ঝুঁকিপূর্র্ণ ব্রিজে পারাপার
jugantor
শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক
ঝুঁকিপূর্র্ণ ব্রিজে পারাপার

  কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর  

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকিপূর্র্ণ ব্রিজে পারাপার

শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীর ওপরে নির্মিত কোটাপাড়া ব্রিজ ও জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট ব্রিজ দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্র্ণ।

ব্রিজ দুটি এতই অপ্রশস্ত যে পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলাচল করতে পারে না বলে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন। এ ব্রিজের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে যাত্রী সাধারণ ও পথচারীরা। শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ডের গাড়িচালক সিরাজ মুন্সি, স্থানীয় সূত্র ও বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া নামক স্থানে কীর্তিনাশা নদীর ওপরে নির্মিত প্রাচীন ও সরু ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর ১১০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ ব্রিজটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর নির্মাণ করে।

এরপর শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হলে রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে (সওজ) হস্তান্তর করা হয়। এ ব্রিজটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় সওজ।

প্রাচীন এ ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা-শরীয়তপুর এবং শরীয়তপুর-ঢাকাগামী যানবাহনসহ হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। বর্তমানে ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নড়বড়ে।

ভারী যানবাহন ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করলে ব্রিজটি দু’দিকে দুলতে থাকে। মনে হয় এই বুঝি ধসে পড়ল। ব্রিজটি এতই অপ্রশস্ত যে, এক সঙ্গে দুটি গাড়ি চলতে পারে না। ব্রিজের রেলিং ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন অনেকেই।

পারাপারের সময় একদিক থেকে গাড়ি উঠে গেলে অপর প্রান্তের গাড়ি পেছনে গিয়ে সাইড দিতে গিয়ে উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলরত গাড়ি চালকদের আশঙ্কা যে কোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ দিকে একই মহাসড়কে জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট নামক স্থানে একই অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০৯ মিটার দৈর্ঘ্যরে কাজিরহাট মরা পদ্মার ওপর নির্মিত কাজিরহাট ব্রিজটিও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও সরু।

প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে হাটের দিন অর্থাৎ প্রতি বৃহস্পতিবার ও রোববার ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি পারাপার করা খুবই কষ্টকর।

সকাল ৯টার পর থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ব্রিজের ওপর দিয়ে পাশাপাশি দুটি গাড়ি পারাপার হতে পারে না। ফলে ব্রিজের দু’পাড়ে অপেক্ষা করে শত শত যানবাহন।

এছাড়া ঢাকা যাওয়ার বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। ফলে কষ্ট করেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। যে কোনো সময় এ ব্রিজটিও ভেঙে পড়ে জানমালের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জরুরিভিত্তিতে এ ব্রিজটিও পুনর্নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছে শরীয়তপুরবাসী। গাগড়িজোড়া এলাকার সামসুদ্দিন সরদার বলেন, কোটাপাড়া ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিজের রেলিং ভেঙে অনেকেই আহত হয়েছে। নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।

অন্যথায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। শরীয়তপুরের বাসচালক মো. মিলন বলেন, কোটাপাড়া ও কাজিরহাট ব্রিজ দুটো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি নিয়ে ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার হই।

জরুরিভিত্তিতে ব্রিজ দুটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। শরীয়তপুর বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, আমরা সড়ক ও জনপথে লিখিত আবেদন করেছি।

তারপরও তেমন কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এ ব্রিজ দুটি দীর্ঘদিন পূর্বে এলজিইডি নির্মাণ করেছিল। বর্তমানে ব্রিজগুলো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। পদ্মা সেতুর ফোর লেন রাস্তার প্রকল্পের সঙ্গে এ ব্রিজ দুটি নির্মাণ কাজ অনুমোদন হয়েছে। অর্থ ছাড় পাওয়া গেলে ব্রিজ দুটি নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু করব।

শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক

ঝুঁকিপূর্র্ণ ব্রিজে পারাপার

 কেএম রায়হান কবীর, শরীয়তপুর 
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ঝুঁকিপূর্র্ণ ব্রিজে পারাপার
ছবি: যুগান্তর

শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে শরীয়তপুর সদর উপজেলায় কীর্তিনাশা নদীর ওপরে নির্মিত কোটাপাড়া ব্রিজ ও জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট ব্রিজ দুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্র্ণ।

ব্রিজ দুটি এতই অপ্রশস্ত যে পাশাপাশি দুটি গাড়ি চলাচল করতে পারে না বলে শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন। এ ব্রিজের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে।

যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে যাত্রী সাধারণ ও পথচারীরা। শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ডের গাড়িচালক সিরাজ মুন্সি, স্থানীয় সূত্র ও বাস মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে শরীয়তপুর সদর উপজেলার কোটাপাড়া নামক স্থানে কীর্তিনাশা নদীর ওপরে নির্মিত প্রাচীন ও সরু ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯৯২-৯৩ অর্থ বছরে কীর্তিনাশা নদীর ওপর ১১০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ ব্রিজটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর নির্মাণ করে।

এরপর শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হলে রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে (সওজ) হস্তান্তর করা হয়। এ ব্রিজটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেয় সওজ।

প্রাচীন এ ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা-শরীয়তপুর এবং শরীয়তপুর-ঢাকাগামী যানবাহনসহ হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে। বর্তমানে ব্রিজের অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নড়বড়ে।

ভারী যানবাহন ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করলে ব্রিজটি দু’দিকে দুলতে থাকে। মনে হয় এই বুঝি ধসে পড়ল। ব্রিজটি এতই অপ্রশস্ত যে, এক সঙ্গে দুটি গাড়ি চলতে পারে না। ব্রিজের রেলিং ভেঙে পড়ে আহত হয়েছেন অনেকেই।

পারাপারের সময় একদিক থেকে গাড়ি উঠে গেলে অপর প্রান্তের গাড়ি পেছনে গিয়ে সাইড দিতে গিয়ে উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচলরত গাড়ি চালকদের আশঙ্কা যে কোনো সময় ব্রিজটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ দিকে একই মহাসড়কে জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট নামক স্থানে একই অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০৯ মিটার দৈর্ঘ্যরে কাজিরহাট মরা পদ্মার ওপর নির্মিত কাজিরহাট ব্রিজটিও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ও সরু।

প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করছে। বিশেষ করে হাটের দিন অর্থাৎ প্রতি বৃহস্পতিবার ও রোববার ব্রিজের ওপর দিয়ে গাড়ি পারাপার করা খুবই কষ্টকর।

সকাল ৯টার পর থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। ব্রিজের ওপর দিয়ে পাশাপাশি দুটি গাড়ি পারাপার হতে পারে না। ফলে ব্রিজের দু’পাড়ে অপেক্ষা করে শত শত যানবাহন।

এছাড়া ঢাকা যাওয়ার বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। ফলে কষ্ট করেই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে যানবাহন। যে কোনো সময় এ ব্রিজটিও ভেঙে পড়ে জানমালের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জরুরিভিত্তিতে এ ব্রিজটিও পুনর্নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছে শরীয়তপুরবাসী। গাগড়িজোড়া এলাকার সামসুদ্দিন সরদার বলেন, কোটাপাড়া ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্রিজের রেলিং ভেঙে অনেকেই আহত হয়েছে। নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা জরুরি।

অন্যথায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। শরীয়তপুরের বাসচালক মো. মিলন বলেন, কোটাপাড়া ও কাজিরহাট ব্রিজ দুটো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি নিয়ে ব্রিজের ওপর দিয়ে পারাপার হই।

জরুরিভিত্তিতে ব্রিজ দুটি পুনর্নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। শরীয়তপুর বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক চৌকিদার বলেন, আমরা সড়ক ও জনপথে লিখিত আবেদন করেছি।

তারপরও তেমন কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এ ব্রিজ দুটি দীর্ঘদিন পূর্বে এলজিইডি নির্মাণ করেছিল। বর্তমানে ব্রিজগুলো কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। পদ্মা সেতুর ফোর লেন রাস্তার প্রকল্পের সঙ্গে এ ব্রিজ দুটি নির্মাণ কাজ অনুমোদন হয়েছে। অর্থ ছাড় পাওয়া গেলে ব্রিজ দুটি নতুন করে নির্মাণের কাজ শুরু করব।