সাহসীদের খোঁজ নেন না কেউ
jugantor
সাহসীদের খোঁজ নেন না কেউ
ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদত বার্ষিকী পালন

  আসাদুজ্জামান ফারুক, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)  

১৫ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাহসীদের খোঁজ নেন না কেউ
ফাইল ছবি

ভৈরবের হাজী আসমত কলেজের ছাত্রাবাসের দোতলায় একদল পুলিশ উঠে বলল, ‘তোরা কীসের মিলাদের আয়োজন করেছিস। এত দুঃসাহস তোদের? অকথ্য ভাষায় গালি দিয়েই সেদিন পুলিশ সদস্যরা সবাইকে লাঠিপেটা শুরু করল।

পায়ের বুট আর রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করতে লাগল যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে। পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনে সেদিন অনেকেই রক্তাক্ত হয়েছিল।

এরপর উপস্থিত ২২ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেল। তারপর তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেয়া হল থানায়। সেদিন তাদের অপরাধ ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদতবার্ষিকীতে তারা মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল বঙ্গবন্ধুকে ঘাতকরা সপরিবারে হত্যার এক বছর পর ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট। এদিন ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদতবার্ষিকী। স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল।

সেদিন গ্রেফতার ২২ জনকে পুলিশ কারাগারে পাঠায়। তারপর দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর তারা পর্যায়ক্রমে জেল থেকে ছাড়া পায়। সেদিনের সাহসীদের খোঁজখবর এখন কেউ রাখে না।’

এসব ক্ষোভের কথাগুলো বললেন সে সময়ের গ্রেফতার ছাত্রনেতা রসরাজ সাহা ও মতিউর রহমান। সেদিনের ঘটনায় যারা গ্রেফতার হয়েছিল তারা হল, তৎকালীন থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম আক্কাছ (বর্তমানে পৌর মেয়র), ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান ফারুক (বর্তমানে সাংবাদিক), রুহুল আমীন, মাহবুব, মতিউর রহমান, মফিজুর রহমান, মোশারফ হোসেন, জিল্লুর রহমান জিল্লু, আসাদ মিয়া, আতাউর রহমান, আসাদুল হক শিশু, ফিরুজ মিয়া, দীলিপ চন্দ্র সাহা ও তার ভাই দীজেন্দ্র চন্দ্র সাহা, ফজলুর রহমান, আবদুল হামিদ, ইদ্রিছ মিয়া, মাহবুব আলম, রসরাজ সাহা, সুবল চন্দ্র কর, শাহজালাল হোসেন ও আজমল ভূঁইয়া।

এবারের ১৫ আগস্ট হবে বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশে সামরিক শাসন জারি করা হয়।

তখন সামরিক সরকারের ভয়ে কেউ বঙ্গবন্ধুর নামটি উচ্চারণ করতেন না। দেশের অধিকাংশ আ’লীগ নেতাকর্মীরা ছিল জেলে এবং কেউ কেউ ছিল পলাতক। এই দুঃসময়ে ভৈরবে ২২ জন নেতাকর্মী তৎকালীন হাজী আসমত কলেজের শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসে (বর্তমান শৈবাল হোটেল) বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদতবার্ষিকীর আয়োজন করেছিল।

এ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টায় ১২ জন মৌলভি ছাত্রাবাসে এসে কোরআন খতম শুরু করে। বিকাল ৪টার মধ্যে ২২ জন নেতাকর্মী মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়।

সেদিন মিলাদ শুরুর আগেই গোয়োন্দাদের কাছে খবর পৌঁছে যায়। সামরিক সরকারের কর্তৃপক্ষ তখন নির্দেশ দেয়, আয়োজন বন্ধ করে আয়োজনকারীদের গ্রেফতার করতে।

এই নির্দেশ দেয়ার পর ভৈরব থানা পুলিশের ২০-৩০ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রাবাসটি ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ ছাত্রাবাসে ঢুকেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও নির্যাতন শুরু করে। এরপর ২২ জনকে গ্রেফতার করে এবং মৌলভীদেরকে আটক করার পর থানায় নিয়ে মুচলেকায় ছেড়ে দিলেও ২২ জনকে আটক করা হয়।

সাহসীদের খোঁজ নেন না কেউ

ভৈরবে বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদত বার্ষিকী পালন
 আসাদুজ্জামান ফারুক, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) 
১৫ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
সাহসীদের খোঁজ নেন না কেউ
ফাইল ছবি

ভৈরবের হাজী আসমত কলেজের ছাত্রাবাসের দোতলায় একদল পুলিশ উঠে বলল, ‘তোরা কীসের মিলাদের আয়োজন করেছিস। এত দুঃসাহস তোদের? অকথ্য ভাষায় গালি দিয়েই সেদিন পুলিশ সদস্যরা সবাইকে লাঠিপেটা শুরু করল।

পায়ের বুট আর রাইফেলের বাঁট দিয়ে আঘাত করতে লাগল যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরকে। পুলিশের অমানুষিক নির্যাতনে সেদিন অনেকেই রক্তাক্ত হয়েছিল।

এরপর উপস্থিত ২২ জন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে গেল। তারপর তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেয়া হল থানায়। সেদিন তাদের অপরাধ ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদতবার্ষিকীতে তারা মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছিল বঙ্গবন্ধুকে ঘাতকরা সপরিবারে হত্যার এক বছর পর ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট। এদিন ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদতবার্ষিকী। স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছিল।

সেদিন গ্রেফতার ২২ জনকে পুলিশ কারাগারে পাঠায়। তারপর দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর তারা পর্যায়ক্রমে জেল থেকে ছাড়া পায়। সেদিনের সাহসীদের খোঁজখবর এখন কেউ রাখে না।’

এসব ক্ষোভের কথাগুলো বললেন সে সময়ের গ্রেফতার ছাত্রনেতা রসরাজ সাহা ও মতিউর রহমান। সেদিনের ঘটনায় যারা গ্রেফতার হয়েছিল তারা হল, তৎকালীন থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম আক্কাছ (বর্তমানে পৌর মেয়র), ছাত্রলীগ নেতা আসাদুজ্জামান ফারুক (বর্তমানে সাংবাদিক), রুহুল আমীন, মাহবুব, মতিউর রহমান, মফিজুর রহমান, মোশারফ হোসেন, জিল্লুর রহমান জিল্লু, আসাদ মিয়া, আতাউর রহমান, আসাদুল হক শিশু, ফিরুজ মিয়া, দীলিপ চন্দ্র সাহা ও তার ভাই দীজেন্দ্র চন্দ্র সাহা, ফজলুর রহমান, আবদুল হামিদ, ইদ্রিছ মিয়া, মাহবুব আলম, রসরাজ সাহা, সুবল চন্দ্র কর, শাহজালাল হোসেন ও আজমল ভূঁইয়া।

এবারের ১৫ আগস্ট হবে বঙ্গবন্ধুর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে ঘাতকরা নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশে সামরিক শাসন জারি করা হয়।

তখন সামরিক সরকারের ভয়ে কেউ বঙ্গবন্ধুর নামটি উচ্চারণ করতেন না। দেশের অধিকাংশ আ’লীগ নেতাকর্মীরা ছিল জেলে এবং কেউ কেউ ছিল পলাতক। এই দুঃসময়ে ভৈরবে ২২ জন নেতাকর্মী তৎকালীন হাজী আসমত কলেজের শহীদ আশুরঞ্জন ছাত্রাবাসে (বর্তমান শৈবাল হোটেল) বঙ্গবন্ধুর প্রথম শাহাদতবার্ষিকীর আয়োজন করেছিল।

এ উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। বিকাল সাড়ে ৩টায় ১২ জন মৌলভি ছাত্রাবাসে এসে কোরআন খতম শুরু করে। বিকাল ৪টার মধ্যে ২২ জন নেতাকর্মী মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়।

সেদিন মিলাদ শুরুর আগেই গোয়োন্দাদের কাছে খবর পৌঁছে যায়। সামরিক সরকারের কর্তৃপক্ষ তখন নির্দেশ দেয়, আয়োজন বন্ধ করে আয়োজনকারীদের গ্রেফতার করতে।

এই নির্দেশ দেয়ার পর ভৈরব থানা পুলিশের ২০-৩০ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রাবাসটি ঘিরে ফেলে। এ সময় পুলিশ ছাত্রাবাসে ঢুকেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও নির্যাতন শুরু করে। এরপর ২২ জনকে গ্রেফতার করে এবং মৌলভীদেরকে আটক করার পর থানায় নিয়ে মুচলেকায় ছেড়ে দিলেও ২২ জনকে আটক করা হয়।