জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত
jugantor
ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত

  গাইবান্ধা প্রতিনিধি  

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল সংকটের কারণে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার সাত ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৯ বছর আগে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও এখানে পূর্বের ৩১ শয্যার জনবলও নেই।

এ পরিস্থিতিতে ৩ জন স্টাফকে সম্প্রতি অন্যত্র ডেপুটেশনে দেয়া হয়েছে। এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। এক্সরে থাকলেও সেটি এখন অচল।

তাই চিকিৎসা নিতে সহজে কেউ এখানে আসতে চায় না। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ২০ জনের বেশি রোগী কখনই এখানে ভর্তি পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা জানান।

ফুলছড়ি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সাঘাটা ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসার সুবিধার্থে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালটিকে বর্তমান স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে।

চরাঞ্চলবেষ্টিত উপজেলার স্বল্প আয়ের মানুষেরা এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্টাফ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিবেশ না থাকার কারণ দেখিয়ে চিকিৎকরা কেউ স্থায়ীভাবে আবাসিক কোয়ার্টারে থাকেন না।

ডিউটি ভাগাভাগী করে তারা হাসপাতালে কাজ চালান বাইরে বসবাস করে। ২০১১ সালে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনও কাগজে-কলমে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে হাসপাতালটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। কিন্তু সেই জনবলও নেই এখানে।

৯ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৪ জন কর্মরত। আবাসিক মেডিকেল অফিসার, গাইনি অ্যান্ড অবস, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্টসহ ৫টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

শুধু তাই নয়, আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদটিও দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সালেহীন কাদেরী ২০০৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের দুটি ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) পদগুলো শূন্য রয়েছে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে একজন কর্মরত থাকলেও অপর দু’জনকে ডেপুটেশনে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং পরিসংখ্যান পদও শূন্য।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে। ফার্মাসিস্ট এবং স্টোর কিপারেরও ২টি পদ দীর্ঘদিন থেকে ফাঁকা রয়েছে। জুনিয়র মেকানিককে দেয়া হয়েছে ফার্মাসিস্ট এবং একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে দেয়া হয়েছে স্টোর কিপারের দায়িত্ব।

ওয়ার্ড বয়ের পদটিও ফাঁকা। হাসপাতালে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর জন্য এক এমএলএসএস’কে দিয়ে টিকিট কাউন্টারে এবং একজন হারবাল অ্যাসিসটেন্ট ও একজন এমএলএসএস’কে দিয়ে করানো হচ্ছে ওয়ার্ড বয়ের কাজ।

পরিচ্ছন্ন কর্মীর ৫টি পদের মধ্যে মাত্র একজনকে দিয়ে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটের সমাধান হচ্ছে না।

এরপরও হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাওয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি 
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ফাইল ছবি

জনবল সংকটের কারণে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার সাত ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৯ বছর আগে হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও এখানে পূর্বের ৩১ শয্যার জনবলও নেই।

এ পরিস্থিতিতে ৩ জন স্টাফকে সম্প্রতি অন্যত্র ডেপুটেশনে দেয়া হয়েছে। এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। এক্সরে থাকলেও সেটি এখন অচল।

তাই চিকিৎসা নিতে সহজে কেউ এখানে আসতে চায় না। ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ২০ জনের বেশি রোগী কখনই এখানে ভর্তি পাওয়া যায় না বলে স্থানীয়রা জানান।

ফুলছড়ি ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সাঘাটা ও সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসার সুবিধার্থে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালটিকে বর্তমান স্থানে নিয়ে আসা হয়েছে।

চরাঞ্চলবেষ্টিত উপজেলার স্বল্প আয়ের মানুষেরা এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকে। কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক এবং অন্যান্য স্টাফ সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পরিবেশ না থাকার কারণ দেখিয়ে চিকিৎকরা কেউ স্থায়ীভাবে আবাসিক কোয়ার্টারে থাকেন না।

ডিউটি ভাগাভাগী করে তারা হাসপাতালে কাজ চালান বাইরে বসবাস করে। ২০১১ সালে ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও এখনও কাগজে-কলমে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে হাসপাতালটি ধুঁকে ধুঁকে চলছে। কিন্তু সেই জনবলও নেই এখানে।

৯ জন চিকিৎসকের স্থলে মাত্র ৪ জন কর্মরত। আবাসিক মেডিকেল অফিসার, গাইনি অ্যান্ড অবস, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্টসহ ৫টি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

শুধু তাই নয়, আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদটিও দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সালেহীন কাদেরী ২০০৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে অননুমোদিতভাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের দুটি ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) পদগুলো শূন্য রয়েছে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে একজন কর্মরত থাকলেও অপর দু’জনকে ডেপুটেশনে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং পরিসংখ্যান পদও শূন্য।

অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য রয়েছে। ফার্মাসিস্ট এবং স্টোর কিপারেরও ২টি পদ দীর্ঘদিন থেকে ফাঁকা রয়েছে। জুনিয়র মেকানিককে দেয়া হয়েছে ফার্মাসিস্ট এবং একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে দেয়া হয়েছে স্টোর কিপারের দায়িত্ব।

ওয়ার্ড বয়ের পদটিও ফাঁকা। হাসপাতালে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানোর জন্য এক এমএলএসএস’কে দিয়ে টিকিট কাউন্টারে এবং একজন হারবাল অ্যাসিসটেন্ট ও একজন এমএলএসএস’কে দিয়ে করানো হচ্ছে ওয়ার্ড বয়ের কাজ।

পরিচ্ছন্ন কর্মীর ৫টি পদের মধ্যে মাত্র একজনকে দিয়ে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চালানো হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটের সমাধান হচ্ছে না।

এরপরও হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে যাওয়ার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।