কেন্দুয়ায় অপচিকিৎসায় পা হারাতে বসেছে কিশোর
jugantor
হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা
কেন্দুয়ায় অপচিকিৎসায় পা হারাতে বসেছে কিশোর

  কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দুয়ায় হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসার কারণে পা হারাতে বসেছে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সাকিব নামে এক কিশোর। এ ঘটনায় ওই হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (২) একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোর সাকিবের বাবা শাহালম। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কেন্দুয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে হাতুড়ে ডাক্তার খায়রুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি সাকিবের পায়ের ড্রেসিং করে দিয়েছিলাম। কাটাছেঁড়া বা সেলাই করিনি। জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বিকালে কেন্দুয়ার রঘুনাথপুর গ্রামের শাহালমের ছেলে কিশোর সাকিব ফুটবল খেলতে গেলে তার পায়ে বোতল ভাঙার কাচের টুকরো ঢুকে যায়। তাকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে হাতুড়ে ডাক্তার রঘুনাথপুর গ্রামের খায়রুল বেখৈরহাটি বাজারে তার ফার্মেসিতে সাকিবের চিকিৎসা দেন। এ সময় তিনি সাকিবের পায়ে কাটাছেঁড়া করে ভাঙা কাচের টুকরো ভেতরে রেখেই ৬টি সেলাই করে ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওষুধ সেবনের কয়েক মাস পর সাকিবের পায়ে আবারও ব্যথা বাড়তে থাকে। পরিবারের লোকজন সাকিবকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এক্সরে করার পর জানতে পারেন সাকিবের পায়ের ভেতরে কাচের টুকরো রয়েছে এবং পায়ের ভেতরে ইনফেকশন হয়ে গেছে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি তার পায়ে অপারেশন করে কাচের টুকরো বের করা হয়। কাচের টুকরোটি দীর্ঘদিন তার পায়ের ভেতর থাকায় পায়ের ভেতরে পচন দেখা দেয় এবং পা-টি অকেজো হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে চিকিৎসক সাকিবের পরিবারকে জানান। এদিকে ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ওই পা নিয়ে হাঁটতে পারছে না। শাহালম বলেন, আমি গরিব মানুষ। বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাই। হাতুড়ে ডাক্তার খায়রুলের ভুল চিকিৎসার কারণে আজ আমার ছেলেটি পঙ্গু অবস্থায় বাড়িতে শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছে। ছেলের অপারেশনসহ তার চিকিৎসা ব্যয় প্রায় এক লাখ টাকার মতো লেগেছে।

হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা

কেন্দুয়ায় অপচিকিৎসায় পা হারাতে বসেছে কিশোর

 কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কেন্দুয়ায় হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসার কারণে পা হারাতে বসেছে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান সাকিব নামে এক কিশোর। এ ঘটনায় ওই হাতুড়ে ডাক্তারের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (২) একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোর সাকিবের বাবা শাহালম। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কেন্দুয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে হাতুড়ে ডাক্তার খায়রুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি সাকিবের পায়ের ড্রেসিং করে দিয়েছিলাম। কাটাছেঁড়া বা সেলাই করিনি। জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি বিকালে কেন্দুয়ার রঘুনাথপুর গ্রামের শাহালমের ছেলে কিশোর সাকিব ফুটবল খেলতে গেলে তার পায়ে বোতল ভাঙার কাচের টুকরো ঢুকে যায়। তাকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে হাতুড়ে ডাক্তার রঘুনাথপুর গ্রামের খায়রুল বেখৈরহাটি বাজারে তার ফার্মেসিতে সাকিবের চিকিৎসা দেন। এ সময় তিনি সাকিবের পায়ে কাটাছেঁড়া করে ভাঙা কাচের টুকরো ভেতরে রেখেই ৬টি সেলাই করে ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওষুধ সেবনের কয়েক মাস পর সাকিবের পায়ে আবারও ব্যথা বাড়তে থাকে। পরিবারের লোকজন সাকিবকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। এক্সরে করার পর জানতে পারেন সাকিবের পায়ের ভেতরে কাচের টুকরো রয়েছে এবং পায়ের ভেতরে ইনফেকশন হয়ে গেছে। চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি তার পায়ে অপারেশন করে কাচের টুকরো বের করা হয়। কাচের টুকরোটি দীর্ঘদিন তার পায়ের ভেতর থাকায় পায়ের ভেতরে পচন দেখা দেয় এবং পা-টি অকেজো হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে চিকিৎসক সাকিবের পরিবারকে জানান। এদিকে ৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও ওই পা নিয়ে হাঁটতে পারছে না। শাহালম বলেন, আমি গরিব মানুষ। বাদাম বিক্রি করে সংসার চালাই। হাতুড়ে ডাক্তার খায়রুলের ভুল চিকিৎসার কারণে আজ আমার ছেলেটি পঙ্গু অবস্থায় বাড়িতে শুয়ে-বসে দিন কাটাচ্ছে। ছেলের অপারেশনসহ তার চিকিৎসা ব্যয় প্রায় এক লাখ টাকার মতো লেগেছে।