মধুপুরে সওজের জমিতে পৌরসভার যাত্রীছাউনি
jugantor
মধুপুরে সওজের জমিতে পৌরসভার যাত্রীছাউনি

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি  

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মধুপুরে সওজের জমিতে পৌরসভার যাত্রীছাউনি

মধুপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।

অবৈধভাবে যাত্রীছাউনি নির্মাণ বন্ধে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

লিখিত আবেদনের পর কয়েক দিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

তবে মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাত্রীছাউনির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। লিখিত আবেদনে জানা যায়, মধুপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। শুধু যাত্রীছাউনিই নয়, সঙ্গে টয়লেট ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হবে।

পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়ার মাস দুই পর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষতির মুখে পড়েন সেখানকার জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা।

পরে যাত্রীছাউনি নির্মাণ বন্ধে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে জেলা প্রশাসক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

মধুপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী খায়রুল আহসান কাজল জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেখানে যাত্রীছাউনির নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেখানে বিগত সময়ে কোনো প্রকার বাস কিংবা সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়ায়নি বা থামেনি। ফলে সেখানে কোনো যাত্রীছাউনির প্রয়োজন নেই।

নিজেদের সুবিধার্থে জাইকার একটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য সড়ক বিভাগের জায়গায় যাত্রীছাউনি নির্মাণ করছে পৌরসভা। তবে যাত্রীছাউনির নামে পৌর কর্তৃপক্ষ সেটা পরে দোকান হিসেবে ভাড়া দেয়ার পাঁয়তারা করছে।

যাত্রীছাউনির সঙ্গে যে টয়লেট ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হচ্ছে সেটিও গণশৌচাগার হিসেবে ইজারা দেবে পৌর কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো জানান, অবৈধভাবে যাত্রীছাউনি নির্মাণ বন্ধে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হককে জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া কাজ শুরু করার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন।

মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ জানান, যাত্রীছাউনি করার জন্য সড়ক বিভাগের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও যাত্রীছাউনির বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। যাত্রীছাউনির জায়গা ও স্থান নির্ধারণের জন্য টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগে আবেদন করা হয়েছিল।

এছাড়া পৌরসভার মধ্যে যাবতীয় কাজ করা পৌরসভার এখতিয়ারের মধ্যে। পৌরসভা আইন ২০০৯ এর আওতায় যেকোনো শাখা কাজ করবে পৌরসভার অনুমতি নিয়ে।

জনগণ সড়ক বিভাগের জায়গার মালিক নন। যদি কোনো বাধাবিপত্তি করতে হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। কেউ ব্যক্তি স্বার্থে যদি সরকারি জায়গা দখল করে নেয় সে জায়গা উদ্ধার করার সরকারি নির্দেশ আছে।

তিনি আরাও জানান, মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে উন্নতমানের যাত্রীসেবা নেই। সেই লক্ষ্যে যাত্রীছাউনি করা হচ্ছে। মৌখিকভাবে অনুমতি নেয়া হয়েছে।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কাজটি শুরু করা হয়।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, অনুমতি না নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় পৌর কর্তৃপক্ষের যাত্রীছাউনি নির্মাণ অবৈধ।

অবিলম্বে নির্মাণ বন্ধ করে যাত্রীছাউনি সরিয়ে নিতে পৌর কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

মধুপুরে সওজের জমিতে পৌরসভার যাত্রীছাউনি

 টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
মধুপুরে সওজের জমিতে পৌরসভার যাত্রীছাউনি
ফাইল ছবি

মধুপুর পৌরসভার বিরুদ্ধে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে যাত্রীছাউনি নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে।

অবৈধভাবে যাত্রীছাউনি নির্মাণ বন্ধে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর যৌথভাবে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

লিখিত আবেদনের পর কয়েক দিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকলেও পুনরায় শুরু করা হয়েছে।

তবে মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাত্রীছাউনির নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। লিখিত আবেদনে জানা যায়, মধুপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুটি যাত্রীছাউনি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। শুধু যাত্রীছাউনিই নয়, সঙ্গে টয়লেট ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হবে।

পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেয়ার মাস দুই পর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। এতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষতির মুখে পড়েন সেখানকার জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা।

পরে যাত্রীছাউনি নির্মাণ বন্ধে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে জেলা প্রশাসক এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

মধুপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী খায়রুল আহসান কাজল জানান, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ যেখানে যাত্রীছাউনির নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেখানে বিগত সময়ে কোনো প্রকার বাস কিংবা সিএনজি অটোরিকশা দাঁড়ায়নি বা থামেনি। ফলে সেখানে কোনো যাত্রীছাউনির প্রয়োজন নেই।

নিজেদের সুবিধার্থে জাইকার একটি প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করার জন্য সড়ক বিভাগের জায়গায় যাত্রীছাউনি নির্মাণ করছে পৌরসভা। তবে যাত্রীছাউনির নামে পৌর কর্তৃপক্ষ সেটা পরে দোকান হিসেবে ভাড়া দেয়ার পাঁয়তারা করছে।

যাত্রীছাউনির সঙ্গে যে টয়লেট ও সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হচ্ছে সেটিও গণশৌচাগার হিসেবে ইজারা দেবে পৌর কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো জানান, অবৈধভাবে যাত্রীছাউনি নির্মাণ বন্ধে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোজাম্মেল হককে জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে উল্টো মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া কাজ শুরু করার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন।

মধুপুর পৌরসভার মেয়র মাসুদ পারভেজ জানান, যাত্রীছাউনি করার জন্য সড়ক বিভাগের কাছ থেকে মৌখিকভাবে অনুমতি নেয়া হয়েছে।

এছাড়াও যাত্রীছাউনির বিষয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে। যাত্রীছাউনির জায়গা ও স্থান নির্ধারণের জন্য টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগে আবেদন করা হয়েছিল।

এছাড়া পৌরসভার মধ্যে যাবতীয় কাজ করা পৌরসভার এখতিয়ারের মধ্যে। পৌরসভা আইন ২০০৯ এর আওতায় যেকোনো শাখা কাজ করবে পৌরসভার অনুমতি নিয়ে।

জনগণ সড়ক বিভাগের জায়গার মালিক নন। যদি কোনো বাধাবিপত্তি করতে হয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। কেউ ব্যক্তি স্বার্থে যদি সরকারি জায়গা দখল করে নেয় সে জায়গা উদ্ধার করার সরকারি নির্দেশ আছে।

তিনি আরাও জানান, মধুপুর বাসস্ট্যান্ডে উন্নতমানের যাত্রীসেবা নেই। সেই লক্ষ্যে যাত্রীছাউনি করা হচ্ছে। মৌখিকভাবে অনুমতি নেয়া হয়েছে।

সড়ক বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কাজটি শুরু করা হয়।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, অনুমতি না নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় পৌর কর্তৃপক্ষের যাত্রীছাউনি নির্মাণ অবৈধ।

অবিলম্বে নির্মাণ বন্ধ করে যাত্রীছাউনি সরিয়ে নিতে পৌর কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।