জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস
jugantor
দশমিনায় আশ্রয়ণ প্রকল্প
জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস
অসহায় ৭২২টি পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন

  দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

আর্থিক অভাব ও অনটনের কারণে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ১৫টি আশ্রয়ণে ৭২২ পরিবার ব্র্যাক ঘর সংস্কার করতে পারছে না।

বাসিন্দাদের ব্র্যাক ঘরের ছাউনিতে বড় বড় ছিদ্র, বেড়া ও আরসিসি খুঁটি অনেকটা ভেঙে পড়েছে। ফলে বৃষ্টি হলেই পানিতে একাকার হওয়া ও ঘরের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিন লক্ষ্মীপুর-নিজাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্প ও সৈয়দ জাফর আদর্শগ্রামে ঘুরে এরকম চিত্র দেখা গেছে।

নিজাবাদ-লক্ষ্মীপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সুইপার নজির, দিনমজুর সালাম ও মস্তফাসহ ৩টি পরিবারের মোট ২২জন লোকের বসবাস। করোনাভাইরাস ও কাজের অভাবে তাদের তেমন কোনো আয়-রোজগার নেই।

তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের ঘরগুলো কেউ সংস্কার করে দিচ্ছে না এবং ঘরগুলো বসবাসের উপযোগী করতে ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জানিয়েও তারা কোনো সুফল পাইনি।

ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি পরিবারের মধ্যে ৩৭টি পরিবার বিভিন্ন সময়ে শ্রম বিকাতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যত্রে চলে গেছে। কথা হয় সৈয়দ জাফর আদর্শ গ্রামের মোকলেচ সিকদার, মোস্তাফা, রওশন আলী, জেসমিন বেগম ও মকবুলের সঙ্গে।

তারা বলেন, নির্বাচন আইলে হ্যারা ভোট চায়। এ্যাহন আমাগোরে কেউ সাহায্য সহযোগিতা করে না। তারা আরও বলেন, সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু আমাগো কোনো ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।

সৈয়দ জাফর আদর্শ গ্রামের জেসমিন বেগম বলেন, ভাঙাচোরা ছোট ঘরে কোনো রকম তালিতুলি দিয়া অ্যামাগো থাকতে হয়। সরকার ঘর দিলেও জীবনধারণের কোনো ব্যবস্থা দেয় নাই। ওই আদর্শ গ্রামে ৩০টি পরিবারের মধ্যে ২২টি রয়েছে। ওই ২২ পরিবারের দু’শতাধিক লোকের বসবাস। বাসিন্দাদের মধ্যে অধিকাংশই, জেলে ও দিনমজুর।

জেলে সম্প্রদায়রা ১ মার্চ থেকে মোট ৬৫ দিন নদীতে অবরোধের কারণে মাছ ধরতে পারেনি। আর এখন ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও মিলছে না ইলিশ। অপরদিকে শ্রমিকরা করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না করায় জরাজীর্ণ অবস্থার মধ্যে বছরের পর বছর তারা এক রকম লড়াই করেই বেঁচে আছে।

পিআইও অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ১৫টি আশ্রয়ণ প্রকল্প, আদর্শ ও গুচ্ছ গ্রাম রয়েছে। এসব আশ্রয়ণে অসহায় দুস্থ ৭২২টি পরিবার বসবাস করছে।

দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন জানান, হতদরিদ্রদের মাথা গোঁজার ঠাঁই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বহু পুরনো। ওইসব ঘরগুলো সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌস জানান, উপজেলার পুরাতন আশ্রয়ণ প্রকল্পের খোঁজখবর নিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

দশমিনায় আশ্রয়ণ প্রকল্প

জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস

অসহায় ৭২২টি পরিবারের মানবেতর জীবনযাপন
 দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
১২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের। করোনাভাইরাসের কারণে কর্মজীবীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

আর্থিক অভাব ও অনটনের কারণে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ১৫টি আশ্রয়ণে ৭২২ পরিবার ব্র্যাক ঘর সংস্কার করতে পারছে না।

বাসিন্দাদের ব্র্যাক ঘরের ছাউনিতে বড় বড় ছিদ্র, বেড়া ও আরসিসি খুঁটি অনেকটা ভেঙে পড়েছে। ফলে বৃষ্টি হলেই পানিতে একাকার হওয়া ও ঘরের খুঁটি ভেঙে যাওয়ায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিন লক্ষ্মীপুর-নিজাবাদ আশ্রয়ণ প্রকল্প ও সৈয়দ জাফর আদর্শগ্রামে ঘুরে এরকম চিত্র দেখা গেছে।

নিজাবাদ-লক্ষ্মীপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা সুইপার নজির, দিনমজুর সালাম ও মস্তফাসহ ৩টি পরিবারের মোট ২২জন লোকের বসবাস। করোনাভাইরাস ও কাজের অভাবে তাদের তেমন কোনো আয়-রোজগার নেই।

তারা অভিযোগ করে বলেন, তাদের ঘরগুলো কেউ সংস্কার করে দিচ্ছে না এবং ঘরগুলো বসবাসের উপযোগী করতে ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জানিয়েও তারা কোনো সুফল পাইনি।

ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪০টি পরিবারের মধ্যে ৩৭টি পরিবার বিভিন্ন সময়ে শ্রম বিকাতে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যত্রে চলে গেছে। কথা হয় সৈয়দ জাফর আদর্শ গ্রামের মোকলেচ সিকদার, মোস্তাফা, রওশন আলী, জেসমিন বেগম ও মকবুলের সঙ্গে।

তারা বলেন, নির্বাচন আইলে হ্যারা ভোট চায়। এ্যাহন আমাগোরে কেউ সাহায্য সহযোগিতা করে না। তারা আরও বলেন, সরকার আসে, সরকার যায়, কিন্তু আমাগো কোনো ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।

সৈয়দ জাফর আদর্শ গ্রামের জেসমিন বেগম বলেন, ভাঙাচোরা ছোট ঘরে কোনো রকম তালিতুলি দিয়া অ্যামাগো থাকতে হয়। সরকার ঘর দিলেও জীবনধারণের কোনো ব্যবস্থা দেয় নাই। ওই আদর্শ গ্রামে ৩০টি পরিবারের মধ্যে ২২টি রয়েছে। ওই ২২ পরিবারের দু’শতাধিক লোকের বসবাস। বাসিন্দাদের মধ্যে অধিকাংশই, জেলে ও দিনমজুর।

জেলে সম্প্রদায়রা ১ মার্চ থেকে মোট ৬৫ দিন নদীতে অবরোধের কারণে মাছ ধরতে পারেনি। আর এখন ইলিশের ভরা মৌসুম হলেও মিলছে না ইলিশ। অপরদিকে শ্রমিকরা করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না করায় জরাজীর্ণ অবস্থার মধ্যে বছরের পর বছর তারা এক রকম লড়াই করেই বেঁচে আছে।

পিআইও অফিস সূত্রে জানায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে ১৫টি আশ্রয়ণ প্রকল্প, আদর্শ ও গুচ্ছ গ্রাম রয়েছে। এসব আশ্রয়ণে অসহায় দুস্থ ৭২২টি পরিবার বসবাস করছে।

দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল মাহামুদ লিটন জানান, হতদরিদ্রদের মাথা গোঁজার ঠাঁই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বহু পুরনো। ওইসব ঘরগুলো সংস্কার করা একান্ত প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া ফেরদৌস জানান, উপজেলার পুরাতন আশ্রয়ণ প্রকল্পের খোঁজখবর নিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।