বন ধ্বংস করে পান জুম
jugantor
বন ধ্বংস করে পান জুম
কমলগঞ্জের আদমপুর বিটে দিন দিন বাড়ছে পান বাগান

  কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কমলগঞ্জের আদমপুর বিটে দিন দিন বাড়ছে পান বাগান

সিলেট বন বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কমলগঞ্জের রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন আদমপুর বন বিটের সংরক্ষিত বন ধ্বংস করে পান জুম করা হচ্ছে।

বন বিভাগকে ম্যানেজ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বেই বনে পান জুমের নামে বন দখল চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে বন বিভাগ অবৈধ পান জুমের ১৫ হাজার পানের চারা তুলে নিলেও আরও পান জুম রয়ে গেছে।

অপরদিকে অদৃশ্য কারণে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস করার অপরাধে এখনও বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

আদমপুর বন বিটের সংরক্ষিত বনের ১৩ হাজার ৮০ একর বনভূমির বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে কালিঞ্জি খাসিয়াপুঞ্জি। পুঞ্জির সবাই বন বিভাগের বন ভিলেজার। ভিলেজার খাসিয়াদের রয়েছে পান বাগান বা পান জুম।

দিন দিন বাড়ছে পান বাগানের সীমানা। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী বন ভিলেজার মাথাপিছু আড়াই একর জমি ভোগদখলের কথা থাকলেও প্রত্যেক সদস্য তার দুই থেকে তিনগুণ বেশি দখলে নিয়েছেন।

তাদের সেই পান বাগান ঘেঁষেই সম্প্রতি অবৈধভাবে করা হয়েছে পান বাগান। বনের আজবউল্যার টিলা, দুম্বর টিলা, হালাই টিলা, তৈবর ও ছোট কেয়ার এলাকায় রোপণ করা হয়েছে পানের চারা।

জানা যায়, কোথাও বনের প্রাকৃতিক গাছ-বাঁশ কেটে বন ধ্বংস করে আবার কোথাও গাছের গোড়ায় লাগানো হয়েছে পানের চারা। স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগকে ম্যানেজ করেই পানের চারা রোপণের নামে বনের টিলায় টিলায় বন দখলের মহোৎসব চলছে।

কয়েক হাজার একর জুড়ে রোপণ করা হয়েছে পানের চারা। স্থানীয়রা আরও জানান, পানের চারা রোপণকালে সামাজিক বনায়নের নামে বনের ওই এলাকায় বাগান করার জন্য ১০ থেকে ৩০ সদস্যের সুফলভোগী কমিটি করা হয়েছে।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ইশারা ছাড়া কেউ বনের সামাজিক বনায়ন বা সুফলভোগী বনায়নের কমিটির সদস্য হতে পারেন না। কমিটি গঠনের পর বাগান দেয়ার নামে প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেয়া হয়।

জানা গেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যানের নামে উপকারভোগী সদস্যদের কাছ থেকে সে টাকা তোলেন বন বিভাগের সাবেক হেডম্যান আবদুল কাইয়ুম। সরেজমিন টাকা নেয়ার সত্যতা পাওয়া গেলেও উপকারভোগী কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

তারা আরও জানান, এ নিয়ে যে কথা বলবে তার ওপরই বন বিভাগের গায়েবি মামলা হবে, না হয় চেয়ারম্যানের অনুসারীদের হামলার শিকার হতে হবে।

আদমপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন মনগড়া আইন সৃষ্টি করে বনের জায়গা দেখিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে স্থানীয়দের দিয়ে পান জুম করাচ্ছেন।

তিনি বনকে টুকরো টুকরো করে সামাজিক বনায়নের নামে পান জুম করতে গিয়ে বনের গাছ-বাঁশ কেটে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস করছেন। এরা শুধু বনদস্যু নয়, এরা বনকে পুঁজি করে স্থানীয় নিরীহ কৃষকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সাব্বির বলেন, বন বিভাগের সাবেক হেডম্যান আবদুল কাইয়ুমের মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন করে দেয়ার কথা বলে মাথাপিছু ৩০-৪০ হাজার টাকা করে নেয়ার জনশ্রুতি রয়েছে।

টাকা তোলার অভিযোগ বিষয়ে বন বিভাগের সাবেক হেডম্যান কাইয়ুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘ওরা তো বন ধ্বংস করছে না।

বন নির্ভরশীল হয়ে কেউ যদি জীবিকা নির্বাহ করার জন্য পান জুম বা বাগান করে থাকেন তাহলে তো দোষের কিছু না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো বনের কেউ না, তাহলে আমাকে কেন টাকা দেবে।

হেডম্যান কার জন্য টাকা তুলেছে সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’ আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা শ্যামল রায় বলেন, ‘আমার বিটে এখন কোনো সামাজিক বনায়নের কাজ চলছে না।

গহীন বনের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পানের চারা লাগানোর সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দু’দফায় বনের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫ হাজার রোপণকৃত পানের চারা উত্তোলন করে আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বন আইনে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জবরদখল চেষ্টার অভিযোগে মৌলভীবাজার আদালতে চারটি মামলা করা হয়েছে।’

বন ধ্বংস করে পান জুম

কমলগঞ্জের আদমপুর বিটে দিন দিন বাড়ছে পান বাগান
 কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
কমলগঞ্জের আদমপুর বিটে দিন দিন বাড়ছে পান বাগান
ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বন বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কমলগঞ্জের রাজকান্দি রেঞ্জের আওতাধীন আদমপুর বন বিটের সংরক্ষিত বন ধ্বংস করে পান জুম করা হচ্ছে।

বন বিভাগকে ম্যানেজ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বেই বনে পান জুমের নামে বন দখল চলছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে বন বিভাগ অবৈধ পান জুমের ১৫ হাজার পানের চারা তুলে নিলেও আরও পান জুম রয়ে গেছে।

অপরদিকে অদৃশ্য কারণে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস করার অপরাধে এখনও বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ফলে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে।

আদমপুর বন বিটের সংরক্ষিত বনের ১৩ হাজার ৮০ একর বনভূমির বিশাল এলাকা জুড়ে রয়েছে কালিঞ্জি খাসিয়াপুঞ্জি। পুঞ্জির সবাই বন বিভাগের বন ভিলেজার। ভিলেজার খাসিয়াদের রয়েছে পান বাগান বা পান জুম।

দিন দিন বাড়ছে পান বাগানের সীমানা। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী বন ভিলেজার মাথাপিছু আড়াই একর জমি ভোগদখলের কথা থাকলেও প্রত্যেক সদস্য তার দুই থেকে তিনগুণ বেশি দখলে নিয়েছেন।

তাদের সেই পান বাগান ঘেঁষেই সম্প্রতি অবৈধভাবে করা হয়েছে পান বাগান। বনের আজবউল্যার টিলা, দুম্বর টিলা, হালাই টিলা, তৈবর ও ছোট কেয়ার এলাকায় রোপণ করা হয়েছে পানের চারা।

জানা যায়, কোথাও বনের প্রাকৃতিক গাছ-বাঁশ কেটে বন ধ্বংস করে আবার কোথাও গাছের গোড়ায় লাগানো হয়েছে পানের চারা। স্থানীয়রা জানান, বন বিভাগকে ম্যানেজ করেই পানের চারা রোপণের নামে বনের টিলায় টিলায় বন দখলের মহোৎসব চলছে।

কয়েক হাজার একর জুড়ে রোপণ করা হয়েছে পানের চারা। স্থানীয়রা আরও জানান, পানের চারা রোপণকালে সামাজিক বনায়নের নামে বনের ওই এলাকায় বাগান করার জন্য ১০ থেকে ৩০ সদস্যের সুফলভোগী কমিটি করা হয়েছে।

এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যানের ইশারা ছাড়া কেউ বনের সামাজিক বনায়ন বা সুফলভোগী বনায়নের কমিটির সদস্য হতে পারেন না। কমিটি গঠনের পর বাগান দেয়ার নামে প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা নেয়া হয়।

জানা গেছে, স্থানীয় চেয়ারম্যানের নামে উপকারভোগী সদস্যদের কাছ থেকে সে টাকা তোলেন বন বিভাগের সাবেক হেডম্যান আবদুল কাইয়ুম। সরেজমিন টাকা নেয়ার সত্যতা পাওয়া গেলেও উপকারভোগী কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে রাজি হননি।

তারা আরও জানান, এ নিয়ে যে কথা বলবে তার ওপরই বন বিভাগের গায়েবি মামলা হবে, না হয় চেয়ারম্যানের অনুসারীদের হামলার শিকার হতে হবে।

আদমপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান সাব্বির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন মনগড়া আইন সৃষ্টি করে বনের জায়গা দেখিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে স্থানীয়দের দিয়ে পান জুম করাচ্ছেন।

তিনি বনকে টুকরো টুকরো করে সামাজিক বনায়নের নামে পান জুম করতে গিয়ে বনের গাছ-বাঁশ কেটে কোটি কোটি টাকার বনজ সম্পদ ধ্বংস করছেন। এরা শুধু বনদস্যু নয়, এরা বনকে পুঁজি করে স্থানীয় নিরীহ কৃষকদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে সাব্বির বলেন, বন বিভাগের সাবেক হেডম্যান আবদুল কাইয়ুমের মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন করে দেয়ার কথা বলে মাথাপিছু ৩০-৪০ হাজার টাকা করে নেয়ার জনশ্রুতি রয়েছে।

টাকা তোলার অভিযোগ বিষয়ে বন বিভাগের সাবেক হেডম্যান কাইয়ুমের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। আদমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘ওরা তো বন ধ্বংস করছে না।

বন নির্ভরশীল হয়ে কেউ যদি জীবিকা নির্বাহ করার জন্য পান জুম বা বাগান করে থাকেন তাহলে তো দোষের কিছু না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো বনের কেউ না, তাহলে আমাকে কেন টাকা দেবে।

হেডম্যান কার জন্য টাকা তুলেছে সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।’ আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা শ্যামল রায় বলেন, ‘আমার বিটে এখন কোনো সামাজিক বনায়নের কাজ চলছে না।

গহীন বনের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পানের চারা লাগানোর সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দু’দফায় বনের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ১৫ হাজার রোপণকৃত পানের চারা উত্তোলন করে আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বন আইনে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জবরদখল চেষ্টার অভিযোগে মৌলভীবাজার আদালতে চারটি মামলা করা হয়েছে।’