জকিগঞ্জে অসহায়দের ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে
jugantor
জকিগঞ্জে অসহায়দের ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে

  জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি  

২৯ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য যুবলীগ নেতা সুমন আহমদের পকেটে ঢুকেছে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক নারী-পুরুষ ও বিধবাদের ভাতার টাকা।

অসহায়দের ভাতার কার্ড জিম্মি করে এজেন্টের মাধ্যমে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেছেন তিনি। রয়েছে ভয়ঙ্কর জালিয়াতির প্রমাণ।

পুরো ঘটনাটি দুদকের একটি টিম তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বারহাল ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের ছানাইরাম দাস, মুহিদপুর গ্রামের আবদুল মান্নান, ফরিজ আলী, মুজম্মিল আলীসহ বেশ কয়েকজন ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কিন্তু তাদের নামে ২০১৯ সালে অগ্রণী ব্যাংক শাহগলী শাখা থেকে বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন।

এক প্রতিবন্ধী বাদী হয়ে সুমন মেম্বারকে আসামি করে থানায় এজাহারও জমা দিয়েছেন। অপর আরেকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মুহিদপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়স্ক লালই বিবি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড নেয়ার জন্য সুমন মেম্বারের এজেন্টকে ৫০০ ও ২০০ টাকা করে অনেকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বয়স্ক ভাতার টাকা পাননি।

আয়রুন নেছা নামের বিধবা জানান, মেম্বারকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে এখনও ভাতার কার্ড ও টাকা পাননি। ওই গ্রামের শিল্পী বেগম জানান, তার মেয়ের নাম প্রতিবন্ধীর তালিকায় দেয়ার জন্য প্রথমে সুমন মেম্বারকে টাকা দিয়েছেন।

কার্ড পাওয়ার পর তিনি আরও তিন হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন।

এক প্রতিবন্ধীর বাবা আবদুল মুতলিব পাখি মিয়া জানান, তার ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য ইউপি সদস্য সুমন ও তার পিএস সাঈদ তিন হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি টাকা দেননি। এ কারণে তার ছেলে ভাতার কার্ড পায়নি।

এছাড়া সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ভারতীয় জুয়া খেলার রমরমা ব্যবসা করাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অনেক অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ভারতীয় জুয়া খেলার এজেন্ট হয়ে গড়ছেন টাকার পাহাড়। তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও সাহস পান না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় সুমন মেম্বারের নামে চাঁদা তুলতেন বারহাল ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ আবদুস সালাম।

তিনি ভাতাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে গ্রামপুলিশ আবদুস সালাম বলেন, বিধবা নারীরা ব্যাংকে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে গেলে সুমন মেম্বারের নির্দেশে তিনি তাদের কারও কাছ থেকে দুই হাজার, আবার কারও কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে আদায় করেন।তারপর সব টাকা সুমন মেম্বারের কাছে জমা দেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন মেম্বার বলেন, ‘আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব করা হচ্ছে। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।’

থানার ওসি মীর মো. আবদুন নাসের জানান, একজন প্রতিবন্ধী এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত করবে দুদক। প্রতিবন্ধীর এজাহার গ্রহণ করে থানায় জিডি করে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী আক্তার জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জকিগঞ্জে অসহায়দের ভাতার টাকা ইউপি সদস্যের পকেটে

 জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি 
২৯ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য যুবলীগ নেতা সুমন আহমদের পকেটে ঢুকেছে প্রতিবন্ধী, বয়স্ক নারী-পুরুষ ও বিধবাদের ভাতার টাকা।

অসহায়দের ভাতার কার্ড জিম্মি করে এজেন্টের মাধ্যমে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেছেন তিনি। রয়েছে ভয়ঙ্কর জালিয়াতির প্রমাণ।

পুরো ঘটনাটি দুদকের একটি টিম তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বারহাল ইউনিয়নের নূরনগর গ্রামের ছানাইরাম দাস, মুহিদপুর গ্রামের আবদুল মান্নান, ফরিজ আলী, মুজম্মিল আলীসহ বেশ কয়েকজন ২০১৪ ও ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কিন্তু তাদের নামে ২০১৯ সালে অগ্রণী ব্যাংক শাহগলী শাখা থেকে বয়স্ক ভাতার টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন ইউপি সদস্য। এ ঘটনায় এলাকাবাসী সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন।

এক প্রতিবন্ধী বাদী হয়ে সুমন মেম্বারকে আসামি করে থানায় এজাহারও জমা দিয়েছেন। অপর আরেকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মুহিদপুর গ্রামের ৭০ বছর বয়স্ক লালই বিবি ক্ষোভ নিয়ে বলেন, বয়স্ক ভাতার কার্ড নেয়ার জন্য সুমন মেম্বারের এজেন্টকে ৫০০ ও ২০০ টাকা করে অনেকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বয়স্ক ভাতার টাকা পাননি।

আয়রুন নেছা নামের বিধবা জানান, মেম্বারকে ২ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে এখনও ভাতার কার্ড ও টাকা পাননি। ওই গ্রামের শিল্পী বেগম জানান, তার মেয়ের নাম প্রতিবন্ধীর তালিকায় দেয়ার জন্য প্রথমে সুমন মেম্বারকে টাকা দিয়েছেন।

কার্ড পাওয়ার পর তিনি আরও তিন হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি তাকে এক হাজার টাকা দিয়েছেন।

এক প্রতিবন্ধীর বাবা আবদুল মুতলিব পাখি মিয়া জানান, তার ছেলের প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য ইউপি সদস্য সুমন ও তার পিএস সাঈদ তিন হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু তিনি টাকা দেননি। এ কারণে তার ছেলে ভাতার কার্ড পায়নি।

এছাড়া সুমন মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ভারতীয় জুয়া খেলার রমরমা ব্যবসা করাসহ বিভিন্ন অপকর্মের অনেক অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

ভারতীয় জুয়া খেলার এজেন্ট হয়ে গড়ছেন টাকার পাহাড়। তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতেও সাহস পান না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় সুমন মেম্বারের নামে চাঁদা তুলতেন বারহাল ইউনিয়নের গ্রামপুলিশ আবদুস সালাম।

তিনি ভাতাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে গ্রামপুলিশ আবদুস সালাম বলেন, বিধবা নারীরা ব্যাংকে ভাতার টাকা উত্তোলন করতে গেলে সুমন মেম্বারের নির্দেশে তিনি তাদের কারও কাছ থেকে দুই হাজার, আবার কারও কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে আদায় করেন।তারপর সব টাকা সুমন মেম্বারের কাছে জমা দেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুমন মেম্বার বলেন, ‘আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এসব করা হচ্ছে। আমি এসবের সঙ্গে জড়িত নই।’

থানার ওসি মীর মো. আবদুন নাসের জানান, একজন প্রতিবন্ধী এজাহার দিয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত করবে দুদক। প্রতিবন্ধীর এজাহার গ্রহণ করে থানায় জিডি করে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে দুদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমী আক্তার জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।