ্যে বরাদ্দকৃত প্লট বুঝিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখনও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এদিকে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও তাদের নির্ধারিত প্লটে অবৈধভাবে অনেকে আস্তানা গড়ে তুলছে। এ বিষয়ে প্লট মালিকরা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দফতরে ধরনা দিলেও মিলছে না কোনো সমাধান। ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের কতিপয় নেতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে উচ্ছেদকৃত প্লট মালিকদের জায়গার বরাদ্দপত্র বাতিল করে নামে-বেনামে নেয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আর অবৈধ দখল ঠেকাতে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং এ মামলা নিয়ে জটিলতা নেই বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। এ বিষয়ে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক প্রশাসন মো. গিয়াস উদ্দিন যুগান্তরকে জানান, জরুরি অবস্থায় ভেঙে দেয়া ব্যবসায়ীদের স্ব স্ব প্লট তাদের বুঝিয়ে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষের রয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় এ বিষয় এখনই কোনো সমাধান করা সম্ভব নয়।