সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি ৪৪ ভাগ কাজ
jugantor
জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়ক সংস্কার
সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি ৪৪ ভাগ কাজ
খানাখন্দে ভরা ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে

  জয়পুরহাট প্রতিনিধি  

১২ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি ৪৪ ভাগ কাজ
ফাইল ছবি

২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের ১৮ কিলোমিটার উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজ ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। অথচ নির্ধারিত সময়ের ২ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চুক্তি মোতাবেক কাজ সম্পন্ন হয়নি।

ফলে খানাখন্দে ভরা ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন বিকল হচ্ছে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভটভটিসহ অন্যান্য যানবাহন।

জেলা সড়ক ও জনপথের (সওজ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ৪টি সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজের জন্য একনেক ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়।

এ প্রকল্পের আওতায় ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড় থেকে আক্কেলপুর উপজেলার বাজার পর্যন্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। ধ্রুব কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ২০১৮ সালের ২৭ মে কার্যাদেশ ইস্যু করা হয়।

এ কাজের জন্য প্রথমে ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ২৮ কোটি ২০ লাখ। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট এ কাজ শেষ করার কথা ছিল।

নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক কাজও করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলে সময় বাড়ানোর আবেদন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধ্রুব কনস্ট্রাকশন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তারা জামালগঞ্জের চারমাথা ও জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড় থেকে নতুনহাট এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করে মাত্র।

সওজের চলমান বিশেষ প্রকল্প, উন্নয়ন প্রকল্প, পিএমপি কাজ বাস্তবায়নের জোনভিত্তিক হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজের ৫৬ শতাংশ অগ্রগতি হওয়ায় ধ্রুব কনস্ট্রাকশনকে এ পর্যন্ত ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৮ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

সরেজমিন ওই সড়কে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে পুরো সড়কজুড়ে পাথর ও বালি মিশ্রণ করে ফেলে রাখা হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য কার্পেটিং তুলে ফেলার পর সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার বৃষ্টির কারণে এসব গর্তে পানি ভরে গেছে।

জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জেলার বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজের ধীরগতির জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধ্রুব কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাসের কাজ ২৫ মাসেও শেষ না হওয়ায় জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে ২৮ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়ক সংস্কার

সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি ৪৪ ভাগ কাজ

খানাখন্দে ভরা ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে
 জয়পুরহাট প্রতিনিধি 
১২ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি ৪৪ ভাগ কাজ
ফাইল ছবি

২৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের ১৮ কিলোমিটার উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজ ১৫ মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। অথচ নির্ধারিত সময়ের ২ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চুক্তি মোতাবেক কাজ সম্পন্ন হয়নি।

ফলে খানাখন্দে ভরা ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ওই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন বিকল হচ্ছে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভটভটিসহ অন্যান্য যানবাহন।

জেলা সড়ক ও জনপথের (সওজ) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের ৪টি সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজের জন্য একনেক ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়।

এ প্রকল্পের আওতায় ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড় থেকে আক্কেলপুর উপজেলার বাজার পর্যন্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। ধ্রুব কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ২০১৮ সালের ২৭ মে কার্যাদেশ ইস্যু করা হয়।

এ কাজের জন্য প্রথমে ২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও পরবর্তীতে তা বাড়িয়ে বরাদ্দ দেয়া হয় ২৮ কোটি ২০ লাখ। চুক্তি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট এ কাজ শেষ করার কথা ছিল।

নির্ধারিত সময়ে অর্ধেক কাজও করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলে সময় বাড়ানোর আবেদন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধ্রুব কনস্ট্রাকশন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম দফায় চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তারা জামালগঞ্জের চারমাথা ও জয়পুরহাট শহরের বাটার মোড় থেকে নতুনহাট এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন করে মাত্র।

সওজের চলমান বিশেষ প্রকল্প, উন্নয়ন প্রকল্প, পিএমপি কাজ বাস্তবায়নের জোনভিত্তিক হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, ২৮ কোটি ২০ লাখ টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজের ৫৬ শতাংশ অগ্রগতি হওয়ায় ধ্রুব কনস্ট্রাকশনকে এ পর্যন্ত ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৮ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

সরেজমিন ওই সড়কে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে পুরো সড়কজুড়ে পাথর ও বালি মিশ্রণ করে ফেলে রাখা হয়েছে। সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য কার্পেটিং তুলে ফেলার পর সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার বৃষ্টির কারণে এসব গর্তে পানি ভরে গেছে।

জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন জেলার বিভিন্ন সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ কাজের ধীরগতির জন্য অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

তিনি সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে বক্তব্য নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধ্রুব কনস্ট্রাকশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১৫ মাসের কাজ ২৫ মাসেও শেষ না হওয়ায় জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘবে ২৮ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।