যত্রতত্র বিক্রি, ইচ্ছামতো দাম
jugantor
যত্রতত্র বিক্রি, ইচ্ছামতো দাম
চাঁদপুরে মুদি সেলুন ফার্নিচারের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার

  মির্জা জাকির, চাঁদপুর  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যত্রতত্র বিক্রি, ইচ্ছামতো দাম

নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই। যেখানে-সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে এলপি (সিলিন্ডার) গ্যাস। মুদি দোকান থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জের দোকান, লাকড়ির দোকান, ফোন-ফ্যাক্সের দোকান, সেলুন, স্যানিটারির দোকানেও এসব সিলিন্ডার গ্যাস অবাধে বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ট, ট্রাক রোড, মরহুম আবদুল করিম পাটওয়ারী সড়ক, মিশন রোড, ওয়্যারলেস, বঙ্গবন্ধু সড়ক, পুরানবাজার, নতুনবাজার, হাজী মহসীন রোড, বাবুরহাট মৈশাদী, টেকনিকালসহ শহর এবং শহরের বাইরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারের বিভিন্ন দোকানে, দোকানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এসব গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।

জেলার অধিকাংশ দোকানির এলপি গ্যাস বিক্রির অনুমোদন নেই। তারপরও অনেক দোকানে পুরনো সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় ও মজুদ করতে পরিবেশ অধিদফতর, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ অধিদফতরসহ জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ থাকলেও শুধু পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন প্রকাশ্যেই।

অথচ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কোনো ধরনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকায় জেলার অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন সাইজের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য তালিকাও নেই।

এসব মৌসুমি দোকানিদের এলপি গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুনও জানা নেই। নিুমানের রেগুলেটর, গ্যাস সরবরাহ পাইপ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ চুলা বিক্রিও হচ্ছে। বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও রেস্টুরেন্টে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এবং দামও রাখা হচ্ছে ইচ্ছামতো।

এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়মকানুন না জানায় দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে কোথাও কোথাও। এছাড়াও বিভিন্ন সিলিন্ডার বিক্রয়কারী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকার কথা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তা থাকলেও অনেক স্থানেই ব্যবস্থা নেই।

জানা যায়, চাঁদপুর শহরের এবং শহরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্নস্থানে অনেক বাসাবাড়িতে গ্যাসলাইন না থাকায় তারা সিলিন্ডার গ্যাসনির্ভর হয়ে আছে।

এ চাহিদার সুযোগে সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য নির্ধারণেও কোনো বালাই নেই। জনবহুল আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ ব্যবসা চললেও দেখার কেউ নেই। সিলিন্ডার গ্যাসের ছড়াছড়ি আর বিক্রির হিড়িকের কারণে দুর্ঘটনার শংকাও রয়েছে অনেক বেশি।

চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানের এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই সিলিন্ডার বিক্রি করে আসছি। কিন্তু অনুমোদন বা লাইসেন্সের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, যারা এসব এলপি সিলিন্ডার বিক্রি করে তারা যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখবে সে শর্ত অনুযাযী তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়।

যদি কোনো ব্যবসায়ী লাইসেন্সবিহীন কিংবা অগ্নিনির্বাপণের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রেখেই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে থাকে তাহলে সেটিও আমরা দেখব।

এছাড়া যারা লাইসেন্স নিয়ে সিলিন্ডার ব্যবসা করেন তাদের আমরা মাঝে মাঝে সচেতন করি। বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণও দেয়া হয়।

যত্রতত্র বিক্রি, ইচ্ছামতো দাম

চাঁদপুরে মুদি সেলুন ফার্নিচারের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার
 মির্জা জাকির, চাঁদপুর 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
যত্রতত্র বিক্রি, ইচ্ছামতো দাম
ফাইল ছবি

নিয়মনীতির কোনো বালাই নেই। যেখানে-সেখানে বিক্রি করা হচ্ছে এলপি (সিলিন্ডার) গ্যাস। মুদি দোকান থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জের দোকান, লাকড়ির দোকান, ফোন-ফ্যাক্সের দোকান, সেলুন, স্যানিটারির দোকানেও এসব সিলিন্ডার গ্যাস অবাধে বিক্রি হচ্ছে।

চাঁদপুর শহরের বাসস্ট্যান্ট, ট্রাক রোড, মরহুম আবদুল করিম পাটওয়ারী সড়ক, মিশন রোড, ওয়্যারলেস, বঙ্গবন্ধু সড়ক, পুরানবাজার, নতুনবাজার, হাজী মহসীন রোড, বাবুরহাট মৈশাদী, টেকনিকালসহ শহর এবং শহরের বাইরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারের বিভিন্ন দোকানে, দোকানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এসব গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।

জেলার অধিকাংশ দোকানির এলপি গ্যাস বিক্রির অনুমোদন নেই। তারপরও অনেক দোকানে পুরনো সিলিন্ডারে এলপি গ্যাস বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় ও মজুদ করতে পরিবেশ অধিদফতর, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ অধিদফতরসহ জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কথা উল্লেখ থাকলেও শুধু পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন প্রকাশ্যেই।

অথচ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে কোনো ধরনের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি না থাকায় জেলার অধিকাংশ দোকানে বিভিন্ন সাইজের এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য তালিকাও নেই।

এসব মৌসুমি দোকানিদের এলপি গ্যাস ব্যবহারের নিয়মকানুনও জানা নেই। নিুমানের রেগুলেটর, গ্যাস সরবরাহ পাইপ ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ চুলা বিক্রিও হচ্ছে। বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও রেস্টুরেন্টে এলপি গ্যাসের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এবং দামও রাখা হচ্ছে ইচ্ছামতো।

এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়মকানুন না জানায় দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে কোথাও কোথাও। এছাড়াও বিভিন্ন সিলিন্ডার বিক্রয়কারী ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকার কথা থাকলেও হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে তা থাকলেও অনেক স্থানেই ব্যবস্থা নেই।

জানা যায়, চাঁদপুর শহরের এবং শহরের বাইরে বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্নস্থানে অনেক বাসাবাড়িতে গ্যাসলাইন না থাকায় তারা সিলিন্ডার গ্যাসনির্ভর হয়ে আছে।

এ চাহিদার সুযোগে সিলিন্ডার গ্যাসের মূল্য নির্ধারণেও কোনো বালাই নেই। জনবহুল আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ ব্যবসা চললেও দেখার কেউ নেই। সিলিন্ডার গ্যাসের ছড়াছড়ি আর বিক্রির হিড়িকের কারণে দুর্ঘটনার শংকাও রয়েছে অনেক বেশি।

চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানের এলপি গ্যাস বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই সিলিন্ডার বিক্রি করে আসছি। কিন্তু অনুমোদন বা লাইসেন্সের ব্যাপারে আমাদের কিছু জানা নেই।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, যারা এসব এলপি সিলিন্ডার বিক্রি করে তারা যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখবে সে শর্ত অনুযাযী তাদের লাইসেন্স দেয়া হয়।

যদি কোনো ব্যবসায়ী লাইসেন্সবিহীন কিংবা অগ্নিনির্বাপণের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না রেখেই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে থাকে তাহলে সেটিও আমরা দেখব।

এছাড়া যারা লাইসেন্স নিয়ে সিলিন্ডার ব্যবসা করেন তাদের আমরা মাঝে মাঝে সচেতন করি। বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণও দেয়া হয়।