ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ
jugantor
চাটমোহরে এক নামে ২ কার্ড
ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভাতা

চাটমোহরে প্রতিবন্ধী এক শিশুর নামে দ্বিতীয়বারের মতো ভাতার কার্ড ইস্যু করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে কে এ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের তীর উঠেছে পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবির দিকে।

ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি যুগান্তরকে বলেন, ‘ভাতার বই আমি নেইনি। আমি জানিও না কার কাছে বইটি আছে।’

সুপারিশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম বইয়ের বিষয়ে আমার জানা ছিল না।’ এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা পাঠিয়েছিলেন। যে কারণে এক নামে দু’বার ভাতা বই ইস্যু হয়ে গেছে।’

যাচাই না করে কীভাবে দিলেন- এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়ালি এবং ইউনিয়ন সমাজকর্মীর গাফিলতির কারণে এমনটা হয়েছে।’ তবে বিষয়টির তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মুক্তা পারভীন (৮) নামে ওই শিশুকে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ২০১৭ সালে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়া হয়। বই নং-১১৪। হিসাব নং-০১০০১৩৫২৫৮৩৯৮। এরপর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবির সুপারিশে ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা সমাজসেবা অফিসে একটি তালিকা পাঠান।

সেখানে মুক্তা পারভীনের নাম থাকায় পুনরায় প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড ইস্যু হয়। যার নং-১৬৭। হিসাব নং-০১০০২১৫২৬৭৭৯৭। এরপর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি ইউনিয়ন সমাজকর্মী আবদুস সামাদের কাছ থেকে নিজে স্বাক্ষর করে কার্ডটি নিয়ে যান।

তবে বিষয়টি জানে না মুক্তা পারভীনের পরিবার। অতি সম্প্রতি জনতা ব্যাংক চাটমোহর শাখা থেকে সেই বই দেখিয়ে ৯ হাজার টাকা (১ বছরের ভাতার টাকা) তোলা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, ইউনিয়ন সমাজকর্মী এবং ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।

দ্বিতীয় বইটি কার কাছে আছে তারও কোনো হদিস নেই। আর দ্বিতীয় বই থেকে টাকা কে উত্তোলন করেছে সে ব্যাপারেও কেউ মুখ খুলছেন না। বইটির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী আবদুস সামাদ প্রথমে তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

পরে তিনি বলেন, ‘ভাতা বই ইস্যু হওয়ার পর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি নিজে স্বাক্ষর করে আমার কাছ থেকে বইটি নিয়ে গেছেন। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’

ইউএনও সৈকত ইসলাম বলেন, কীভাবে ঘটনাটি ঘটল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত বিষয়টি জেনে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চাটমোহরে এক নামে ২ কার্ড

ভাতার টাকা তুলে আত্মসাৎ

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ভাতা
মায়ের কোলে প্রতিবন্ধী শিশু মুক্তা পারভীন

চাটমোহরে প্রতিবন্ধী এক শিশুর নামে দ্বিতীয়বারের মতো ভাতার কার্ড ইস্যু করে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

তবে কে এ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের তীর উঠেছে পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবির দিকে।

ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি যুগান্তরকে বলেন, ‘ভাতার বই আমি নেইনি। আমি জানিও না কার কাছে বইটি আছে।’

সুপারিশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথম বইয়ের বিষয়ে আমার জানা ছিল না।’ এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান তালিকা পাঠিয়েছিলেন। যে কারণে এক নামে দু’বার ভাতা বই ইস্যু হয়ে গেছে।’

যাচাই না করে কীভাবে দিলেন- এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ম্যানুয়ালি এবং ইউনিয়ন সমাজকর্মীর গাফিলতির কারণে এমনটা হয়েছে।’ তবে বিষয়টির তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মুক্তা পারভীন (৮) নামে ওই শিশুকে উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ২০১৭ সালে একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়া হয়। বই নং-১১৪। হিসাব নং-০১০০১৩৫২৫৮৩৯৮। এরপর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবির সুপারিশে ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা সমাজসেবা অফিসে একটি তালিকা পাঠান।

সেখানে মুক্তা পারভীনের নাম থাকায় পুনরায় প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড ইস্যু হয়। যার নং-১৬৭। হিসাব নং-০১০০২১৫২৬৭৭৯৭। এরপর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি ইউনিয়ন সমাজকর্মী আবদুস সামাদের কাছ থেকে নিজে স্বাক্ষর করে কার্ডটি নিয়ে যান।

তবে বিষয়টি জানে না মুক্তা পারভীনের পরিবার। অতি সম্প্রতি জনতা ব্যাংক চাটমোহর শাখা থেকে সেই বই দেখিয়ে ৯ হাজার টাকা (১ বছরের ভাতার টাকা) তোলা হয়। এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা অফিসার, ইউনিয়ন সমাজকর্মী এবং ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য একে অপরকে দোষারোপ করেছেন।

দ্বিতীয় বইটি কার কাছে আছে তারও কোনো হদিস নেই। আর দ্বিতীয় বই থেকে টাকা কে উত্তোলন করেছে সে ব্যাপারেও কেউ মুখ খুলছেন না। বইটির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন সমাজকর্মী আবদুস সামাদ প্রথমে তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

পরে তিনি বলেন, ‘ভাতা বই ইস্যু হওয়ার পর ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবি নিজে স্বাক্ষর করে আমার কাছ থেকে বইটি নিয়ে গেছেন। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’

ইউএনও সৈকত ইসলাম বলেন, কীভাবে ঘটনাটি ঘটল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত বিষয়টি জেনে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।