রোগী নিয়ে দালালের টানাটানি
jugantor
চরফ্যাশনে একশ’ শয্যার সরকারি হাসপাতাল
রোগী নিয়ে দালালের টানাটানি

  আমির হোসেন, চরফ্যাশন (দক্ষিণ)  

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোগী নিয়ে দালালের টানাটানি

চরফ্যাশন উপজেলা সদরে ১শ’ শয্যার সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ রোগীদের শয্যাগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক দালাল। সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে রোগী ও স্বজনরা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে হাসপাতাল ও হাসপাতাল রোডে। জানা যায়, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীকে উন্নত চিকিৎসা আর কমমূল্যে নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর ক্লিনিকগুলোতে বাগিয়ে নিতে তৎপর থাকে তারা।

সম্প্রতি দুই দালাল রোগীর স্বজন শিশুকে ভুলিয়ে বালিয়ে সরকারি হাসপাতালের নির্জন কক্ষে নিয়ে ধর্ষণে চেষ্টা করেছে।

মূলত সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠা বৈধ-অবৈধ ৩৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো রোগী ধরার জন্য কমিশনের বিনিময়ে এসব দালাল পুষছেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর ক্লিনিকগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠায় সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব দালালদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আছেন নিত্যদুর্ভোগ আর বিড়ম্বনার মধ্যে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরফ্যাশনে ২৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৬টি প্রাইভেট ক্লিনিক আছে। যেগুলোর মধ্যে ৯টি অনুমোদনহীন।

বাকি ২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে কোনটিই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর মধ্যে ৬টি প্রত্যন্ত হাটবাজারে এবং ২৯টি উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়কে গড়ে উঠেছে।

১শ’ শয্যার উপজেলা সরকারি হাসপাতালের ২শ’ গজের মধ্যে এবং হাসপাতাল সড়কের দু’পাশজুড়ে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সরকারি হাসপাতালগামী রোগীরা প্রায়ই গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছার আগেই দালালদের বহুমুখী টানাটানির মধ্যে পড়ে।

টানাটানি শেষে কোনো রোগী সরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছলেও সেখানে ওৎপেতে থাকেন ঝাঁকে ঝাঁকে দালাল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে বাগিয়ে নিয়ে যায়।

এদের বিরুদ্ধে গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসার নামে সঠিকভাবে প্যাথলজি পরীক্ষা না করেই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অনেক চিকিৎসকও দালালরা এসব প্যাথলজি থেকে কমিশন পেয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।

সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠা এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর বেশিরভাগই নেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মনীতি। নেই দক্ষ লোকবল ও উন্নতমানের যন্ত্রপাতি। সম্প্রতি একজন শিশু রোগী ভুল এবং ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে হাসপাতাল রোডে গড়ে ওঠা জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

৬টি প্রাইভেট ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র দুই একটি ক্লিনিক ১০ শয্যার লোকবল নিয়ে সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও অপর প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে তুলেছেন ২০/৩০ শয্যার প্রাইভেট ক্লিনিক।

চরফ্যাশন হাসপাতালে টিএইচও ডা. শোভন বসাক দালালচক্রের দৌরাত্ম্যরে কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, হাসপাতাল চত্বরে দালালদের উৎপাত ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন ও চরফ্যাশন থানা পুলিশকে চিঠি দিয়ে জানান হয়েছে। হাসপাতাল চত্বর থেকে দালাল নির্মূলের চেষ্টা চলছে।

চরফ্যাশনে একশ’ শয্যার সরকারি হাসপাতাল

রোগী নিয়ে দালালের টানাটানি

 আমির হোসেন, চরফ্যাশন (দক্ষিণ) 
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
রোগী নিয়ে দালালের টানাটানি
ফাইল ছবি

চরফ্যাশন উপজেলা সদরে ১শ’ শয্যার সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ রোগীদের শয্যাগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শতাধিক দালাল। সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে রোগী ও স্বজনরা।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে হাসপাতাল ও হাসপাতাল রোডে। জানা যায়, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা রোগীকে উন্নত চিকিৎসা আর কমমূল্যে নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার আশ্বাস দিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর ক্লিনিকগুলোতে বাগিয়ে নিতে তৎপর থাকে তারা।

সম্প্রতি দুই দালাল রোগীর স্বজন শিশুকে ভুলিয়ে বালিয়ে সরকারি হাসপাতালের নির্জন কক্ষে নিয়ে ধর্ষণে চেষ্টা করেছে।

মূলত সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠা বৈধ-অবৈধ ৩৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো রোগী ধরার জন্য কমিশনের বিনিময়ে এসব দালাল পুষছেন।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর ক্লিনিকগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠায় সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব দালালদের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছেন।

ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আছেন নিত্যদুর্ভোগ আর বিড়ম্বনার মধ্যে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চরফ্যাশনে ২৯টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৬টি প্রাইভেট ক্লিনিক আছে। যেগুলোর মধ্যে ৯টি অনুমোদনহীন।

বাকি ২০টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মধ্যে কোনটিই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে না। এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর মধ্যে ৬টি প্রত্যন্ত হাটবাজারে এবং ২৯টি উপজেলা সদরের হাসপাতাল সড়কে গড়ে উঠেছে।

১শ’ শয্যার উপজেলা সরকারি হাসপাতালের ২শ’ গজের মধ্যে এবং হাসপাতাল সড়কের দু’পাশজুড়ে এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সরকারি হাসপাতালগামী রোগীরা প্রায়ই গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছার আগেই দালালদের বহুমুখী টানাটানির মধ্যে পড়ে।

টানাটানি শেষে কোনো রোগী সরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছলেও সেখানে ওৎপেতে থাকেন ঝাঁকে ঝাঁকে দালাল। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে বাগিয়ে নিয়ে যায়।

এদের বিরুদ্ধে গ্রামের সহজ-সরল রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসার নামে সঠিকভাবে প্যাথলজি পরীক্ষা না করেই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অনেক চিকিৎসকও দালালরা এসব প্যাথলজি থেকে কমিশন পেয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।

সরকারি হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে উঠা এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকগুলোর বেশিরভাগই নেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মনীতি। নেই দক্ষ লোকবল ও উন্নতমানের যন্ত্রপাতি। সম্প্রতি একজন শিশু রোগী ভুল এবং ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে হাসপাতাল রোডে গড়ে ওঠা জনসেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিকের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

৬টি প্রাইভেট ক্লিনিকের মধ্যে মাত্র দুই একটি ক্লিনিক ১০ শয্যার লোকবল নিয়ে সঠিকভাবে পরিচালিত হলেও অপর প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে তুলেছেন ২০/৩০ শয্যার প্রাইভেট ক্লিনিক।

চরফ্যাশন হাসপাতালে টিএইচও ডা. শোভন বসাক দালালচক্রের দৌরাত্ম্যরে কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, হাসপাতাল চত্বরে দালালদের উৎপাত ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন ও চরফ্যাশন থানা পুলিশকে চিঠি দিয়ে জানান হয়েছে। হাসপাতাল চত্বর থেকে দালাল নির্মূলের চেষ্টা চলছে।