ভাঙনঝুঁকিতে স্কুল বসতঘর
jugantor
ভাঙনঝুঁকিতে স্কুল বসতঘর
কালকিনিতে আড়িয়ালখাঁ নদের পানি কমলেও বাড়ছে ভাঙন

  কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি  

১৩ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কালকিনিতে আড়িয়ালখাঁ নদের পানি কমলেও বাড়ছে ভাঙন

কালকিনিতে আড়িয়ালখাঁ নদে বিলীনের পথে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। ইতোমধ্যে এ নদের তাণ্ডবে ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেকে।

বর্তমানে পানি কিছুটা কমলেও ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ৫ গ্রামের মানুষ। এদিকে ভাঙনকবলিত মানুষ ত্রাণের দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

সরেজমিন ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চরহোগল পাতিয়া ও রাজাচর গ্রাম। এ দুটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়ালখাঁ নদ।

এ গ্রাম দুটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় অবহেলিতভাবে পড়ে আছে। বিগত দিনেও নদে চলে গেছে এ দুটি গ্রামের অনেক গাছপাল, বাড়িঘর ও কয়েকশ’ একর ফসলি জমি।

তখন কেউ এগিয়ে আসেনি দুটি গ্রামের মানুষের পাশে। চরহোগলপাতিয়া গ্রামের একমাত্র বাতিঘর চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই তীব্র ভাঙনের দেখা দিয়েছে। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি অনেক আগে থেকেই সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে পুনরায় একের পর এক আড়িয়ালখাঁ নদের পেটে চলে গেছে চরহোগলপাতিয়া গ্রামের আলী তালুকদার, সোবহান তালুকদার ও কামাল তালুকদারসহ অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও ধান, পাটসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলি জমি।

ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়িসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে হোগলপাতিয়া, চরহোগলপাতিয়া ও রাজারচরসহ ৫টি গ্রামের মানুষ নদের ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

অবহেলিত চরহোগলপাতিয়া ও রাজাচর গ্রামের মানুষেরা বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো প্রকার ত্রাণও পাননি। পানিবন্দি হয়ে কাজকর্ম না করতে পেরে তারা এখন খাদ্য অভাবে দিন কাটাচ্ছে।

কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থ্য না নেয়া হলে পুরো চরহোগলপাতিয়া ও রাজাচর গ্রাম যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, জুরুরিভিত্তিতে ভাঙন রোধ করা না গেলে অচিরেই হয়তো আমাদের বিদ্যালয়ের অস্তিত্বই হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগম ও আয়শা বেগমসহ কয়েকজন বলেন, ‘আড়িয়ালখাঁ নদ আমাগো ঘড়বাড়ি, জায়গা জমি সব কেড়ে নিয়ে গেছে। ভাঙন রোধ না করা হলে আমাগো বাকি যা আছে সব নদে চলে যাবে।’

রাজাচরের স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মোল্লা বলেন, নদের ভাঙনে রাজাচর গ্রামের সব শেষে হয়ে যাচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, স্কুলটি বাঁচাতে ও আড়িয়ালখাঁ ভাঙন বন্ধ করতে বহুবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে দুঃখের বিষয় এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তবে ত্রাণ সহায়তার চেষ্টা চালাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু আড়িয়াখাঁ নদের তীব্র স্রোতের কারণে কোনো কাজ হচ্ছে না। স্রোতের তোরে সব নদে চলে যাচ্ছে। স্কুল রক্ষার জন্য সব চেষ্টা অব্যাহত আছে।

ভাঙনঝুঁকিতে স্কুল বসতঘর

কালকিনিতে আড়িয়ালখাঁ নদের পানি কমলেও বাড়ছে ভাঙন
 কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি 
১৩ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কালকিনিতে আড়িয়ালখাঁ নদের পানি কমলেও বাড়ছে ভাঙন
ফাইল ছবি

কালকিনিতে আড়িয়ালখাঁ নদে বিলীনের পথে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি। ইতোমধ্যে এ নদের তাণ্ডবে ভিটামাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেকে।

বর্তমানে পানি কিছুটা কমলেও ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ৫ গ্রামের মানুষ। এদিকে ভাঙনকবলিত মানুষ ত্রাণের দাবিতে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।

সরেজমিন ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে চরহোগল পাতিয়া ও রাজাচর গ্রাম। এ দুটি গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়ালখাঁ নদ।

এ গ্রাম দুটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় অবহেলিতভাবে পড়ে আছে। বিগত দিনেও নদে চলে গেছে এ দুটি গ্রামের অনেক গাছপাল, বাড়িঘর ও কয়েকশ’ একর ফসলি জমি।

তখন কেউ এগিয়ে আসেনি দুটি গ্রামের মানুষের পাশে। চরহোগলপাতিয়া গ্রামের একমাত্র বাতিঘর চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই তীব্র ভাঙনের দেখা দিয়েছে। এতে করে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যালয়টি অনেক আগে থেকেই সব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

বর্তমানে পুনরায় একের পর এক আড়িয়ালখাঁ নদের পেটে চলে গেছে চরহোগলপাতিয়া গ্রামের আলী তালুকদার, সোবহান তালুকদার ও কামাল তালুকদারসহ অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও ধান, পাটসহ বিভিন্ন প্রকার ফসলি জমি।

ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়িসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে হোগলপাতিয়া, চরহোগলপাতিয়া ও রাজারচরসহ ৫টি গ্রামের মানুষ নদের ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।

অবহেলিত চরহোগলপাতিয়া ও রাজাচর গ্রামের মানুষেরা বর্তমানে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো প্রকার ত্রাণও পাননি। পানিবন্দি হয়ে কাজকর্ম না করতে পেরে তারা এখন খাদ্য অভাবে দিন কাটাচ্ছে।

কিন্তু দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারিভাবে কোনো ব্যবস্থ্য না নেয়া হলে পুরো চরহোগলপাতিয়া ও রাজাচর গ্রাম যে কোনো মুহূর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

চরহোগলপাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, জুরুরিভিত্তিতে ভাঙন রোধ করা না গেলে অচিরেই হয়তো আমাদের বিদ্যালয়ের অস্তিত্বই হারিয়ে যাবে।

ক্ষতিগ্রস্ত রহিমা বেগম ও আয়শা বেগমসহ কয়েকজন বলেন, ‘আড়িয়ালখাঁ নদ আমাগো ঘড়বাড়ি, জায়গা জমি সব কেড়ে নিয়ে গেছে। ভাঙন রোধ না করা হলে আমাগো বাকি যা আছে সব নদে চলে যাবে।’

রাজাচরের স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মোল্লা বলেন, নদের ভাঙনে রাজাচর গ্রামের সব শেষে হয়ে যাচ্ছে। আমি চেষ্টা করছি ভাঙনকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান মিলন বলেন, স্কুলটি বাঁচাতে ও আড়িয়ালখাঁ ভাঙন বন্ধ করতে বহুবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েছি। তবে দুঃখের বিষয় এখনও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তবে ত্রাণ সহায়তার চেষ্টা চালাচ্ছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

কিন্তু আড়িয়াখাঁ নদের তীব্র স্রোতের কারণে কোনো কাজ হচ্ছে না। স্রোতের তোরে সব নদে চলে যাচ্ছে। স্কুল রক্ষার জন্য সব চেষ্টা অব্যাহত আছে।