বরগুনায় প্রথম উত্তাল হয়ে ওঠে জ্ঞানরঞ্জনের বাড়ি
jugantor
বরগুনায় প্রথম উত্তাল হয়ে ওঠে জ্ঞানরঞ্জনের বাড়ি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা

  আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, বরগুনা  

১৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরগুনায় প্রথম উত্তাল হয়ে ওঠে জ্ঞানরঞ্জনের বাড়ি
ফাইল ছবি

রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠা সাগরপাড়ের বরগুনা জেলার জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের সেই বাড়িটি কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে আজও।

বরগুনা শহরের বাজার রোডের বাবু জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের ঐতিহ্যবাহী টিনশেড বাড়িটি অনেকটা জরাজীর্ণ অবস্থায় টিকে আছে। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ পরবর্তী তৎকালীন এ বাড়িটি ছিল স্বাধীনতাকামী মুক্তিপাগল সমমনাদের বিচরণের একমাত্র ঠিকানা।

বিশেষ করে ১৯৬৯/’৭০/’৭১ এ প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এক কথায় প্রতিটি মুহূর্তই এই বাড়িটি উন্মুক্ত ছিল আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার সমাগম।

জ্ঞানরঞ্জন ঘোষ স্বাধীনচেতা গণমানুষের একান্ত আপনজন হওয়ায় তিনি কোনোদিন কারও কাছে ঘরভাড়া দাবি করেননি। তিনি ছিলেন তৎকালীন বরগুনা মহকুমা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। বছরের পর বছর জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের এই বাড়িটিকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন সংগ্রাম।

বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বরগুনার স্বাধীনচেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ ছাত্রসমাজ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর শুনে বিশেষ করে বাবু জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের এই বাড়িতে সকাল ৮টায় ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পরদিন সকালে বরগুনা কলেজে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এ আন্দোলন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসক সিরাজউদ্দিন আহমেদ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপসহ ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন।

ওইদিনে বরগুনা শহর নিয়ন্ত্রণ ও সর্বাক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর। এছাড়াও হত্যার প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা সুভাল কৃষ্ণ তালুকদার, নন্দন তালুকদার, স্বপন কুমার সরকার, মানিক মণ্ডল, টিও জাহাঙ্গীর। ছাত্র ইউনিয়নের ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, এসএম নজরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা পান্না, মালেক খান, আবুল হোসেন তালুকদার, সৈয়দ গোলাম রব, শাহজাহান, মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল, গাজী মোতালেব।

বরগুনায় প্রথম উত্তাল হয়ে ওঠে জ্ঞানরঞ্জনের বাড়ি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা
 আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, বরগুনা 
১৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বরগুনায় প্রথম উত্তাল হয়ে ওঠে জ্ঞানরঞ্জনের বাড়ি
ফাইল ছবি

রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠা সাগরপাড়ের বরগুনা জেলার জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের সেই বাড়িটি কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে আজও।

বরগুনা শহরের বাজার রোডের বাবু জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের ঐতিহ্যবাহী টিনশেড বাড়িটি অনেকটা জরাজীর্ণ অবস্থায় টিকে আছে। মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ পরবর্তী তৎকালীন এ বাড়িটি ছিল স্বাধীনতাকামী মুক্তিপাগল সমমনাদের বিচরণের একমাত্র ঠিকানা।

বিশেষ করে ১৯৬৯/’৭০/’৭১ এ প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা এক কথায় প্রতিটি মুহূর্তই এই বাড়িটি উন্মুক্ত ছিল আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতার সমাগম।

জ্ঞানরঞ্জন ঘোষ স্বাধীনচেতা গণমানুষের একান্ত আপনজন হওয়ায় তিনি কোনোদিন কারও কাছে ঘরভাড়া দাবি করেননি। তিনি ছিলেন তৎকালীন বরগুনা মহকুমা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি। বছরের পর বছর জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের এই বাড়িটিকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের আন্দোলন সংগ্রাম।

বঙ্গবন্ধু সপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বরগুনার স্বাধীনচেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ ছাত্রসমাজ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর শুনে বিশেষ করে বাবু জ্ঞানরঞ্জন ঘোষের এই বাড়িতে সকাল ৮টায় ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। পরদিন সকালে বরগুনা কলেজে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ঝটিকা মিছিল বের করা হয়।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এ আন্দোলন কর্মসূচিতে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন মহাকুমা প্রশাসক সিরাজউদ্দিন আহমেদ। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও ন্যাপসহ ছাত্রলীগ-ছাত্র ইউনিয়ন।

ওইদিনে বরগুনা শহর নিয়ন্ত্রণ ও সর্বাক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছেন তৎকালীন মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর। এছাড়াও হত্যার প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা সুভাল কৃষ্ণ তালুকদার, নন্দন তালুকদার, স্বপন কুমার সরকার, মানিক মণ্ডল, টিও জাহাঙ্গীর। ছাত্র ইউনিয়নের ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন, এসএম নজরুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা পান্না, মালেক খান, আবুল হোসেন তালুকদার, সৈয়দ গোলাম রব, শাহজাহান, মুক্তিযোদ্ধা সুখরঞ্জন শীল, গাজী মোতালেব।